kalerkantho

মগজ ধোলাই

অপহরণ

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অপহরণ

শুক্রবার ছুটির দিন। দুপুরের দিকে নানাবাড়িতে এসেই দুঃসংবাদটা পেল সুজন। সাত বছর বয়সী মামাতো ভাই পিন্টুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সবার মুখ থমথমে। সকাল থেকে খোঁজ নেই। দুপুর গড়িয়েছে মাত্র। এখনো খারাপ কোনো চিন্তা মাথায় আসছে না কারো। হয়তো খেলতে খেলতে একটু দূরেই চলে গিয়েছে। তবে বাড়ির পথ তার চেনার কথা। দুপুরের খাবারের সময় গড়াতেই টেনশন ঘিরে ধরল সবাইকে। বাড়ির লোকজন বেরিয়ে পড়ল খোঁজে। বিকেলের দিকে শুরু হয়ে গেল কান্নার রোল। মাইকিংও হচ্ছে। লাল হাফপ্যান্ট আর কালো গেঞ্জি ছিল পরনে। পুলিশেও খবর দেওয়া হয়েছে।

সুজনের মামার পাড়ায় দোকান আছে। মোটামুটি অবস্থাসম্পন্ন। তাই কারো কারো আশঙ্কা, পিন্টুকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করা হয়েছে। সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। এখনো কারো ফোন আসেনি। তবে বড় মামা নিশ্চিত, একটু পরই টাকা চেয়ে ফোন করবে কেউ। উঠোনভর্তি মানুষজন। এর মধ্যে কেউ কেউ পিন্টুকে দেখেছেও নাকি। ঘোষপাড়ার রমজান আলী বলল, ‘পিন্টুর মতো একটা পোলারে দেখসি। সকালের দিকে উত্তরের হাজিপাড়ার পুকুরের পাড়ে খাড়াইয়া থাকতে। আমি দূর থিকা কইলাম, এই শীতে খালি গায়ে ঘুরঘুর করলে তো ঠাণ্ডা লাগব। এখন পুকুরে পইড়া যায় নাই তো পোলাটা!’ বড় মামার দোকানের অ্যাসিস্ট্যান্ট বাদলও পিন্টুকে দেখেছে। ‘ওরে দুফরের দিকে দেখলাম বিরামপুরের দীঘির পাড়ে খেলতাসে। আমি গেসিলাম স্কুলে। এক মাস্টারের কাছে পাওনা টাকা আনতে। আসার পথে ওরে আর দেখি নাই।’

সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে অসুস্থ। সে বলল, ‘পিন্টুরে দেখসি আসমানে উড়তাসে। আচমকা একটা ইগল পক্ষী আইসা ওরে খপ কইরা ধইরা লইয়া গেসে। তারপর পিন্টু চইলা গেল বহুত দূরে।’

এমন সময় চেঁচিয়ে উঠল সুজন—পিন্টুকে অপহরণ করা হয়েছে। আর অপহরণকারী এখানেই আছে! ওকে ধরলেই সব বের হয়ে আসবে! আমি একশভাগ নিশ্চিত!

 

এবার বলো, সুজন কী করে নিশ্চিত হলো? কে অপহরণ করেছে? উত্তর পাঠাও ই-মেইলে।

 

গত সংখ্যার উত্তর : রাজশাহীতে মহাস্থানগড় নেই, ছাগলনাইয়া থানাটি কুমিল্লায় নয়, ফেনীতে। দুর্জয়ের কথায় মিথ্যা নেই।

সঠিক উত্তরদাতা : শাহরিয়ার রিশাদ, শ্রুতি বড়ুয়া, তানভি মাহমুদ, আমানুর রহমান, মোস্তফা আশিকুর রহমান।


মন্তব্য