kalerkantho


বিজ্ঞান

অ্যানড্রোমিডার পাঁচ

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



অ্যানড্রোমিডার পাঁচ

টেলিস্কোপে চোখ রাখলেই দেখা মেলে পড়শির। এ পাড়ার নাম আকাশগঙ্গা আর ওপাড়া অ্যানড্রোমিডা। মহাজাগতিক এই প্রতিবেশীকে নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই বিজ্ঞানীমহলে। অ্যানড্রোমিডার কিছু কম জানা তথ্য জানাচ্ছেন এফ এ নাসের

 

আরেক নাম

অ্যানড্রোমিডার আরেকটা নাম আছে— মেসিয়ার ৩১। ফরাসি জ্যোতির্বিদ চার্লস মেসিয়ারের নামে। উত্তর আকাশের তারকারাজি ও নীহারিকা ক্যাটালগ বানাতেন এই বিজ্ঞানী। ক্র্যাব নেবুলা তিনিই প্রথম লিপিবদ্ধ করেন। তাঁর ক্যাটালগে থাকা যাবতীয় মহাজাগতিক বস্তুকে মেসিয়ার অবজেক্টস নামে ডাকা হয়। ১৭৫০ থেকে ১৭৮০ সাল নাগাদ তিনি ধূমকেতু, নক্ষত্রসহ প্রায় ১০৩টি বস্তুর ক্যাটালগ করেন।

 

অনেক বড়

আমাদের চেনা গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে আমাদের মিল্কিওয়ে ওরফে আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সিটা তুলনামূলক ছোট। এর ব্যাস এক লাখ আলোকবর্ষ। অন্যদিকে অ্যানড্রোমিডার আকৃতি সে তুলনায় দ্বিগুণেরও বড়। অ্যানড্রোমিডার এমাথা থেকে ওমাথায় আলো পৌঁছতে সময় নেবে দুই লাখ ২০ হাজার বছর। গ্যালাক্সিটা পৃথিবী থেকে ২৫ লাখ আলোকবর্ষ দূরে। আর আমরা জানি, কাছের জিনিস বড় আর দূরের জিনিস ছোট দেখায়। কিন্তু টেলিস্কোপে চাঁদের চেয়েও বড় দেখায় অ্যানড্রোমিডাকে।

 

লাখো কোটি তারা

আমাদের মিল্কিওয়েতে নক্ষত্রের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি। হাবল টেলিস্কোপের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অ্যানড্রোমিডায় তারা আছে এক লাখ কোটিরও বেশি। সূর্যের মতো অগণিত বুড়ো নক্ষত্র আছে সেখানে। টেলিস্কোপে যেগুলোকে নীল দেখায়।

 

দুটি নিউক্লিয়াস

পরমাণুর মতো গ্যালাক্সিরও আছে নিউক্লিয়াস, মানে শক্তিশালী একটি কেন্দ্র। কয়েক লাখ তারকার সমন্বয়ে তৈরি হয় একটি গ্যালাক্সির নিউক্লিয়াস তথা কেন্দ্র। অ্যানড্রোমিডায় এমন কেন্দ্র আছে দুটি। নাম পি-১ ও পি-২। যেগুলো আবার একটি অতিকায় ব্ল্যাকহোল ঘিরে ঘুরছে। এগুলোর কারণেই অ্যানড্রোমিডার কেন্দ্র এত উজ্জ্বল দেখায়।

 

ধেয়ে আসছে

আমাদের মিল্কিওয়ের সঙ্গে অ্যানড্রোমিডার সংঘর্ষ ঘটবে অচিরেই। তবে ভয় নেই। মহাজাগতিক ক্যালেন্ডারে এই ‘অচিরেই’—মানে কমপক্ষে ৩৭৫ কোটি বছর। দুড়ুম করে একটা আরেকটার সঙ্গে বাড়ি খাবে, এমনটাও নয়। সৌরজগত্টা এতই ক্ষুদ্র যে এই সংঘর্ষে হয়তো আমাদের পৃথিবীর কিছুই হবে না। আর তত দিন যদি মানুষ থাকে, তবে ওই সংঘর্ষের সময় প্রায় প্রতি রাতেই আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা যাবে।


মন্তব্য