kalerkantho


সরকারের তথ্য আপা প্রকল্পে ১৪৭৭ নিয়োগ

তথ্যসেবা কর্মকর্তা, তথ্যসেবা সহকারীসহ বেশ কয়েকটি পদে ১৪৭৭ জন লোক চেয়ে দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আবেদন করা যাবে ১১ মার্চ পর্যন্ত। বিস্তারিত জানাচ্ছেন রায়হান রহমান

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সরকারের তথ্য আপা প্রকল্পে ১৪৭৭ নিয়োগ

মডেল : মেহেদী ও মৌ ছবি : ইয়ামিন মজুমদার

ওয়েব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদে ১ জন, প্রগ্রামার পদে ১ জন, সহকারী প্রগ্রামার পদে ২ জন, তথ্যসেবা কর্মকর্তা পদে ৪৯০ জন, হিসাবরক্ষক পদে ১ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ২ জন এবং তথ্যসেবা সহকারী পদে ৯৮০ জন লোক চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় মহিলা সংস্থা। এসব নিয়োগ দেওয়া হবে সংস্থার ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পে। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়নের এই প্রকল্পে দ্বিতীয় পর্যায়ে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে। অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে পাঁচ বছরের জন্য। নিয়োগপ্রাপ্তদের কাজ হবে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে নারীদের সহায়তা করা। বিজ্ঞপ্তি দুটি পাওয়া যাবে www.totthoapa.gov.bd/en/node/714 ওয়েব ঠিকানায়।

 

আবেদনের যোগ্যতা

ওয়েব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, প্রগ্রামার ও সহকারী প্রগ্রামার পদে আবেদনের যোগ্যতা কম্পিউটারবিজ্ঞান, সিএসই বা আইসিটি বিষয়ে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ নিয়ে চার বছরের স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি। সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, সহকারী সিস্টেম অ্যানালিস্ট, সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার, সহকারী ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, সহকারী ওয়েব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদে কমপক্ষে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা লাগবে। সহকারী প্রগ্রামার পদে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। আইটিএস বা সমমানের সার্টিফিকেটধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তথ্যসেবা কর্মকর্তা ও তথ্যসেবা সহকারী পদ দুটিতে শুধু মহিলারা আবেদন করতে পারবেন। তথ্যসেবা কর্মকর্তা পদে আবেদনের যোগ্যতা স্নাতক অথবা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে সিএসই বা আইসিটি বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি। এইচএসসি হলেই আবেদন করা যাবে তথ্যসেবা সহকারী পদে। পদ দুটির জন্য বেসিক আইটিতে ডিপ্লোমা থাকতে হবে। মাইক্রোসফট অফিস, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এবং ভিডিও কনফারেন্সিং কাজে দক্ষ হতে হবে। তথ্যসেবা সহকারী পদে ৪৯০টি উপজেলায় নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন করতে হবে নিজ উপজেলায়। উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে অন্য উপজেলার প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। বাইসাইকেল চালনায় পারদর্শী হলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

হিসাবরক্ষক পদে বাণিজ্যে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কম্পিউটার এবং অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যারে দক্ষতা থাকতে হবে। অফিস সহকারী কাম কমিম্পউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে আবেদনের যোগ্যতা স্নাতক। বিজ্ঞান বিভাগের প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। মুদ্রাক্ষরে প্রতি মিনিটে বাংলা ও ইংরেজিতে কমপক্ষে ২০ শব্দের গতি থাকতে হবে।

তথ্য আপা প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সব পদেই অভিজ্ঞতার বিষয়টি শিথিলযোগ্য। কোনো  পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ থাকলে আবেদন করা যাবে না। ওয়েব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও প্রগ্রামার পদ ছাড়া সব পদেই স্ট্যান্ডার্ড অ্যাপটিটিউড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বয়সসীমা ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের বয়সসীমা ৩২ বছর।

 

আবেদন যেভাবে

অনলাইনে শুরু হয়ে গেছে আবেদনপ্রক্রিয়া। আবেদন করা যাবে ১১ মার্চ পর্যন্ত। আবেদন করার জন্য দুটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে নিবন্ধন করতে হবে, পরে আবেদন। সরকারের ই-রিক্রুটমেন্টের ওয়েবসাইটে (erecruitment.bcc.gov.bd) প্রবেশ করে মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল আইডি দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর ই-মেইলে দেওয়া হবে একটি পাসওয়ার্ড। পরে পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে আবেদন করতে হবে। পরে নির্দেশনা অনুসারে তথ্য দিলেই আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নিবন্ধন বা আবেদনের জন্য কোনো ফি লাগবে না।

