kalerkantho


ফোকাস

মিশন বইমেলা

টিফিনের বাঁচানো টাকা কিংবা মাটির ব্যাংক ভেঙে তৈরি বইমেলার জন্য। কারো চাই সায়েন্স ফিকশন, কারো থ্রিলার। বইমেলায় বই কেনা থেকে শুরু করে করার মতো আরো কিছু জানাচ্ছেন জুবায়ের ইবনে কামাল

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মিশন বইমেলা

আড্ডার মাঝে ক্রিং ক্রিং। ‘হ্যালো?’ বলল সজীব। ‘কী রে! বইমেলায় কবে যাবি?’ ফাইয়াজের গলা। যেভাবে বলছে, মনে হচ্ছে, বইমেলায় যাওয়ার একমাত্র ট্রেন মিস হয়ে যাচ্ছে। সজীবের উত্তর, ‘৯ তারিখ। ছুটির দিন আছে। সবাই মিলে যাওয়া যাবে।’ ‘তোরা থাক, আমি এখনই আসছি’। প্রিয়ান্তু বলল—আচ্ছা, ও আসুক। আমিও এবার মেলা থেকে অনেক থ্রিলার আর সায়েন্স ফিকশন কিনব। একটু সাজেশন দরকার।

 

কেনার আগে

❏    থ্রিলার বই নিয়ে কাজ করে এমন কিছু বিশেষ প্রকাশনী আছে (যেমন—সেবা প্রকাশনী ও বাতিঘর)। তাদের ক্যাটালগটা আগেই নিয়ে নাও। রিভিউ দেখে নিতে পারো অনলাইনে।

❏    বিদেশি গল্প হলে ভালো অনুবাদক কে, তা আগেই জেনে নাও বইপাগল কারো কাছ থেকে।

❏    থ্রিলার বইয়ের শুরুতে বা শেষে কাহিনিসংক্ষেপ থাকে। তা পড়ে ধারণা নিতে পারো।

❏    পত্রিকার বিজ্ঞাপনগুলো দেখে সায়েন্স ফিকশন বইয়ের একটা লিস্ট করে ফেলা যেতে পারে।

❏    প্রথম দু-এক পৃষ্ঠা উল্টে পড়াটা দোষের নয়। তাতেই বুঝতে পারবে, বইটা গতানুগতিক ধারার বাইরে কি না।

 

ফাইয়াজ হাজির। হড়বড় করে বলতে লাগল, আমাকে রেখেই প্ল্যানিং শেষ? সজীব বলল, ভাই এভাবে চিৎকার না করে কাজের কথা বল। স্পেসিফিক থ্রিলার বা সায়েন্স ফিকশন তো হলো। অন্যান্য বইও তো কিনব। ভালো বই কেনার জন্য কিছু টিপস দরকার।

‘কিশোর-কিশোরীদের বই কেনার আগে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা প্রিন্ট মিডিয়ার দিকে খেয়াল রাখা উচিত। কেননা সেখানে বাসায় বসেই বই সম্পর্কে খবর পাওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বই দেখে কেনা। যেহেতু আমাদের বইমেলা হয় পুরো এক মাস। সুতরাং সেখানে যেকোনো বই ভালো করে দেখে কেনার বড় একটা সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি। টিনএজার পাঠকদের উচিত বইমেলায় অনেক বেশি সময় দিয়ে বই ও ভালো প্রকাশনী সম্পর্কে ধারণা নেওয়া।’ বললেন ঐতিহ্য প্রকাশনীর প্রকাশক আরিফুর রহমান নাঈম।

ফাইয়াজ আবার লাফিয়ে উঠল। বলল, আমি মাঝেমধ্যেই বইমেলায় গিয়ে বেশ বড় সমস্যায় পড়ি। হারিয়ে যাই। এমনও হয়েছে, প্রকাশনীর নাম জানি, অথচ খুঁজেই পাচ্ছি না।

 

মেলা প্রাঙ্গণে

❏    বিশেষ কোনো বই খোঁজার জন্য প্রকাশনীর নামের পাশাপাশি স্টল নম্বরটিও টুকে নিয়ো।

❏    বইমেলার প্রবেশপথেই একটি ম্যাপ দেওয়া থাকে, ওটা দেখে স্টল খুঁজে বের করাটা একটা অ্যাডভেঞ্চার বটে।

