kalerkantho


বই পড়তে পড়তে কখন সকাল হয়েছে টের পাইনি

শাওন

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বই পড়তে পড়তে কখন সকাল হয়েছে টের পাইনি

ইমতিয়াজ হোসেন শাওনের বই পড়া শুরু মূলত চতুর্থ শ্রেণিতে ওঠার পর থেকে। তার এক সহপাঠীর ছিল ঘরভর্তি বই। ওই বন্ধুর বাসায় নিয়মিত যেত। তার কাছ থেকে দু-চারটি বই নিয়ে পড়া শুরু করে। তখনো অতটা বইপোকা হয়ে ওঠেনি। তবে দিন দিন বই পড়ার প্রতি ভালোলাগা বাড়তে থাকে। হাই স্কুলে ওঠার পর একটা অসাধারণ ফ্রেন্ড সার্কেল তৈরি হয় শাওনের। ‘একদিন স্কুল পালিয়ে সার্কেলের একজনের বাসায় গেলাম। তার বাসায়ই রকিব হাসানের তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১২৬/২ পেলাম। এক বন্ধু নিয়ে গেল পড়বে বলে। ওই বন্ধু পড়ার পর আমাকে দিল। বইয়ের নেশা এখান থেকেই শুরু। তারপর থেকেই আমার নিয়মিত বই পড়া শুরু হয়। সারা দিন পড়তাম। তিন গোয়েন্দার পাশাপাশি সেবা প্রকাশনীর অন্যান্য বইও পড়া শুরু করে দিই তখন,’ জানাল শাওন। এখন অনেকের লেখাই পড়ে। প্রিয় লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের দূরবীন সবচেয়ে প্রিয় বই। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে বই কেনার অভ্যাস গড়ে ওঠে ক্লাস সিক্সে। ঈদ সালামি বাঁচিয়েও বই কিনত। ৫-১০ টাকা করে জমিয়ে বই কিনে ভর্তি করেছে বুকশেলফ। একসময় বইয়ের দোকানের কর্মচারীরা শাওনের পরিচিত হয়ে যায়। ফলে বাকিতে বই নিতেও আর সমস্যা হতো না। ক্লাস নাইনে ওঠার আগেই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালী, আরণ্যক, ইছামতী, চাঁদের পাহাড় আর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুলনাচের ইতিকথা, জননী পড়া শেষ করে। তত দিনে হুমায়ূন আহমেদ ও মুহম্মদ জাফর ইকবালের বই পড়া শুরু করেছে। ‘সামনে যে বই পেতাম পড়ে ফেলতাম।’ বলল শাওন।

থ্রিলার পড়তে বেশি ভালো লাগে শাওনের। জেমস বন্ড, শার্লক হোমস, এরকুল পোয়ারোর অনেক বই পড়েছে। ‘সেবার বইগুলো ছোট আর সুলভ মূল্যে হওয়ায় মূলত আমার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল, পড়েছি অনেক। বাতিঘরের বইও পড়া শুরু করলাম। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রচুর বই পড়েছি’ বলল শাওন।

দশম শ্রেণিতে উঠে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কিশোর উপন্যাস সমগ্র পড়া শুরু করে। তখন তার বই পড়ার সঙ্গী ছিল আরেক বইপোকা বন্ধু। দুজন মিলে প্রচুর বই পড়ত। আর বই কেনার টাকার সবচেয়ে বড় একটা অংশ পিএসসি ও জেএসসির পরীক্ষার বৃত্তির টাকা থেকে আসত। জন্মদিনেও বই উপহার পেয়েছে। কারণ তখন সবাই জেনেছে শাওন কী পছন্দ করে। একবার অনেক দিন টাকা জমিয়ে নীলক্ষেত গিয়ে একেবারে ২৭-২৮টি বই কিনে ফেলে। প্রায় হাজার খানের বই সংগ্রহে আছে তার। শাওন এখন পড়ছে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে একাদশ শ্রেণিতে। বই পড়া নিয়ে মজার কোনো ঘটনা জানতে চাইতেই শাওন বলে, ‘একবার রাতে সাতকাহন পড়তে বসেছি। কখন সকাল হয়ে গেছে টেরই পাইনি। আবার টেক্সট বুকের নিচে বা ক্লাস চলাকালে গল্পের বই লুকিয়ে পড়তে গিয়ে ধরা খাওয়ার অভিজ্ঞতা বিব্রতকর হলেও এখন মজাই লাগে।’

 গ্রন্থনা : জুবায়ের আহম্মেদ



মন্তব্য