kalerkantho


ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর

আরাফাত শাহরিয়ার   

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর

মাির্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুক্তরাজ্যে পা রাখলেন, ব্রেক্সিট নিয়ে তখন সেখানে চলছে চরম অস্থিরতা। ব্রাসেলসে ন্যাটো সম্মেলন শেষে দুই দিনের সফরে যুক্তরাজ্যে যান তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্পের এটিই প্রথম যুক্তরাজ্য সফর। ট্রাম্পের এই সফর ঘিরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে লন্ডন। বিক্ষোভকারীদের ভাষায়, ব্যক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্ণবাদী, মুসলিম ও নারীবিদ্বেষী, বিভেদের রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং ভীষণ রকম দাম্ভিক। অন্যদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও অপমান করে বিকৃত আনন্দ পান তিনি।

 

দুই দিনের সফর

১২ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে লন্ডনে অবতরণ করে এয়ার ফোর্স ওয়ান। যুক্তরাজ্যে নেমেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন ট্রাম্প। সেখানে ছিলেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার সাধারণ সম্পাদক লিয়াম ফক্স ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত উডি জনসন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের সঙ্গে ডিনারে অংশ নেন তিনি। সেখানে ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিভাবে এগোবে এ সম্পর্কে আলোচনা হয়। ভোজসভার আনন্দঘন পরিবেশে খবর বের হয় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে তাঁর কথা শোনেননি। যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার আগে ‘দ্য সান’ পত্রিকাকে ব্রাসেলসে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ১২ জুলাই রাতেই ট্রাম্পের ওই সাক্ষাত্কার অনলাইনে প্রকাশ করে দ্য সান।

 

সাক্ষাত্কারে যা বলেছেন ট্রাম্প

‘দ্য সান’ পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, টেরেসার ব্রেক্সিট পরিকল্পনা যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘনিষ্ঠতার সম্ভাবনাকে শেষ করে দেবে। যুক্তরাজ্যের সদ্য পদত্যাগী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী হলে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের কাজটি ভালো করতে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কাকতালীয়ভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগমনের দিনই ইইউর সঙ্গে ব্রেক্সিট-উত্তর সম্পর্কের পরিকল্পনা প্রকাশ করে যুক্তরাজ্য। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা ঘিরে দেশটির সরকারে চলছে চরম অস্থিরতা। সরকারের ব্রেক্সিট প্রস্তাবের সমালোচনা করে ব্রেক্সিট-বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস পদত্যাগ করেন। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পদত্যাগ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। এ তালিকায় নাম লেখান ব্রেক্সিট-বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্টিভ বেকার এবং ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির দুই ভাইস চেয়ার বেন ব্রাডলি ও মারিয়া কলফিল্ড। এমন উত্তাপের আগুনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ঘি ঢালল। সাক্ষাত্কারে ডোনাল্ড ট্রাম্প লন্ডন মেয়র সাদিক খানকে বিদ্বেষমূলক আক্রমণও করে বসেন।

 

রানির আগে ট্রাম্প

পরে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়ে নতুন সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ট্রাম্প। ১৩ জুলাই উইন্ডসর ক্যাসেলে রানি এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। তাঁরা সেখানে চা পান করেন। একসঙ্গে হেঁটে চলেন গার্ড অব অনার পরিদর্শনে। তাঁদের সেই হাঁটার ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যায়, হাঁটার সময় রানির আগে আগে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুধু রানির সঙ্গে সাক্ষাত্পর্বে বিতর্ক সৃষ্টি করেই থেমে থাকেননি ট্রাম্প। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের বিখ্যাত আরামকেদারায় বসে ছবি তোলেন তিনি। যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ব্রিটেনের রাজনীতিবিদরা।

 

ট্রাম্পের উল্টো সুর

১২ জুলাই ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে যে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন, পরের দিনই এই বিষয়ে সুর বদলে যুক্তরাজ্যের পক্ষে সাফাই গান ট্রাম্প। তিনি বলেন, টেরেসা মে ব্রেক্সিট নিয়ে খুবই ভালো কাজ করছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। পরস্পরকে প্রশংসা বন্যায় ভাসান তাঁরা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মে বলেন, ন্যাটো সম্মেলনে খুবই কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প উভয় দেশের বন্ধন আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন দুই দেশের সরকারপ্রধান। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে। তাই ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে যা করবেন, তা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।

 

কতটা সফল?

যুক্তরাজ্য সরকার ব্রেক্সিট-উত্তর ব্রিটেনের বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। তবে এই সফর কতটা সফল হয়েছে তা বলা মুশকিল।

সফরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিতভাবেই সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। টেরেসা মে বলেন, তাঁরা একটি কার্যকর বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে জনমানসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম যুক্তরাজ্য সফরের অভিজ্ঞতা বেশ তিক্ত হয়ে থাকবে। লন্ডনে তো বটেই, স্কটল্যান্ডেও ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।



মন্তব্য