kalerkantho


বিজ্ঞান

কী নিয়ে ব্যস্ত এলএইচসি?

৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



কী নিয়ে ব্যস্ত এলএইচসি?

২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞানের সংবাদে দাপিয়ে বেড়িয়েছে একটি নাম—লার্জ হ্যাড্রন কলাইডর। হিগস বোসন ওরফে ‘ঈশ্বর কণা’র সন্ধান দেওয়া অতিকায় গবেষণাগারটি আছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার ইউরোপীয় পরমাণু গবেষণাকেন্দ্র সার্নে। এখনো বছরে ১০০ কোটি ডলার খরচ হচ্ছে এর পেছনে। কী হচ্ছে সেখানে? জানাচ্ছেন কাজী ফারহান পূর্ব

 

হিগস বোসন আবিষ্কার

কোনো বস্তুর ভরের জন্য কে দায়ী? মানে একটা বস্তু ঠিক কিসের কারণে বস্তু হয়? ১৯৬০ সালের দিকে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পিটার হিগস একটি নির্দিষ্ট কণা এবং একটি শক্তিবলয় সম্পর্কে ধারণা দেন। ওটাই হিগস ফিল্ড। তাঁর মতে, হিগস ফিল্ডের সঙ্গে কোনো একটি কণার যোগসাজশেই বস্তু ‘বস্তু’ হয়ে ওঠে। হিগসের এ ধারণা প্রমাণিত হয় ২০১২ সালের ৪ জুলাই লার্জ হ্যাড্রন কলাইডরের পরীক্ষায়। সেখানকার অ্যাটলাস এবং সিএমএস নামের দুটি যন্ত্রের পরীক্ষায় ১২৬ গিগা ইলেকট্রন ভোল্ট শক্তিতে প্রোটনের সংঘর্ষ ঘটিয়ে ওই নতুন কণার দেখা পাওয়া যায়। ১৩২৫ কোটি ডলার ব্যয়ে বানানো ওই যন্ত্রের বড় সফলতা এটাই। এর জন্য পিটার হিগস এবং ফ্রানসিস ইংলার্ট নামের আরেক বিজ্ঞানীকে যৌথভাবে ২০১৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। লার্জ হ্যাড্রন কলাইডর এখনো হিগস বোসন নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। অ্যাটলাস ডট সার্ন ওয়েবসাইট থেকে এ বছরের মার্চেই হিগস বোসনের ক্ষয়সম্পর্কিত নতুন একটি পরীক্ষার ফলাফল জানা যায়। সেখানে বলা হয়, হিগস বোসন ক্ষয় হয়ে দুটি ডাব্লিউ বোসন কণা তৈরি হয়।

 

দুই বছরের বিরতি

হিগস বোসন আবিষ্কারের পর ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে এলএইচসি বন্ধ করে শুরু হয় উন্নতকরণের কাজ। দুই বছরে এর বিম এনার্জি ১৩ টেরা ইলেকট্রন ভোল্টে নিয়ে আসা হয়, যা আগের প্রায় দ্বিগুণ।

 

ডার্ক ম্যাটারের খোঁজে

ডার্ক ম্যাটার একটি অনুকল্পিত, আপাত-অদৃশ্য ও রহস্যঘেরা পদার্থ। এর এখনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা মেলেনি। অন্য পদার্থের সঙ্গে মহাকর্ষ বলের ক্রিয়া দিয়েই এর অস্তিত্ব বোঝা যায়। নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, বস্তুগত ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের মোট পদার্থের ২৭ শতাংশ, ডার্ক এনার্জি আছে ৬৮ শতাংশ। আর যে পদার্থ আমরা জানি বা দেখতে পাই, তা মাত্র ৫ শতাংশ। ধারণা করা হয়, ডার্ক ম্যাটারে ‘সুপার সিমেট্রিক’ তথা দারুণ ভারসাম্যযুক্ত কণা আছে। আর এখানেই আমাদের লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারের সাহায্য নিতে হয়। ডার্ক ম্যাটার কণা লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উবে গেলেও শক্তি ও ভরবেগের তারতম্য দেখে বিজ্ঞানীরা ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব ঠিকই খুঁজে পাবেন বলে আশা করছেন। এ নিয়ে প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো পরীক্ষা চলছে। এটলাস ডট সার্নের সাম্প্রতিক তথ্য মতে, বিজ্ঞানীরা এলএইচসিতে ডার্ক ম্যাটার সংক্রান্ত উপাত্ত সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় বিস্তর পরিবর্তন এনেছেন।

 

আরো লার্জ হবে লার্জ হ্যাড্রন

নিউসায়েন্টিস্ট ডটকম এবং আইএফএলসায়েন্স ডটকম সাইট থেকে জানা গেল, ২০১৮ সালের পর দুই বছরের জন্য এলএইচসি আবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে কলাইডারটিকে আরো উন্নত করা হবে। এর একটি অংশ এলএইচসিবি। যার মুখপাত্র ড. সিলভিয়া গ্যামবেটা বলেন, ‘এলএইচসিবি অসাধারণ কাজ করছে। আমরা যদি আরো বড় বড় আবিষ্কার করতে চাই, তবে এর আরো উন্নয়ন দরকার।’ গত বছরই বিশ্বের প্রায় ৫০০ বিজ্ঞানী জার্মানির বার্লিনে বসে এলএইচসি ২.০ বা ফিউচার সার্কুলার কলাইডার (এফসিসি) কেমন হবে, তার নকশা তৈরি করেছেন। এখন মাটির নিচে থাকা কলাইডারটির পরিধি ২৭ কিলোমিটার। পরবর্তী সংস্করণটি হবে ৮০-১০০ কিলোমিটার। মেশিনটি ১০০ টেরা ইলেকট্রন ভোল্টে পার্টিকল বিমের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটাবে, যা এলএইচসির সাত গুণ বেশি। এর মাধ্যমে হিগস বোসনের চেয়েও আরো সূক্ষ্ম কণা তৈরি করা যেতে পারে বলে বিশ্বাস বিজ্ঞানীদের। উন্মোচিত হতে পারে ডার্ক ম্যাটার রহস্যও।



মন্তব্য