kalerkantho


রহস্যজট

সৈকতে খুন

ধ্রুব নীল

৮ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



সৈকতে খুন

পহেলা বৈশাখের আমেজ কাটতে না কাটতেই নতুন কেস হাজির। ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেন ইন্সপেক্টর কালাম। নোটবুক খুলেই প্রথমে তারিখ টুকে নিলেন। ১৫ এপ্রিল। সি-বিচের বেঞ্চিতে পাওয়া গেছে একটি লাশ। বয়স পঞ্চাশের মতো। শরীরে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। গলায় লাল দাগ আছে। শ্বাসরোধেই মারা গেছে মনে হচ্ছে। বুকের ওপর ভাঁজ করে রাখা একটি পত্রিকা। প্রত্যক্ষদর্শীর নাম আসলাম। সৈকতে স্পিডবোট চালায় আর পর্যটকদের কাছে এটা-ওটা বিক্রি করে বেড়ায়। ছেলেটা জানাল, লোকটাকে বিচে আসার আগেই দেখেছে ও। একটা স্ট্যান্ড থেকে পত্রিকা কিনে চেয়ার ভাড়া নিয়ে বসেছিলেন সাতসকালে। তাঁর সঙ্গে কথাবার্তাও হয়েছে কয়েকবার। তারপর সে চলে যায় বাজারের দিকে। এ সময় তিন যুবককে সে দেখেছে লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকতে। তারা ১০০ গজের মতো দূরে ছিল। লোকটাকে দেখিয়ে কী যেন সলা-পরামর্শ করছিল তারা। সাগরের গর্জনের কারণে তাদের কথা ঠিকমতো কানে আসেনি আসলামের।

সৈকতে তখন আর লোকজন তেমন ছিল না। যখন ফিরে আসে আসলাম, তখন দূর থেকে দেখে ওই তিন ছোকড়া পড়িমরি করে পালাচ্ছে। ব্যথায় গলা চেপে ধরে রেখেছিল লোকটা। ভয়ে আসলাম প্রথম দিকে কাছে এগিয়ে আসেনি। পরে লোকটা মারা গেছে মনে করে থানায় ফোন করে।

খুঁটিয়ে দেখলেন কালাম। লোকটার পরনে একটা ট্রাউজার। ওটার একটা পকেট উল্টো হয়ে বাইরে বের হয়ে আছে।

নোটবুক বন্ধ রেখে হাসলেন ইন্সপেক্টর কালাম। আসলামের দিকে তাকিয়ে বললেন, থানায় চলো, তোমার বানানো গল্পের বাকি অংশটাও শোনা দরকার।

 

এবার বলো, কী করে ইন্সপেক্টর কালাম বুঝতে পারলেন আসলাম বানিয়ে বলছে?



মন্তব্য