kalerkantho


ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি

তাত্ক্ষণিকভাবে মোটিভেট করতে বলা হয়েছিল

চাকরির জন্য সাক্ষাত্কার দিতে গিয়ে অনেকেরই হয় নানা অম্লমধুর অভিজ্ঞতা। ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মাসুম বিল্লাহ্

৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



তাত্ক্ষণিকভাবে মোটিভেট করতে বলা হয়েছিল

প্রথম চাকরির সাক্ষাত্কার দিয়েছিলাম একটি বহুজাতিক ব্যাংকে। প্রথম ভাইভায়ই চাকরিটা হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে সবে বিবিএ শেষ করেছি। বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। ভাইভা শুরুর অনেক আগেই উপস্থিত হয়েছিলাম ফর্মাল পোশাকে। প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘আপনার নিজের সম্পর্কে বলুন। ’ এ প্রশ্নের উত্তরেই সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ ছিলাম। নিজের সম্পর্কে আমিই তো সবচেয়ে ভালো জানি! এই একটি প্রশ্নের মাধ্যমেই প্রার্থীর মান অনেকখানি যাচাই করে ফেলা যায়।

একটি প্রশ্ন ছিল, ‘আপনাকে কেন এই চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া উচিত?’ ভাইভার আগেই ওয়েবসাইটে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিয়েছিলাম। প্রশ্নের উত্তরে আমার পঠিত বিষয় ফিন্যান্সের বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক দিক তুলে ধরেছিলাম, যা ওই চাকরির দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উল্লেখ করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা।

আরেকটি প্রশ্ন ছিল, ‘আপনার সবচেয়ে বড় স্ট্রেন্থ কোনটি?’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমি মানুষকে খুব ভালোভাবে মোটিভেট করতে পারি। ’ ভাইভা বোর্ডের একজন সদস্যকে তাত্ক্ষণিকভাবে মোটিভেট করে দেখাতে বলা হলো। তা-ও আবার নির্ধারিত বিষয়ের ওপর। তিনি ধূমপান করেন। তাঁকে এমনভাবে মোটিভেট করতে হবে, যাতে তিনি ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। আমি তা-ই করার চেষ্টা করলাম। অবশেষে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলো, তিনি আমার কথায় মোটিভেট হয়ে ধূমপান ছেড়ে দেবেন কি না। মজার বিষয় হলো, তিনি জবাব দিয়েছিলেন, ‘না। ’

ব্যতিক্রমী প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলাম একটি দেশীয় বেসরকারি ব্যাংকের ভাইভা বোর্ডে। জানতে চাওয়া হয়েছিল—‘আপনাকে এই পদের জন্য কেন নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়?’ উত্তর দিয়েছিলাম এভাবে, ‘আপনারা এ পদের জন্য যদি এমন কাউকে খুঁজে থাকেন, যাকে প্রতিটি কাজের জন্য লাইন বাই লাইন নির্দেশনা দিতে হবে, তাহলে এ পদে আমাকে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। কারণ আমি বিস্তারিত নির্দেশনার চেয়ে সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে ভালো ফল অর্জন করতে পারি। ’

এইচএসবিসি ব্যাংকের ভাইভা বোর্ডে একটি প্রশ্ন ছিল, ‘পাঁচ বছর পর আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান?’ উত্তরে আমি মিড লেভেলের একটি পদের নাম উল্লেখ করেছিলাম। আমার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়েছিল। উত্তরে এমবিএ ও প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং ডিগ্রি নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে এমবিএ করেছিলাম চাকরিরত অবস্থায়।

এইচএসবিসি ও তার আগের চাকরির সাক্ষাত্কারে আমার চাকরি পরিবর্তনের কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল। উত্তরে নতুন চাকরিতে ভিন্ন বিভাগে কাজ করার অভিপ্রায়ের কথা বলেছিলাম। চাকরির সাক্ষাত্কার দিতে গিয়ে যেকোনো ধরনের প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতাম। মাথায় ছিল আমার এক বন্ধুর ভাইভা বোর্ডের অভিজ্ঞতা। একটি বহুজাতিক কম্পানির চাকরির সাক্ষাত্কারে বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেটি হলো, ‘আপনি মানুষ না হয়ে অন্য কোনো প্রাণী হলে কী হতেন এবং কেন?’ এ ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিয়োগকর্তা বুঝতে চান—একজন চাকরিপ্রার্থী কিভাবে বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন এবং মেজাজ হারিয়ে ফেলেন কি না।


মন্তব্য