kalerkantho

রহস্যজট

বই চুরি

ধ্রুব নীল

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বই চুরি

রাফির মন খারাপ। ইচ্ছা করছে মাইক টাইসনের মতো ঘুষি মারতে। প্রতিপক্ষ পাচ্ছে না বলে মেজাজ খিঁচড়ে আছে। বইমেলা থেকে কেনা গরম গরম থ্রিলার বইটা পড়বে বলে মাত্র বসেছে। শেলফ হাতড়ে দেখে ওটা গায়েব। মুহূর্তে মনে পড়ে গেল গতকালের আড্ডার কথা। এসএসসি শেষ হওয়ার পর একগাদা বন্ধুবান্ধব এসেছিল বাসায়। এর মধ্যে কেউ আছে বেশ ভালো বন্ধু, কেউ অল্প পরিচিত। বেস্ট ফ্রেন্ডদের কেউ বই চুরি করবে না, কারণ তারা চাইলেই পড়তে পাবে। নিয়েছে কম পরিচিতদের মধ্যেই কেউ একজন। হয়তো পড়ার পর আবার সরি বলে ফেরতও দেবে। কিন্তু এখন কী পড়বে রাফি!

চুরি যাওয়া মোটা মলাটের থ্রিলার বইটা ঘুরেছে অনেক হাতেই। বোঝা গেল, অনেকেরই পছন্দ ছিল ওটা। এর মধ্যে জুবায়ের, শান্ত, জুয়েল, রকিব আর মিথুনের হাতেই বইটা বেশি ঘুরেছে। এদের মধ্যে শান্ত বইটা নেবে না, নিশ্চিত রাফি। কারণ ও তার বেশ ভালো বন্ধু। ‘বাকিদের গ্যারান্টি নাই।’ বিড়বিড় করে কথাটা বারকয়েক বলল রাফি। চোখ বুজে ভাবার চেষ্টা করল ঘটনাটা। সন্ধ্যার দিকে এসেছিল সবাই। জুবায়ের ছেলেটা চুপচাপ। চোখে চশমা। জুয়েল আরেকজনের সঙ্গে টানাটানি করছিল বইটা নিয়ে। ওই ছেলের নাম সিমু। প্যান্টের বেলটা ছিঁড়ে যাওয়ায় একটু পর পর এক হাত দিয়ে প্যান্ট টানতে হচ্ছিল ছেলেটাকে। ভাবতেই ফিক করে হেসে দিল রাফি। মিথুন তার ছোট্ট ব্যাগ থেকে দুটি জুসের বোতল বের করেছিল সবার জন্য। অর্ধেকটা খেয়ে আবার ব্যাগের মধ্যে অনেক কসরত করে বোতল দুটি ভরে রাখে ও। রকিব বসে বসে আপেল খাচ্ছিল আর অন্য একটা বইয়ের পাতা ওল্টাচ্ছিল। সে কয়েকবার জুবায়েরকে বলেছিল, রাফির থ্রিলার বইটা তাকে ধার দিতে জুবায়ের যেন রাফিকে অনুরোধ করে। রাফির এককথা, আগে সে পড়বে, তারপর ধার। এতে আহত হয়েছিল রকিব। জুয়েল আবার এর মধ্যে চোখ টিপাটিপি করছিল জুবায়েরের সঙ্গে। ব্যাগ থেকে কী যেন দেখিয়েছিল। আবার ব্যাগে রেখে দিয়েছিল ওটা। তবে ওই সময় রাফি ছিল সামনে। জিনিসটা বই ছিল না। তবে এমনও হতে পারে, সে আর জুবায়ের মিলে বইটা বাগাবে বলে ঠিক করেছিল। জুবায়ের আর রকিবকে অবশ্য অন্য বই নেওয়ার জন্য সেধেছিল রাফি। দুজন সঙ্গে ব্যাগ আনেনি বলে নিতে পারেনি।

রাফি সারাক্ষণই তাদের সঙ্গে ছিল। মাঝে একবার শুধু টয়লেটে গিয়েছিল। জুয়েলের সঙ্গে আবার জুবায়ের বা রকিবের খুব একটা খাতির দেখেনি ও। শান্তর স্বল্পপরিচিত বন্ধু সুমন বা সিমুর সঙ্গেও বাকিদের তেমন কথা হচ্ছিল না। রাফি যখন টয়লেটে যায়, তখন ভেতর থেকে কে যেন বলেছিল—চল, ছাদ থেকে ঘুরে আসি। এর মধ্যেই কেউ একজন ঘটনা ঘটায়। অন্যরা যখন দরজার দিকে হাঁটছিল, তখনই দ্রুত কাজটা সারে। বিদায় দেওয়ার সময় হৈ-হুল্লোড় করতে করতেই নেমেছে সবাই। এমনকি চুপচাপ থাকা সিমুকেও দেখল দুহাত ওপরে তুলে নাচতে নাচতে নামছে। সবাই মিলে কাজটা করেনি তো? ভাবল রাফি। এমন সময় ফোন—‘দোস্ত, তোর একটা বই চুরি করেছি আমরা। যদি বলতে পারিস ওটা কিভাবে নিয়ে গেছি, তা হলে দুটি বই উপহার পাবি। না পারলে বইটা ফেরত পাবি তিন দিন পর।’ রাফির বুঝতে বাকি রইল না বইটা কিভাবে চুরি হয়েছে।

এবার বলো, রাফির বইটা কে কিভাবে হাতিয়েছে?


মন্তব্য