kalerkantho


অবাক পৃথিবী

সন্ধানী মনের ভিনদেশি খোরাক

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সন্ধানী মনের ভিনদেশি খোরাক

ইন্টারনেটে সব পাওয়া যায়? প্রখর অনুসন্ধানী মনের খোরাক মেটাতে ওয়েব দুনিয়ার বাইরেও আছে মলাটবাঁধা এক জগৎ। এর মধ্যে কিছু আছে, যা হাতে না পেলে অপূর্ণই রয়ে যায় বুকশেলফটা। এমন কিছু বইয়ের সন্ধান দিচ্ছেন নাঈম সিনহা

 

দ্য গ্রেট স্টোরিজ নেভার টোল্ড, রিক বেয়ার

যাদের ঝোঁক ইতিহাসের পাতায়, তাদের জন্যই এ বই। প্রায় দুই শ বছরের ইতিহাস নিয়ে থাকছে এক শটি কাহিনি। যার মধ্যে আছে বিস্মিত, অভিভূত কিংবা হতভম্ব করার মতো গল্প। বইটির বর্ণনা, ছবি, চিত্রকর্ম আর বিভিন্ন ম্যাপ তোমাদের চোখের সামনেই তুলে ধরবে প্রতিটি গল্পের প্রেক্ষাপট। বেশ কিছু তথ্য তোমাকে চমকে দেবে। যেমন পিলগ্রিমস নামে যে ব্রিটিশ দলটি আমেরিকায় উপনিবেশ করেছিল, তারা নাকি শুধু বিয়ার ফুরিয়ে যাওয়ার কারণেই সেখান জাহাজ থামিয়েছিল। জানবে কিছু রোমান দুর্নীতিবাজের গল্প। এতটাই দুর্নীতিবাজ ছিল যে সময়ও চুরি করেছিল তারা।

 

এক্সট্রাঅরডিনারি অরিজিনস অব এভরিডে থিংস, চার্লস পানাটি

তোমরা যারা তুচ্ছ ঘটনার পেছনের ঘটনা কিংবা অস্বাভাবিক কারণগুলো জানতে আগ্রহী, তারা এ বইটা পারলে সংগ্রহ করে নিয়ো। এ ধরনের বইগুলো সাহিত্যকর্ম না হলেও রসের অভাব নেই। বইটিতে পাঠকদের জন্য গল্প করার খোরাক দিয়েছেন লেখক। দৈনন্দিন জীবনের নানা আচার-আচরণের রীতির পেছনের কারণ এখানে বর্ণনা করা হয়েছে।   

 

বুক অব সিক্রেটস, থমাস ইটন

যেমন নাম তেমন কাজ। তুমি কী জানো, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিউবায় প্রতিদিন একটি গোপন ফ্লাইট যেত? এমন শতাধিক রহস্য উন্মোচিত হয়েছে বইটিতে। গোপন, চুপিসারে ঘটে যাওয়া ঘটনা, উদ্ভট সংস্কৃতি—সবই পাবে এক মলাটে।

 

দ্য বুক অব জেনারেল ইগনোরেন্স, জন মিশিনসন ও জন লয়েড

উটের কুঁজে পানি নয়, চর্বি জমা থাকে। অন্যদিকে জরিপে দেখা গেছে, প্রতি এক লাখ পেপার ক্লিপের মধ্যে মাত্র একটি ব্যবহার করা হয় কাগজ আটকানোর কাজে। এ ধরনের মজার মজার তথ্য বলে বন্ধুকে যারা চমকে দিতে চাও, তাদের জন্যই ঢাউস সাইজের বইটি লেখা হয়েছে।

 

আ শর্ট হিস্ট্রি অব নিয়ারলি এভরিথিং, বিল ব্রাইসন

মহাবিশ্ব সৃষ্টি হওয়ার প্রাক্কাল থেকে এখন পর্যন্ত যা যা ঘটেছে এবং মানুষ সেসব কী করে বের করেছে, সব নিয়েই এই বই। আর এমন বই লেখা তো চাট্টিখানি কথা নয়। এর জন্য লেখক বিল ব্রাইসন সাহেবকে রীতিমতো কয়েক শ রেফারেন্স বইয়ের সাহায্য নিতে হয়েছে। কথা বলতে হয়েছে অনেক অনেক বিজ্ঞানীর সঙ্গে। তো আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এমন একটা বই লেখার মিশনে নামতে পারো তুমিও। গবেষণার কারণে জ্ঞান তো বাড়বেই, আবার নিজের নামে একখানা বইও হলো।

 

হিস্ট্রিজ গ্রেটেস্ট লাইজ, উইলিয়াম ওয়েইর

রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন কী করছিলেন? প্রচলিত কথাটা হলো, নিরো তখন বিশেষ এক ধরনের বাঁশি বা বেহালা বাজাচ্ছিলেন। আদতে এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। লেখক প্রমাণ করেছেন যে ষোড়শ শতকের ওই সময়টা পর্যন্ত বেহালা আবিষ্কারই হয়নি। নিরোর শত্রুরাই তার বিরুদ্ধে এ কুৎসা রটায়। এ ধরনের ঐতিহাসিক সব মিথ্যাচার নিয়েই সাজানো হয়েছে বইটি।

 

দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অব থিংস দ্যাট নেভার ওয়্যার, রবার্ট ইংগপেন

মিথে থাকা সব চরিত্র ও ঘটনা নিয়ে বইটি। বিখ্যাত সব ভূত, ডাকিনি, দৈত্য, পরি, হাইপারবোরিয়া (গ্রিসের দৈত্যাকার মানুষ); এসবের মতো নামকরা চরিত্রগুলোর নাড়িনক্ষত্র জানা যাবে এ বইতে, তবে এদের কারোরই বাস্তব অস্তিত্ব নেই।


মন্তব্য