kalerkantho


অবাক পৃথিবী

যন্ত্র দেবে অটোগ্রাফ!



যন্ত্র দেবে অটোগ্রাফ!

বড় তারকাদের বড় বিপদ। অটোগ্রাফ দিতে দিতে হাত ব্যথা হয়ে যায়। আবার অফিসের বড় কর্তারও একই দশা। একগাদা স্বাক্ষর করতে হয় উঠতে বসতে। সম্ভবত তাদের কথা ভেবেই স্বাক্ষর করার পুরোদস্তুর যন্ত্র বানিয়ে ফেলল সুইস ঘড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান জ্যাকুয়েট ড্রোজ। পুরনো দিনের ক্যাসেট প্লেয়ারের মতো দেখতে যন্ত্রটা বৈদ্যুতিক নয়। এটা কাজ করে সাধারণ হাতঘড়ির কারিগরিবিদ্যা খাটিয়েই। যন্ত্রের এক মাথায় একটা হোল্ডার আছে। তাতে কলম গুঁজে যন্ত্রের কাঁটা ঘুরিয়ে দম দিলেই হবে। শুরু হয়ে যাবে স্বাক্ষর লেখা (বা আঁকা)।

অবশ্য শোনা গেল, জ্যাকুয়েট কম্পানিটি ঠিক বিক্রির উদ্দেশ্যে যন্ত্রটা বানায়নি। বানিয়েছে তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য। ঘড়ির ভেতর যে কত কারিগরি থাকে, সেটি বোঝাতেই জটিল এ সিগনেচার মেশিন তৈরি করেছে ওরা। তাই বলে দাম কিন্তু কম নয়। এমন একটি স্বাক্ষরযন্ত্র পেতে খরচ করতে হবে প্রায় দুই কোটি ৯০ লাখ টাকা! এত দামি হওয়ার কারণ আছে বৈকি। একেকজনের স্বাক্ষর একেক রকম। তাই প্রত্যেকের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আলাদা করে যন্ত্রটা বানাবে। এর জন্য ক্রেতাকে টাকার পাশাপাশি নিজের পূর্ণাঙ্গ স্বাক্ষরও কম্পানিতে জমা দিতে হবে। আর একটা যন্ত্র একটাই স্বাক্ষর করতে পারবে।

জানা গেল, হাতের লেখা ও স্বাক্ষর অনুকরণের এ যন্ত্রের ভেতর আছে ৫৮৫টি ভিন্ন যন্ত্রাংশ। ১৭০০ সালে এ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা পিয়েরে জ্যাকুয়েট ড্রোজ ও তাঁর ছেলে হেনরি লুইস তৈরি করেছিলেন একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র। ওটাও একই প্রযুক্তিতে নাম লিখতে পারত। ওটার অনুকরণেই গত মাসে পকেটে বহনযোগ্য যন্ত্রটা বানানো হয়। 

এখন প্রশ্ন হলো, কারো সাইন-যন্ত্রটি যদি চুরি হয়ে যায়, তাহলে তো সহজেই স্বাক্ষর জাল করে ফেলবে চোর। এ নিয়েও ভেবেছে ঘড়ি কম্পানিটি। চার ডিজিটের পাসওয়ার্ড বসানোর ব্যবস্থাও রেখেছে এতে।

যন্ত্রখানার কাজের নমুনার ভিডিও দেখতে পাবে এ লিংকে : https://youtu.be/6F_otq4jkCc



মন্তব্য