kalerkantho


বিজ্ঞান

দুই ভাগ হচ্ছে আফ্রিকা!

কেনিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে দেখা দিয়েছে বড় একটা ফাটল। আপাতত শুনতে সাধারণ মনে হলেও ভূগোলবিশারদরা দেখছেন নতুন একটি মহাদেশের ইঙ্গিত! লিখেছেন কাজী ফারহান পূর্ব

৮ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



দুই ভাগ হচ্ছে আফ্রিকা!

ফাটল বাড়ছে

১৯ মার্চ প্রথম আবিষ্কার হয় এটা। এর পর থেকে ক্রমে বাড়ছে ফাটলের ব্যাপ্তি। এটি প্রায় ৫০ মিটার গভীর, চওড়ায় সর্বোচ্চ ৬৫ ফুট ও লম্বায় কয়েক মাইল। এর কারণে কেনিয়ার মাই মাহিউর বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। নাইরোবি-নারক মহাসড়কের এক অংশ তো বন্ধই হয়ে গেছে। দেশটিতে তীব্র বৃষ্টিপাত ও মৃদু ভূকম্পনের পরই এ ফাটল সবার নজরে আসে।

 

কেন হলো?

লন্ডন রয়াল হলোওয়ের ফল্ট ডাইনামিকস রিসার্চ গ্রুপের পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চার ড. লুসিয়া পেরেজ ডায়াজ এ ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। ‘দ্য কনভার্সেশনে’ তিনি বলেন, ‘ইস্ট আফ্রিকান রিফট ভ্যালি’ আফ্রিকান প্লেটকে আস্তে আস্তে সোমালি ও নুবিয়ান নামক দুটি অসম প্লেটে বিভক্ত করছে। কেনিয়ায় দেখা দেওয়া ফাটল হলো এর প্রমাণ। এভাবে বাহ্যিক বলের কারণে ফাটল সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘কনটিনেন্টাল রিফটিং’। ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরের ম্যাগমা বা গলিত শিলার ঊর্ধ্বমুখী চাপের জন্য এই ভাঙন হচ্ছে। মূল আফ্রিকার বেশির ভাগই পড়েছে নুবিয়ান প্লেটে আর কেনিয়া, তানজানিয়া পড়েছে সোমালি প্লেটে। দুটি প্লেট বছরে আড়াই সেন্টিমিটার করে সরে যাচ্ছে।

 

আফ্রিকার শিং অক্ষত থাকবে?

১৩ কোটি ৮০ লাখ বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকা আর আফ্রিকা যেভাবে আলাদা হয়েছিল, ঠিক তেমন পরিণতি অপেক্ষা করছে বর্তমান আফ্রিকার ভাগ্যে। ড. ডায়াজের মতে, সমুদ্রের পানি আফ্রিকার ফাটলের সম্পূর্ণটা দখল করে নেবে। ফলে মূল আফ্রিকা মহাদেশ দ্বিখণ্ডিত হয়ে আগের চেয়ে ছোট হয়ে যাবে এবং ভারত মহাসাগরে আফ্রিকার বাকি অংশ নিয়ে বড় একটা দ্বীপের সৃষ্টি হবে। দ্বীপটিতে কেনিয়া, তানজানিয়ার অংশ এবং আফ্রিকার হর্ন নামে পরিচিত অংশটিও থাকবে। এ খণ্ডন অবশ্য আজ-কালের মধ্যে ঘটবে না। গবেষকদের মতে, পুরোপুরি আলাদা হতে কম করে হলেও লাখ বছর লেগে যাবে।

 

মহাদেশের মহাপাজল

আজ থেকে ৩০ কোটি বছর আগে একটিমাত্র মহাদেশ ছিল। তার নাম ছিল পাঞ্জিয়া সুপার কনটিনেন্ট। সেখান থেকেই আমরা পেয়েছি সাতটি মহাদেশ। বিশ্বমানচিত্রে একটু খেয়াল করলেই দেখবে যে মহাদেশগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে পাজল পিসের মতো মিলে যায়! জার্মান জিওলজিস্ট আলফ্রেড ভেগেনার ১৯১২ সালে তাঁর বিখ্যাত ‘কনটিনেন্টাল ড্রিফট’ থিওরি প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি তিনি মহাদেশগুলোর ফসিল, পাথর, জলবায়ু ইত্যাদির সামঞ্জস্য দেখিয়ে তত্ত্বটির পক্ষে যুক্তিও দেখান। এর ওপর ভিত্তি করে ‘দি অরিজিন অব কনটিনেন্টস অ্যান্ড ওশেনস’ নামে একটি বইও লেখেন তিনি। মহাদেশগুলোর পাজলের মতো একসঙ্গে মিলে যাওয়াটাই থিওরিটির সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ।     

সূত্র : লাইভসায়েন্স

 

ভুল স্বীকার

দলছুটের ১২ নম্বর সংখ্যার বিজ্ঞান বিভাগে ‘মহাকাশ থেকে মহাপতন’ শিরোনামের লেখাটির এক জায়গায় প্রুফের ভুলে ‘বিষাক্ত রাসায়নিক হাইড্রোজেন ছড়িয়ে পড়বে’ ছাপা হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। হাইড্রোজেন মোটেও বিষাক্ত গ্যাস নয়, ওটা হবে বিষাক্ত গ্যাস ‘হাইড্রাজিন’ (N2H4)।



মন্তব্য