kalerkantho

26th march banner

বিসিএস লিখিত পরীক্ষা

এগিয়ে থাকুন নিজের পড়া বিষয়ের দক্ষতার পরীক্ষায়

৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লিখছেন বিগত পরীক্ষার শীর্ষ মেধাবীরা। ছয় পর্বের বিশেষ ধারাবাহিকের শেষ কিস্তি আজ। লিখেছেন ৩১তম বিসিএসে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম ফারহানা জাহান উপমা

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এগিয়ে থাকুন নিজের পড়া বিষয়ের দক্ষতার পরীক্ষায়

প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। যে যে বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, সে বিষয় বেছে নিতে হবে। ধরা যাক, আপনি বাংলা বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। এ বিষয়ে আপনাকে অতিরিক্ত ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। প্রথম পত্রে ১০০ ও দ্বিতীয় পত্রে থাকবে ১০০ নম্বর। ইংরেজিতে স্নাতক হলেও দুই পত্রে মোট ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় বসতে হবে। পদার্থ, রসায়ন, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, হিসাববিজ্ঞান, ম্যানেজমেন্ট বা যা-ই আপনার পড়ার বিষয় হোক না কেন, একইভাবে ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় বসতে হবে।

নিজের পড়া বিষয় বলে এটিকে হেলাফেলায় নেন অনেকে। এ বিষয়ের প্রস্তুতিতে একদম সময় দিতে চান না। অথচ বিসিএসের ফলাফলে বড় ব্যবধান গড়ে দিতে পারে এটি। প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডার পেতে চাইলে এ বিষয়ে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি কারো জন্যই কঠিন হওয়ার কথা নয়। নিজের বিষয়ে ভালো ধারণা থাকলেই এ পরীক্ষায় ভালো করা যায়। স্নাতক বা অনার্স পর্যায়ে যে বিষয় পড়ে এসেছেন, তা বারবার ঝালিয়ে নিতে হবে। তবে তা পড়তে হবে সিলেবাস দেখে। নিশ্চয়ই হাতের কাছে বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস আছে। না হলে নামিয়ে নিতে পারেন www.bpsc.gov.bd/site/forms/1df76bf8-285d-46ff-bd75-1b4515ecebcc লিংক থেকে। সিলেবাসে কোন বিষয়ে কী কী টপিক পড়তে হবে তার একটি নির্দেশনা আছে। সিলেবাস অনুসারে বারবার ঝালিয়ে নিতে হবে আগের পড়া বিষয়গুলো। বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য অনার্স পর্যায়ের বই পড়লেই ভালো করা যাবে। প্রয়োজন অনুসারে দেখা যেতে পারে মাস্টার্স পর্যায়ের বইও। বাজারে পাওয়া যায় বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিমূলক বই। এসব বই প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে। প্রয়োজনীয় টপিকের নাম বাংলা বা ইংরেজিতে লিখে ইন্টারনেটে সার্চ দিতে পারেন। তাতে অনেক দরকারি তথ্য হাতের নাগালে চলে আসবে।

সিলেবাসের পর নজর দিন বিসিএসে আসা বিগত বছরের প্রশ্নগুলোর দিকে। এতে প্রশ্ন কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পেয়ে যাবেন। দশম থেকে ৩৬তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন প্রস্তুতিতে কাজে আসবে।

মনে রাখবেন, শুধু ভালো প্রস্তুতি থাকলেই হয় না; ভালো পরীক্ষা দেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন যেমনই হোক না কেন, আপনাকে গুছিয়ে লিখে আসতে হবে। সব প্রশ্নের উত্তর করার চেষ্টা করা উচিত। সাদামাটা লিখে ভালো নম্বর পাওয়ার আশা করা বৃথা। লেখায় প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয় সব তথ্য থাকা চাই। কম তথ্য, পুনরাবৃত্তি ও ভুল তথ্য নম্বর কমিয়ে দেয়। নম্বরের সঙ্গে উত্তরের পরিধির সামঞ্জস্য, আপডেট ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের অবতারণা আপনাকে এগিয়ে রাখতে পারে। হাতের লেখা সুন্দর হলে ভালো। না হলেও অসুবিধা নেই, যা লিখছেন তা যেন স্পষ্ট হয়। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নীল কালিতে কোটেশন আর রেফারেন্স দিতে পারেন।

পরীক্ষায় প্রশ্ন হুবহু কমন না এলে ধারণা থেকে বানিয়ে লিখে আসতে হবে। নিজের পড়া বিষয়ের যেকোনো টপিকের ওপর ধারণা নিশ্চয়ই আপনার আছে। কম সময়ে অনেক লিখতে হয়। তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নিন, কোন প্রশ্নের উত্তর কত সময়ে শেষ করবেন। কোন প্রশ্নের উত্তর কত পৃষ্ঠা লিখতে হবে, সেটা নির্ভর করে প্রশ্নটির নম্বর, গুরুত্ব, সময় আর আপনার লেখার দ্রুততার ওপর। টপিক ধরে ধরে ফ্রিহ্যান্ড লেখার অভ্যাস অন্যদের চেয়ে আপনাকে এগিয়ে রাখতে পারে।


মন্তব্য