kalerkantho


কী লিখলে?

৮ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



কী লিখলে?

অর্ধেক ক্যান্ডি

 

তখন ক্লাস ফাইভে। ক্লাসের আতিক আর আহসানের খুবই ভালো বন্ধুত্ব ছিল। দুষ্টুও ছিল অনেক। একবার স্কুল শেষে একজনকে (নামটা নাই বা বললাম) তারা দুষ্টুমি করতে গিয়ে একটু জোরেই আঘাত করে বসে। বেচারা কেঁদেকেটে একাকার। এখন যদি ছেলেটি বিচার দিয়ে বসে! আহসানের পকেটে ছিল এক টাকা। একটা ক্যান্ডি কিনে ভাবল ছেলেটাকে দেবে। কিন্তু ক্যান্ডি বলে কথা। নিজের লোভটাও সামলানো দায়। তাই অর্ধেকটা নিজের জন্য রেখে বাকিটা দিল সেই ছেলেটিকে। ছেলেটি তাতেই খুশি। কাউকে কিছু বলেনি। অর্ধেক ক্যান্ডির কারণে বেঁচে গিয়েছিল ওই দুজন। ঘটনাটা মনে পড়লে অবশ্য খারাপই লাগে।

—মো. মুক্তাদির ইসলাম, জামালপুর জিলা স্কুল

 

আহা বেচারা!

 

স্কুলের মাঠটি ছিল বেশ বড়। কিন্তু স্কুলে বল-ব্যাট আনা ছিল নিষিদ্ধ। কারণ দুর্ঘটনার আশঙ্কা। তাই আমরা প্লাস্টিকের বোতলকে বল বানিয়েই খেলতাম। কারণ ব্যাট-বল আনতে বারণ থাকলেও খেলায় তো আর নিষেধাজ্ঞা ছিল না। প্লাস্টিকের বোতলের ফুটবল ছিল মজার খেলা। কিন্তু এটা খেলতে গিয়েই এক বন্ধু পড়ে গিয়ে কেটে ফেলল হাঁটু। আমরা ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিই। কিন্তু শিক্ষকরা জেনে গেলেন। আমরা তো ভয়ে শেষ। এবার না জানি কী অপেক্ষা করছে। কিন্তু না। আমাদের শাস্তি দেওয়া হলো না। বরং সাহস দেওয়া হলো। আহত বন্ধুর চিকিৎসার ব্যবস্থাও করলেন। পরবর্তী মিটিংয়ে শর্ত সাপেক্ষে কিছু খেলার সামগ্রী আনার অনুমতিও দিয়ে দিলেন। স্কুলের সবার মধ্যে সেকি আনন্দ! কিন্তু যার কারণে এত আনন্দ, সেই আহত বেচারা তিন দিন স্কুলে আসতে পারেনি ।

—রাফিউল হক, মুন্সীগঞ্জ

এমন লজ্জা!

 

ছোটবেলা থেকেই আমি মোটামুটি নিজেকে ‘গভীর জ্ঞানের অধিকারী’ ভাবতাম। আর এ জন্য স্কুলের স্যার, ম্যাডাম, ছাত্র-ছাত্রীরা আমাকে পণ্ডিত, বিজ্ঞানী—এসব উপাধিতে ভূষিত করেছিল। বাচালও ছিলাম খুব। প্রায়ই স্যার-ম্যাডামকে এমন সব প্রশ্ন করতাম, যেটার উত্তর তাঁদের কাছে থাকত না! তো একদিন ইংরেজির শহিদুল স্যার ক্লাস নিচ্ছেন। তাঁর লেসনটা আমার আগেই পড়া শেষ। তাই প্রশ্ন করে সুবিধা করতে পারছিলাম। খুব লাফালাফি করছিলাম আর উত্তর দিয়ে দিচ্ছিলাম সবার আগে। স্যার আমার দিকে তাকালেন। তারপর আচমকা জিজ্ঞেস করে বসলেন, ‘আমার একটা ছাগল ছিল’—এটার ইংরেজি অনুবাদ কী হবে? আমি দেরি না করে পটাপট বলে বসলাম, ‘আই ওয়াজ অ্যা গোট’। পুরো ক্লাস হো হো করে উঠল। আমি তো লজ্জায় নীল হয়ে গেলাম।—শাহ্ পরান তালুকদার, গোপালপুর কলেজ, টাঙ্গাইল।

 

গ্রাফিকস

সমরেন্দ্র সুর বাপী

ছবি

মোহাম্মদ আসাদ

প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের মডেল

মাহীর, ফাইযা, সীমান্ত



মন্তব্য