kalerkantho


বিজ্ঞান

মগজের বন্ধু

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মগজের বন্ধু

পরশুরামের বই পড়ে হাসেনি বা বিষাদসিন্ধু পড়ে কষ্ট পায়নি—এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। বই পড়ে মজা তো আছেই, পাশাপাশি যদি মগজেও শাণ দেওয়া যায়? জানাচ্ছেন কাজী ফারহান পূর্ব

 

ইমরি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা থেকে দেখা যায়, পাঠক যখন কোনো বই পড়ে তখন সে বইয়ের নায়কের চরিত্রে নিবিড়ভাবে আবিষ্ট হয়। ধরো, সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা খুব বীরত্বের সঙ্গে লাফ দিয়ে একটি গাড়িতে উঠল, তখন পাঠকের মস্তিষ্কের বাস্তবে লাফ দেওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত অংশটি কাজ করা শুরু করে দেয়। ২০০৬ সালে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেন যে ‘পারফিউম’ তথা সুগন্ধি ও ‘কফি’—এ শব্দ দুটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের ঘ্রাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত অংশ কাজ করতে শুরু করে। অবাক করা বিষয় হলো, ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এফএমআরআই) পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি এসংক্রান্ত নিউরোবায়োলজিক্যাল এক প্রভাবের ফলাফল। এর জন্য ইমরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে ‘পম্পেই’ নামের একটি আবেগঘন বিয়োগান্তক উপন্যাস পড়তে দেওয়া হয়। প্রত্যেককে গোধূলির সময়ে বইটার ৩০ পৃষ্ঠা করে পড়ানো হয়, এরপর সঙ্গে সঙ্গে এফএমআরআই পরীক্ষা করা হয়। তাদের মগজের লেফট টেম্পোরাল কর্টেক্স ও ভাষাসংক্রান্ত রিসেপশনের জন্য দায়ী অংশে ‘পম্পেই’ পড়ার ফলে অতিরিক্ত নিউরাল কানেকটিভিটি দেখা যায়। এতে প্রমাণিত হয়েছিল যে মস্তিষ্কে বইয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। এ প্রভাব কত দিন থাকে, তা ব্যক্তিবিশেষে নির্ভর করে। কারণ একেকজনের প্রিয় বই একেক রকম। নিওরোবিজ্ঞানী গ্রেগরি বার্নস বলেন, ‘গল্প আমাদের জীবনকে আকৃতি দেয় এবং আমাদের ব্যক্তিত্বকেও সংজ্ঞায়িত করে। আর এটা পুরোপুরি একটা জৈবিক প্রক্রিয়া।’

নিয়মিত বই পড়াটা তাই মগজের ব্যায়াম। এতে মনোযোগ বাড়ে। বই পড়ার সময় আমরা চাইলেও ফেসবুক নোটিফিকেশন চেক, কথা বলা, ই-মেইল পড়া—এসব মাল্টিটাস্কিং করতে পারি না। এতে করে মস্তিষ্কটা নিজেকে গোছানোর সময় পায়। ১৫-২০ মিনিট বই পড়লেই মস্তিষ্ক শিথিল হয়ে আসে, যাকে বলি ‘মাথা ঠাণ্ডা’ হওয়া। এই শিথিলায়ন ঘটার সঙ্গে আবার সম্পর্ক আছে সৃজনশীলতার। তাই মানসিক চাপ দূর করতে মনোবিদরা বরাবরই বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

আলঝেইমারস নামক মস্তিষ্কের রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমানোতেও তাই বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরো একটা মজার বিষয় হলো, বই পড়ে আমরা যেসব কৌশল খাটাতে দেখি চরিত্রগুলোকে, বাস্তবেও অবচেতনে আমরা সেসব খাটাতে পারি।

মস্তিষ্ক চাঙ্গা রাখতে সব সময় রাশভারি জ্ঞানের বই পড়তে হবে, তা কিন্তু নয়। রূপকথার কাল্পনিক জগতেও মিলবে মগজের রসদ।



মন্তব্য