kalerkantho


রহস্যজট

শিকাগোর হীরা চোর

সজল সরকার    

৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



শিকাগোর হীরা চোর

অনেক বছর আগের কথা। প্রযুক্তি তখনো এতটা উন্নত হয়নি। আমেরিকার শিকাগো শহরের একটা হীরার দোকানে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটতে থাকল। সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় চোর ধরা যাচ্ছিল না। চোর ব্যাটাও চালাক। দিনেদুপুরে হীরার দোকানে ঢুকে কেমন করে যে চুরি করে, কেউ টেরই পায় না। সে সময় আমেরিকায় রবার্ট ডগলাস নামের এক বিখ্যাত গোয়েন্দা ছিলেন। শিকাগো পুলিশ অবশেষে ডগলাসকে ভাড়া করলেন রহস্য সমাধানে। গোয়েন্দা ডগলাস পুলিশের সহায়তায় সব হীরা দোকানের মালিককে বলে দিলেন, চুরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন দোকানের দরজা বন্ধ করে তাকে খবর দেওয়া হয়।

এমনই এক শুক্রবারে চুরি হলো ডায়মন্ড প্যাশন নামের এক দোকানে। মাত্র তিনজন ক্রেতা ছিল ওই সময়। হীরার নাকের নথ দেখানোর সময় বিক্রেতা লক্ষ করে, বক্সে একটা নথ নেই। ছোট জিনিস বলে চোখে চোখে রাখাও ছিল মুশকিল। জলদি পুলিশে খবর দেয় দোকান মালিক। পাঁচ মিনিটের মধ্যে গোয়েন্দা ডগলাসকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ চলে আসে দোকানে। ডগলাস এসেই ক্রেতাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বললেন, ‘আমি আপনাদের চেক করতে চাই।’ ক্রেতাদের মধ্যে প্র্রথমেই এগিয়ে এলো রিকি নামের এক তরুণ। চুইংগাম চিবোতে চিবোতে বলল, ‘করুন চেক।’ পুলিশ তার জামাকাপড় তল্লাশি করল। বাদ দিল না জুতাও। কিন্তু কিছুই পেল না।

দ্বিতীয় ক্রেতার কাছে যেতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন। মাঝবয়সী এ নারীর নাম এলিটি। গলা খেঁকিয়ে বললেন, আমাকে চেক করতে হলে নারী পুলিশ দিয়ে চেক করান। ‘তা-ই হবে, ম্যাডাম।’ নারী নিরপত্তাকর্মীরা এসে চেক করার সময় ঘটল বিপত্তি। এলিটি কোনোভাবেই তার জুতা খুলতে চাচ্ছিলেন না। একপ্রকার জবরদস্তিই করতে হলো। কিন্তু মিলল না কিছুই। বিরক্ত হয়ে ওই নারী তড়িঘড়ি বের হতে চাইলেন। তবে ডগলাস আরেকটু  বসতে অনুরোধ করলেন।  

তৃতীয় ক্রেতার পালা। লাঠি হাতে মার্টিন নামের বয়স্ক লোকটি নাতনির জন্য হীরার নথ কিনতে এসেছিলেন। তাঁর সব পকেট ও জুতা চেক করেও কিছু পাওয়া গেল না। গোয়েন্দা ডগলাসের চোখ গেল বুড়োর লাঠির দিকে। কিন্তু মার্টিন লাঠি ছাড়তে নারাজ। ডগলাসের অনুরোধে লাঠি দিলেও রাগে থরথর করে কাঁপছিল। পুলিশ লাঠির আগার প্যাঁচ খুলে দেখলেন, পুরোটাই ফাঁকা। নথটথ কিছু নেই। মার্টিন বারবার লাঠি দিয়ে মেঝেতে বাড়ি দিতে দিতে বলতে লাগলেন, ছি, ছি! এত অপমান!  

গোয়েন্দা ডগলাস চিন্তায় পড়ে গেলেন। সবার দিকে আরেকবার তাকিয়ে মাথা চুলকালেন। হঠাৎ একজনের দিকে তাকিয়ে বললেন, দিন, নথটা দিন।

এবার বলো, গোয়েন্দা ডগলাস কিভাবে চোর ধরলেন।

 

গত সংখ্যার উত্তর

ফিতাওয়ালা ক্যাসেট রিওয়াইন্ড না করা হলে রেকর্ড করা কথা শোনার কথা নয়। কিন্তু দাদু প্লে বাটন চাপতেই রেকর্ড করা কথা শোনা গেছে। অর্থাৎ মির্জার কথা রেকর্ড হওয়ার পর কেউ একজন ক্যাসেটটা রিওয়াইন্ড করে রেখেছিল। যেন প্লে বাটন চাপতেই মির্জার সুইসাইড নোট শুনতে পায়।

 



মন্তব্য