kalerkantho

‘শব্দ যেথায় সূর্যসত্য’

ধ্বনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবৃত্তি ও প্রমিত উচ্চারণচর্চার সংগঠন। এটির কথা জানাচ্ছেন আদীব আরিফ

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




‘শব্দ যেথায় সূর্যসত্য’

চলছে ‘ধ্বনি’র পরিবেশনা

‘অ... আ... ই... উ... ও... এ... অ্যা...

মনকে বলো মোন, নদীকে বলো নোদী

আহ্বান নয় রে পাগলা!

উচ্চারণ হবে—আওবান।’

টিএসসির ৯ নম্বর কক্ষে প্রতিদিন বিকেলে এভাবে শোনা যায় শুদ্ধ উচ্চারণের অবিরাম চেষ্টা আর আবৃত্তির ঝংকার। এখানে নিয়মিত অনুশীলন করে ‘ধ্বনি’। প্রগতিশীল শিল্পচর্চার মাধ্যমে একটি সত্য সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে এই আবৃত্তি সংগঠনটি। তাই এর স্লোগান—‘দিগন্তে চলো শব্দ যেথায় সূর্যসত্য’। পড়ালেখার পাশাপাশি আবৃত্তিচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুস্থ সংস্কৃতি ও সুন্দর মন গড়ে তোলায় দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকা রাখছে সংগঠনটি। নিজেদের মেধা ঝালাইয়ে জাতীয় আবৃত্তি উত্সব ও সাংস্কৃতিক উত্সবে এটি নিয়মিতই অংশ নেয়। সাফল্যের পাল্লাও বেশ ভারী। তা ছাড়া বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, ঢাকা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সঙ্গেও যুক্ত থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সংগঠনটি বিশেষ অবদান রাখছে। ‘ধ্বনি’ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে ১২ অক্টোবর ১৯৯৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সংস্কৃতিপ্রেমী শিক্ষার্থীর হাত ধরে এর পথচলা শুরু। শুরুতে ছিলেন আতিক আকবর, বিপ্লব সাহা, মাহবুবুল ইসলাম, জসিমউদ্দিন, আফরোজা শারমিন, মশিউর রহমান, ফাতেমা পুষ্প ও আরো অনেকে। এ পর্যন্ত এর সদস্যসংখ্যা ২৫৪ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে অনেকেই ক্যাম্পাস ছাড়লেও ‘ধ্বনি’র সঙ্গে জড়ানো মায়া কাটাতে পারেন না। সময় পেলে এখনো চলে আসেন ক্যাম্পাসে; নজরে রাখেন সংগঠনটির কার্যক্রম। গত ডিসেম্বরে পালিত হয় এটির দুই দশক পূর্তি আবৃত্তি উত্সব।

দম ও মান ধরে রাখার জন্য প্রতিবছর ‘ধ্বনি’র নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এখন সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সোহানুর রশীদ মুন; সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আল গালিব। তাঁদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, বছরের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের কবিতার মন্ত্রে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁদের শুদ্ধ উচ্চারণ শেখানোর জন্য খ্যাতিমান আবৃত্তি শিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় তিন মাসমেয়াদি ‘আবৃত্তি ও বাক-উত্কর্ষ’বিষয়ক কর্মশালা। বছরে একবার আয়োজন করা হয় তিন দিনব্যাপী আবৃত্তি উত্সব। সেখানে সংগঠনের পক্ষে গুণী শিল্পীদের দেওয়া হয় সম্মাননা। সংগঠনটির অন্যান্য নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মাসিক কবিতা পাঠের আসর, মাসিক পাঠচক্র ইত্যাদি। এ ছাড়া বছরের বিভিন্ন সময়ে সামাজিক শোষণ-নিপীড়ন, অসংগতি ও অশুভ শক্তির প্রতিবাদে কবিতা আবৃত্তির আয়োজন তো থাকেই! তাই এটিকে স্রেফ একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনই নয়; বরং সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবেও গণ্য করেন এর সদস্যরা।

প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম চার বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করা আতিক আকবর জানালেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে একটি স্বপ্ন দাঁড় করিয়েছি। সেদিনের ছোট সেই স্বপ্নটি হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ একটি বড় সাংস্কৃতিক সংগঠন হয়ে উঠেছে—এটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’

 

মন্তব্য