kalerkantho


রানারের ট্রাক গাইড করে চালককে

শওকত আলী    

২২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রানারের ট্রাক গাইড করে চালককে

ছবি : লুত্ফর রহমান

কিভাবে গাড়ি চলছে সেটা নিজেই মনিটরে দেখতে পাবেন ড্রাইভার। রানারের আইশার ব্র্যান্ডের নতুন একটি ট্রাকে এই প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান রানার মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিকুজ্জামান। কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি ট্রাকের নতুন এই ফিচারটির কথা তুলে ধরেন।

শফিকুজ্জামান বলেন, “সব কিছুর সঙ্গেই এখন প্রযুক্তির সংমিশ্রণ। আমরাও পিছিয়ে থাকতে চাই না। ‘ফুয়েল কোচিং’ নামের এই প্রযুক্তি গাড়ি চালানোর বিষয়টা চালককে ধরিয়ে দেবে। এতে করে কোনো ধরনের সমস্যা থাকলে চালক সেটা দ্রুত শোধরে নেবেন।”

আইশার প্রো-৩০১৫ মডেলের ১৫ টন ধারণক্ষমতার এই ট্রাকটি শুধু যে নির্দেশনাই দেবে তা নয়, এখানে অটোমেটেড এবং ম্যানুয়াল দুই প্রক্রিয়াতেই চালানোর সুবিধা রয়েছে। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন আসা এই ট্রাকটি বিক্রি হচ্ছে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। যেখানে দুই বছরের ওয়ারেন্টি এবং ছয়টি ফ্রি সার্ভিসিংয়ের সুবিধা থাকছে। শুধু এই গাড়িতেই নয়, আইশারের প্রতিটি পিকআপ ভ্যান ও ট্রাকেই রয়েছে এই সুবিধা। রানারের নিজস্ব ছয়টি, ডিলারদের সাতটি এবং অথোরাইজড আরো চারটি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে।

শফিকুজ্জামান আরো বলেন, ‘আমরা একসময় ভারতীয় গাড়ি বিক্রি করতাম। তারপর আইশার এবং ভলবো একসঙ্গে হওয়ার পরও আমরা একই গাড়ি বিক্রি করছি। দুটি কম্পানি এক হওয়ার পর থেকেই কোয়ালিটি আরো বেড়েছে।’

শফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ট্রাক ও পিকআপ এনে বিক্রি করছি। তবে আগামী বছর থেকে আমরা এর পাশাপাশি গাড়ির সংযোজন শুরু করব। নিজেদের কারখানায় সংযোজন করলে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে আরো কম দামে গাড়ি বিক্রি সম্ভব হবে।’

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বাস ও ট্রাকের ২৫ শতাংশ বাজার দখল করে রেখেছে। আগামী তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটি এই বাজারকে ৫০ শতাংশে নিয়ে যেতে চায়। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে তাদের যাত্রা শুরু করে তিন টন ধারণক্ষমতার ১০৭৫ মডেলের একটি পিকআপ দিয়ে। এখন এখানে নানা ধরনের গাড়ি বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে আইশারের ডাম্পার ট্রাকটি বেশ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাস ও ট্রাকের বাজারে বড় একটি জায়গা ধরে রাখার কারণ জানতে চাইলে শফিকুজ্জামান বলেন, ‘প্রথম দেখতে হবে জ্বালানিতে কতটা সাশ্রয় হয়। আমরা সেটা প্রতিযোগীদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছি। দ্বিতীয়ত, আমাদের পার্টসগুলো সহজলভ্য এবং দামে সস্তা। তৃতীয়ত, কন্ট্রোলিং বা নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা কোনো ছাড় দিই না। সর্বশেষ গাড়িটি চালাতে কতটা কমফোর্ট বোধ হয় সেটা দেখতে হবে। এই বিষয়গুলোতে আইশার কোনো ছাড় দেয় না বলেই বাজারে ভালো অবস্থানে রয়েছে।’

শফিকুজ্জামান মনে করেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব রাখে। প্রতিষ্ঠানকে ধীরে ধীরে ব্র্যান্ডিং করতে হবে। সার্ভিসের বিষয়টা এনশিওর করতে হবে। তা না হলে কাস্টমার আর আসবে না। একটা ভালো কাস্টমারের কথা শুনেই অন্য দুজন কাস্টমার বাড়ে। কোয়ালিটিতে ছাড় দেওয়ার কোনো ধরনের সুযোগ নেই। আর যেহেতু এটা টেকনোলজির যুগ, সেহেতু আমাদের টেকনোলজি ছাড়া চলবেই না। অর্থাৎ গাড়িতে অবশ্যই নতুন নতুন প্রযুক্তির সংযোজন করতে হবে।’

রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো সমস্যা নেই উল্লেখ করে শফিকুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান অবস্থা থাকলে আমাদের ব্যবসায় কোনো সমস্যা নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও আমরা ব্যবসা এগিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছি। পরিবেশটা সমানেও যেন এমনই থাকে।’

তবে দেশের রাস্তাঘাটগুলো আরো দ্রুত উন্নয়ন করা দরকার বলে মনে করেন এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, ‘আমাদের রাস্তাগুলো খুব বেশি ভালো নয়। এ জন্য যে গাড়িটা ১০ বছর চলার কথা সেটা ছয়-সাত বছরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে আশার কথা, অনেক উন্নয়নকাজ হচ্ছে। আর উন্নয়নকাজ বেশি হলে গাড়ির চাহিদাও বেড়ে যায়। আমাদেরও সুযোগ তৈরি হয় ব্যবসা প্রসারের। আমরা এই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছি এবং সামনেও এটার যথাযথ ব্যবহার করতে চাই। ’

আইশারের ১৬ লাখ ৯০ হাজার থেকে শুরু করে সাড়ে ২৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান রয়েছে।



মন্তব্য