 

যা যা লাগবে

লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মৌখিক পরীক্ষার সময় সঙ্গে নিতে হবে সদ্য তোলা তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া চারিত্রিক সনদপত্র, সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরিরত প্রার্থীদের কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করলে তার সনদপত্রের এক কপি ফটোকপি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা দিয়ে সত্যায়িত করে মূল কপির সঙ্গে জমা দিতে হবে।

 

পরীক্ষার সময় ও তারিখ

পরীক্ষার সময় ও কেন্দ্রের ঠিকানা ই-মেইল ও এসএমএসের মাধ্যমে প্রার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

পরীক্ষার ধরন

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। পদ অনুসারে নেওয়া হবে ব্যবহারিক পরীক্ষাও। তথ্য আপা প্রকল্পের পরিচালক মীনা পারভিন জানান, নম্বর বণ্টনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত না হলেও সাধারণত ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হয়ে থাকে। পরে দিতে হয় কম্পিউটার টেস্ট। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে।

 

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাবেক তথ্য সহকারী ইসরাত জাহান নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানে ২৫ নম্বর করে বরাদ্দ থাকে। সঙ্গে থাকে কম্পিউটার টেস্ট। সাধারণত প্রশ্ন আসে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্য বই থেকে। স্নাতক পর্যায়ের বই থেকেও প্রশ্ন থাকতে পারে। বাংলায় ব্যাকরণ থেকে সাধারণত এককথায় প্রকাশ, বাগধারা, ণত্ব বিধান, ষত্ব বিধান থেকে প্রশ্ন আসে। সাহিত্য অংশে বিভিন্ন গল্প-কবিতা বা লেখকের জীবনী থেকে প্রশ্ন আসে।

গণিতে সুদকষা, ঐকিক নিয়ম, অনুপাত, সমানুপাত, শতকরা, লসাগু-গসাগু, লাভ-ক্ষতি, ভগ্নাংশ, লগারিদম থেকে প্রশ্ন আসে।

ইংরেজিতে গ্রামার অংশে Tense, Parts of speech, Verb, Translation, Number, Gender, Narration, Voice Change, Correct Form of Verbs, Pronunciation, Synonym, Antonym, Transformation of Sentence, Appropriate Word, Idioms and Phrases থেকে প্রশ্ন আসে। দেখতে হবে English for today-র অনুশীলনগুলো।

সাধারণ জ্ঞান থেকে সমসাময়িক বিষয়ের ওপর প্রশ্ন আসে। ভালো করতে চাইলে একাধিক দৈনিক পত্রিকা পড়তে হবে। সমসাময়িক বিষয়, ঐতিহ্য, ইতিহাস, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, দেশভাগ, ছয় দফা থেকে প্রশ্ন আসে। সঙ্গে দেখতে হবে আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোও।

 

মৌখিক পরীক্ষা

প্রকল্পের কর্মীদের কাজ করতে হয় প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সাধারণ মানুষের কাছে চাহিদা অনুসারে তথ্য পৌঁছে দিতে হয়। তাই মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীদের পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ধারণা, তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞান, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করার মানসিকতা, যোগাযোগ দক্ষতা ইত্যাদি বিষয় দেখা হয়।

 

বেতন ও সুযোগ-সুবিধা

ওয়েব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও প্রগ্রামার পদে সাকল্য বেতন দেওয়া হবে ৫৬৫২৫ টাকা। সহকারী প্রগ্রামার পদে সাকল্য বেতন দেওয়া হবে ৩৫৬০০ টাকা। তথ্যসেবা কর্মকর্তা পদে সাকল্য বেতন দেওয়া হবে ২৭১০০ টাকা। হিসাবরক্ষক পদে সাকল্য বেতন দেওয়া হবে ১৮৩০০ টাকা। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও তথ্যসেবা সহকারী পদে সাকল্য বেতন দেওয়া হবে ১৭০৪৫ টাকা।

 

যোগাযোগ

যেকোনো তথ্যের জন্য সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে জাতীয় মহিলা সংস্থা, ১৪৫ নিউ বেইলি রোড, ঢাকা ঠিকানায়। অথবা জানা যাবে প্রকল্পের ওয়েবসাইটে (www.totthoapa.gov.bd)|



মন্তব্য