kalerkantho


ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে ইইউর তহবিল

তামান্না মিনহাজ   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে ইইউর তহবিল

ফিলিস্তিন ইস্যুতে পাঁচ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নতুন রাষ্ট্র গঠনে সহায়তার জন্য এই তহবিল। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের শান্তি আলোচনার যেকোনো প্রচেষ্টা এককভাবে না নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানোর পর ইইউ এ ঘোষণা দিল। সম্প্রতি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সংস্থাটির ফিলিস্তিনের উন্নয়ন সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিটি জরুরি বৈঠকে বসে। তাতেই আসে এই অর্থ-সহায়তার ঘোষণা। বৈঠকে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী, ইসরায়েল ও মিসরের মন্ত্রীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের একজন পদস্থ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। দুই রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের নীতি থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার পর প্রথম এ ধরনের কোনো বৈঠক হলো। এ ঘোষণা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাস্তবিক অর্থে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

নতুন ঘোষণা

বৈঠকে বলা হয়, ফিলিস্তিন নিয়ে যেকোনো ধরনের আলোচনার বিষয়বস্তু বহুপক্ষীয় হতে হবে। থাকতে হবে সব পক্ষ ও সহযোগীর অংশগ্রহণ। একপক্ষীয় পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনার পথ রুদ্ধ করবে বলেও সতর্ক করা হয়। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএকে সহায়তা দেওয়ার জন্যও এই বৈঠক ডাকা হয়। ইউএনআরডাব্লিউএর মোট অর্থের এক-তৃতীয়াংশ সহায়তা দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু চলতি বছরের জন্য ঘোষিত সহায়তা ট্রাম্প প্রশাসন অর্ধেকে কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয়। এর পরই বড় ধরনের অর্থসংকটে পড়ে সংস্থাটি। এ অবস্থা কাটাতে সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, জার্মানি, রাশিয়া, কুয়েত, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড অর্থ সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।

 

সংকটের ইতিহাস দীর্ঘ

১৯০২ সালে ৩৫ হাজার ইহুদি চলে আসে ফিলিস্তিনে। এরপর পালাক্রমে আরো কয়েক লাখ ইহুদি শরণার্থী এই অঞ্চলে আশ্রয় নেয়। ১৯৫৮ সালে এই অঞ্চলটি ইসরায়েল নামে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর পর থেকে যুদ্ধ, সহিংসতা লেগেই আছে। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর জর্দানের নিয়ন্ত্রণে আসে জেরুজালেম। কিন্তু ১৯৬৭ সালের পর সব বদলে যায় এক যুদ্ধে। সেই যুদ্ধের স্থায়িত্বকাল ছিল মাত্র ছয় দিন। সেই যুদ্ধে নাটকীয়ভাবে ইসরায়েল শুধু আরব দেশগুলোকে পরাজিতই করেনি, তারা মিসরের কাছ থেকে গাজা তীর ও সিনাই উপত্যকা দখলে নেয়। একই সময় জর্দানের কাছ থেকে ইসরায়েল দখলে নেয় পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম। এই যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে ওই অঞ্চলে। বর্তমানে পুরো এলাকাটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে।

 

সমাধান কোন পথে

ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হলেও তাদের দাবীকৃত জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে কোনো রাষ্ট্রই স্বীকৃতি দেয়নি। গত বছরের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে সে কাজটিই করে দেখান। তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরানোরও নির্দেশ দেন তিনি। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। জাতিসংঘ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে কোনো ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে না পারলেও সাধারণ পরিষদ এর বিরুদ্ধে ভোট দেয়। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি ট্রাম্প। জেরুজালেম প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া ১২৮টি দেশকে শত্রুরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেন। সম্প্রতি দেওয়া ট্রাম্পের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণেও জেরুজালেম প্রসঙ্গ উল্লেখ করে একই হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এ ক্ষেত্রে ইইউয়ের ভূমিকাও কম নয়। কোনো পক্ষকে বাদ দিয়ে ন্যায্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থনৈতিকভাবে মজবুত অবস্থানের কারণেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই মুখ্য ভূমিকায় আসছে ইইউ। এখন দেখার বিষয়, ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান ফিলিস্তিন সংকট ইইউর উদ্যোগে সমাধানে পৌঁছতে পারে কি না।



মন্তব্য