kalerkantho


নিয়োগকর্তা বললেন

আগের পরীক্ষার ভুলত্রুটি অ্যানালিসিস করতে হবে

প্রার্থী বাছাইয়ের বেলায় কী কী বিষয় দেখেন নিয়োগকর্তারা? নিয়োগ প্রক্রিয়ার নানা বিষয়ে কথা বলেছেন জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা দিলীপ কুমার শিকদার। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন আরাফাত শাহরিয়ার

২২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আগের পরীক্ষার ভুলত্রুটি অ্যানালিসিস করতে হবে

দিলীপ কুমার শিকদার। ছবি : কাকলী প্রধান

দেশের অন্যতম ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান জেনারেল ফার্মা। এ প্রতিষ্ঠানে কেমন কাজের সুযোগ রয়েছে?

আমাদের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হয়ে থাকে। এ বছর আমরা প্রায় ৩৫০ জন মেডিক্যাল প্রমোশন অফিসার নিয়োগ করেছি। হেড অফিসে প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্ট, এইচআরডি, কমার্শিয়াল ও গ্লোবাল মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। ডিস্ট্রিবিউশন, প্রডাকশন, কিউসি, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টেও কাজের সুযোগ আছে।

নিয়োগের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় দেখেন?

মার্কেটিং বিভাগে নিয়োগের বেলায় ন্যূনতম গ্র্যাজুয়েট হতে হয়। বিজ্ঞান ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সবচেয়ে বেশি নিয়োগ পান কমপক্ষে এসএসসি পর্যন্ত বিজ্ঞান ব্যাকগ্রাউন্ডের গ্র্যাজুয়েটরা। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া স্মার্টনেস, বুদ্ধিমত্তা, কমিউনিকেশন স্কিল, সাবজেক্ট নলেজ ও কাজ করার আগ্রহ দেখে থাকি।

কী কী বিষয় অযোগ্যতা হিসেবে দেখা হয়?

আনস্মার্ট, প্রশ্নে অমনোযোগী, ইন্টারভিউয়ারদের ‘আই কন্টাক্ট’ না করে অসংলগ্ন উত্তর দেওয়া এবং বেতনকেই মুখ্য বলে মনে করাকে আমরা অযোগ্যতা মনে করি।

ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে একজন প্রার্থী কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবে?

মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে চটপটে ও মিষ্টভাষী হতে হবে। নিজেকে সহজে উপস্থাপন করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

নতুনদের জন্য সুযোগ কেমন?

আমরা ফ্রেশারদের বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। নিয়োগের পর নতুনদের আমাদের চাহিদামতো তৈরি করে নিই।

সিভি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

সিভি প্রার্থীর দর্পণ হিসেবে কাজ করে। চাকরির জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রার্থীর আছে কি না, তা বায়োডাটা থেকেই জানতে পারি।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধাপগুলো কী?

নিয়োগ প্রক্রিয়ার দুটি ধাপ, একটি রিক্রুটমেন্ট, অন্যটি সিলেকশন। কর্মীর চাহিদাপত্র, কর্মতালিকা তৈরিসহ বিজ্ঞাপন দিয়ে বায়োডাটা সংগ্রহ করা পর্যন্ত প্রথম ধাপ এবং নির্বাচনী পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত নির্বাচন করে প্লেসমেন্ট পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ। লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ও গ্রুপ ডিসকাশনের মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন করে থাকি। রিক্রুটমেন্ট ও সিলেকশনের জন্য আমাদের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর রয়েছে। প্রশ্ন সাধারণত সাবজেকটিভ হয়। সাধারণ জ্ঞান, গণিত থাকে, ইংরেজি লেখার দক্ষতাও দেখা হয়।

মৌখিক পরীক্ষায় কী ধরনের প্রশ্ন করা হয়ে থাকে? কিভাবে ভালো করতে পারে?

নিজেকে উপস্থাপন করতে বলা হয় ভাইভা বোর্ডে। পরীক্ষার্থীর স্ট্রং পয়েন্ট ও উইক পয়েন্ট কী, যে জবটির জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন, সেটি সম্পর্কে তিনি কতটা জানেন—এসব প্রশ্ন করা হয়।

আমাদের কম্পানি সম্পর্কে তথ্য জানেন কি না, আমরা তাঁকে নিয়োগ দিলে তিনি কী কী বিষয়ে কাজে সাহায্য করতে পারবেন, কোথাও কাজ করলে সেই চাকরিটি কেন ছাড়বেন, আগের কর্মস্থলে তাঁর উল্লেখযোগ্য কোনো পারফরম্যান্স আছে কি না এসব জানতে চাওয়া হয়। কাজ করতে গিয়ে কখনো ঝামেলায় পড়েছিলেন কি না এবং তা থেকে উত্তরণে কী পন্থা অবলম্বন করেছিলেন—এ ধরনের প্রশ্নও করে থাকি।

ইন্টার্নশিপ কি কাজের ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখে?

ইন্টার্নশিপ অনেকটা কাজে হাতেখড়ি দেওয়ার মতো। তাই এটি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখে।

ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে কর্মীরা কেমন সুযোগ-সুবিধা পান?

অনেক সেক্টরের চেয়ে ফার্মা সেক্টরে বেতন বেশি। সমসাময়িক ফার্মা কম্পানিগুলোর বেতন বিশ্লেষণসহ মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করে আমরা বেতন নির্ধারণ করে থাকি। টার্গেট বা লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে অতিরিক্ত আয়েরও সুযোগ আছে।

চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে আপনার বিশেষ কোনো পরামর্শ—

নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করাটা আয়ত্ত করতে হবে।  ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়াতে হবে। নিয়মিত পত্রপত্রিকা পড়তে হবে। যে কম্পানিতে ও যে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে যেতে হবে। নিজের পাঠ্য বিষয় সম্পর্কেও ভালো ধারণা নিয়ে যেতে হবে। আগের চাকরির পরীক্ষার ভুলত্রুটি অ্যানালিসিস করতে হবে, যাতে পরের পরীক্ষায় ভালো করতে পারে। আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে, সাফল্য আসবেই।



মন্তব্য