kalerkantho


অবাক পৃথিবী

১০২ ভাষায় গান!

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



১০২ ভাষায় গান!

তোমাদের অনেকেই তো গান গেয়ে পুরস্কার পেয়েছ। কিন্তু গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠেছে কজনার? কিশোরী সুচেথা সতীশের নাম কিন্তু উঠেছে! তার গল্পটা জানাচ্ছেন ফারহান নাসের

 

বয়স তখন মোটে চার। ওই সময় শেখা শুরু করে দিল কঠিন কঠিন সব ক্লাসিক্যাল গান। কর্ণাটক গান শেখার পর হাত দিল হিন্দুস্তানি সংগীতে। আট বছর বয়সে ওটাও রপ্ত করে নিল। কিন্তু গানের তো আর ভাষা নেই। অন্য ভাষার গানও টানতে শুরু করল সুচেথাকে। শুরু হলো ভিনদেশি গান শেখা।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুচেথা সতীশের মা-বাবা থাকেন দুবাইয়ে। সেখানে একদিন বাবার এক জাপানি বন্ধু এসেছিলেন তাদের সঙ্গে দেখা করতে। তিনি একটা গান গেয়ে শুনিয়েছিলেন সুচেথাকে। সুচেথার মনে ধরে ওটা। বাবার ওই বন্ধুর কাছ থেকে গানটা তুলে নেয় নিজের গলায়। ‘২০১৬ সালের শেষের দিকে ওই জাপানি গান দিয়েই আমার বিদেশি গানের পথচলা শুরু।’ গালফ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুচেথা আরো জানাল, ‘অন্য ভাষার একটা গান শিখতে আমার বড়জোর ঘণ্টা দুয়েক লাগে। আমি দ্রুত শিখতে পারি। গান বড় না হলে আধাঘণ্টায়ও শেখা হয়ে যায় অনেক সময়।’

হিন্দির পর শিখতে শুরু করল আরবি গান। এদিকে স্কুলে শিখছিল অন্য আরো ভাষা। নতুন নতুন ভাষার গান শেখাটা একপর্যায়ে অভ্যাস হয়ে যায় তার। একসময় দেখল, প্রায় ৩০টি ভাষার গান সে রপ্ত করতে পেরেছে। রেকর্ডস বুকে নাম লেখানোর ভূতটা চাপে তখনই।

২৫ জানুয়ারি গিনেস কর্তৃপক্ষের সামনে একনাগাড়ে ছয় ঘণ্টা ১৫ মিনিটে ১০২টি ভাষার গান গেয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সুচেথা সতীশ। তার আগের রেকর্ডটা ছিল রোমানিয়ার শিল্পী আন্দ্রা গোগানের দখলে। ২০০৯ সালে ১১ বছর বয়সে ওই শিল্পী তিন ঘণ্টা ২০ মিনিট সময়ে গেয়েছিল ৫৫টি ভাষার গান।

তো কী কী ভাষায় গাইতে জানে সুচেথা? হিন্দির পর তালিকায় আছে—বাংলা, মৈথিলি, সংস্কৃত, জাপানিজ, স্লোভাকিয়ান, আজারবাইজানি, মান্দারিন, বাদাগা, বেলুচ, বাস্ক, বেলারুশিয়ান, ভোজপুরি, ভুটানিজ, বুলগেরিয়ান, জার্মান, গ্রিক, মঙ্গোলিয়ান, মারাঠি, কিরগিজ, কোরিয়ান, ভিয়েতনামিজ, পর্তুগিজ ইত্যাদি। এমন সব ভাষায় ও গাইতে পারে, যে ভাষার নামই হয়তো শোনোনি কোনো দিন।



মন্তব্য