❏    সঙ্গে থাকা ছোট ভাই-বোন কেউ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে নিজে পড়িমরি করে খোঁজার আগে প্রাঙ্গণে থাকা তথ্যকেন্দ্রে জানাও।

❏    হারিয়ে যাওয়া শিশু বা বৃদ্ধ অথবা অন্য কাউকে সমস্যায় পড়তে দেখলে সাহায্য করতে ভুলো না।

 

জিদান বলল, ‘আমার একটা প্রস্তাব আছে। বইমেলার প্রাঙ্গণ এত বড়! আমরা কী শুধু বই কিনতেই যাব? আর কিছু করা যায় না?’ নুবার খোঁচা, ‘কেন, তুমি ওখানে খাবারের প্রতিযোগিতা চাও নাকি?’ জিদান বলল, ‘শোনো, বইমেলায় খাবারের স্থানও আছে। আমি অন্য কিছুর কথা বলছি। বছরে একবার এমন মেলা হয়। আমরা তো ইচ্ছা করলে আরো অনেক মজা করতে পারি।’

 

বইমেলায় অন্য কিছু

❏    যাদের আঁকার হাত ভালো, তারা মেলার সামনের রাস্তায় সবাই মিলে একদিন স্ট্রিট এক্সিবিশন করে ফেললে কেমন হয়? দু-চারটা ছবি বিক্রি হলে তো মন্দ হয় না। সেটা দিয়েও তো বই কেনা যায়।

❏    যাদের ফটোগ্রাফিতে আগ্রহ, তারাও বইমেলার ছবি তুলে নিজের সৃজনশীলতা জাহির করতে পারো।

❏    বড় হয়ে যারা সাংবাদিকতা করতে চাও, বইমেলা তাদের জন্য কাজের জায়গা। বইমেলায় গিয়ে অনেকের সঙ্গে কথা বলে লিখতে পারো মজার সব রিপোর্ট। সেটা পাঠিয়ে দিতে পারো পত্রিকাগুলোর ফিচার বিভাগে (যেমন—দলছুট)। পাঠক থেকে শুরু করে প্রকাশক, লেখকদের সঙ্গে আলাপ থেকে হয়তো বেরিয়ে আসতে পারে চমৎকার কোনো রিপোর্ট।

❏    সামাজিক কাজও করতে পারো বইমেলা ঘিরে। বন্ধুরা চাঁদা তুলে বই কিনে তা তুলে দিতে পারো কোনো পথশিশুর হাতে।

 

‘বুঝলাম। কিন্তু প্রিয়ান্তুর মতো যারা বইমেলায় গিয়ে হইচই বাধায়, তাদের জন্যও কিছু পরামর্শ দরকার।’ কটমটে দৃষ্টিতে সজীবের দিকে তাকাল প্রিয়ান্তু। অবস্থা বেগতিক। নরম গলায় কেশে সজীব বলল, ‘না মানে সবার ক্ষেত্রেই বলছি।’ কী কী কাজ বইমেলায় করা উচিত নয়, সেটিও জানা দরকার। ‘ঠিক ঠিক।’ সমস্বরে বলল সবাই।



মেলায় যা করবে না

❏    হই-হুল্লোড় করবে না একেবারেই।

স্টলকর্মীরা মারাত্মক ব্যস্ত থাকেন। অযাচিত প্রশ্ন করে তাঁদের বিরক্ত না করাই উত্তম।

❏    মাঠজুড়ে আছে অজস্র ডাস্টবিন। সব ধরনের আবর্জনা সেখানেই ফেলবে।

❏    লেখকদের কাছ থেকে অটোগ্রাফ বা সেলফি তোলার সময় তাঁদের ওপর হামলে পড়বে না। বিখ্যাতদের খানিকটা বিরক্ত করা দোষের নয়, তবে সেটা যেন সীমা না ছাড়ায়।

❏    জনপ্রিয় প্রকাশনীর সব বই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার বাতিক আছে অনেকের। এ কারণে স্টলের সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে তারা। এতে পেছনে থাকা দর্শনার্থীরা সামনে আসার সুযোগই পায় না। এমনটাও এড়িয়ে চলবে।


মন্তব্য