kalerkantho


হরর ক্লাব

রনোর মায়ের পুকুর পাড়

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রনোর মায়ের পুকুর পাড়

এই সেই পুকুরপাড়, যেখানে দিনদুপুরেও লোকে যেতে ভয় পায়

কেউ বলে কল্পকাহিনি। কেউ কেউ নাকি কিছু দেখেছেও। দিনের বেলায় ছমছম করে গা। রনোর মায়ের পুকুরপাড়ে গিয়েছিলেন গাজী খায়রুল আলম

 

গ্রামের নাম দীঘলগাঁও। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার এ গ্রামে পাওয়া যাবে প্রাচীন এক পুকুরের পাড়। সবাই বলে রনোর মায়ের পুকুর। দুই পাশে গা ছমছম করা পুরনো বাঁশঝাড় আর জঙ্গল। দিনের বেলায়ও কেউ পা মাড়ায় না ওদিকে। একপাশ দিয়ে একটি সরু রাস্তা গেছে। সেখানেও ঝোপঝাড় আর বাঁশঝাড়। এ রাস্তায়ই দেখা যায় সাদা কাপড় পরা এক বুড়িকে। সবার ধারণা, ইনিই সেই রনোর মা, যিনি মারা গিয়েছিলেন প্রায় ১০০ বছর আগে।

‘আমি উত্তরপাড়া থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। তখন রাত ১০টা। একা পুকুরপাড় পার হতে ভয় করছিল। মোড়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কাউকে পেলাম না। এদিকে রাত বাড়ছে। তাই ভাবলাম, একাই হাঁটা দিই। হাঁটতে হাঁটতে রনোর মায়ের পুকুরপাড়ে গেলাম। দেখি, খড়ের গাদার কাছে কে যেন বসে বসে কাঁদছে। প্রথমে ভয় পেলাম। তবু ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম। সামনে গিয়ে দেখি, সাদা কাপড় পরা বুড়ি। আমি আরো এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখি রনোর মা। বললাম, তুমি এখানে বসে আছ কেন? ঘরে রাগ করেছ নাকি কারো সঙ্গে? তখনো আমি আসলে তাকে চিনতে পারিনি। আমি তার হাতও ধরলাম। বললাম, ঘরে চলো। আমি বুড়িকে জোর করেই তুলে নিলাম। দেখি সে কিছু না বলে মাথা গুঁজে চুপ করে আছে। আমি তাকে নিয়ে হাঁটছি। কিন্তু আমি বাড়ির দিকে যাইনি। আনমনে বাঁশঝাড়ের দিকে চললাম। তখনই ভয় চেপে ধরল। আমি বাড়ি না গিয়ে এদিকে এলাম কেন! আমি কাকে কোলে নিয়ে আছি? ভয়ে কাঁপতে শুরু করলাম। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। চারদিকে অন্ধকার। বুড়িকে ঝেড়ে ফেলে চিৎকার দিলাম। কিন্তু মুখ দিয়ে শব্দ বের হলো না। আবার চিৎকার করার চেষ্টা করলাম। তা-ও হচ্ছিল না। দৌড় যে দেব, সে শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছি। ততক্ষণে দেখি বুড়ি আমার দিকে এগিয়ে আসছে। এসেই খপ করে আমার হাত ধরল। তারপর আর কিছু মনে নেই।’ ভয়াবহ এ ঘটনার শিকার হয়েছিলেন এলাকার কৃষক মফিজ মিয়া।

এলাকার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে এখানে একটা ঘোড়ার কথা শুনে আসছি। বুড়ির মতো ওটাও সামনে আসে। পুকুরপাড়ে কোনো গরু বাঁধা হলে সেটা পুকুরে পড়ে যেত। অনেক গরু মারাও গেছে। একবার আমার চাচা পুকুরপাড়ে গরু বেঁধে আসার আধা ঘণ্টা পরেই গিয়ে দেখেন, গরুটা মরে পড়ে আছে। আর ঘোড়ার হাঁটার আওয়াজ অনেক রাতেও শোনা যেত। মাঝে মাঝে নাকি সে বুড়ির বেশ ধরত। একা কখনো আমরা এই পুকুরপাড় দিয়ে হাঁটিনি।’

গ্রামের প্রবীণ শিক্ষক আহমেদ আলী বলেন, ‘এই বুড়ি কখনো ঘোড়া, কখনো সাদা কাপড়ে ঢাকা মানুষ সেজে আসে। আমি একবার এক কবিরাজ ভাইয়ের সঙ্গে পুকুরপাড় ধরে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি একটি ঘোড়া। এখানে ঘোড়া এলো কিভাবে! দুজনে মিলে সেটি ধরার চেষ্টা করলাম। ওটা হুট করে গায়েব হয়ে গেল। কিন্তু আমরা দৌড়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। আর তখন ভয় পেয়ে যাই দুজনে।’



মন্তব্য