kalerkantho


চ্যাম্পিয়ন নারী ক্রিকেট দলের গল্প

আদীব আরিফ   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০




চ্যাম্পিয়ন নারী ক্রিকেট দলের গল্প

চ্যাম্পিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট দল

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট দল। ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দলকে হারিয়েছে তারা। আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়ায় ১ ফেব্রুয়ারি। চ্যাম্পিয়ন দলের সহ-অধিনায়ক নুসরাত জাহান বলেন, ‘টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিপক্ষ। তারা নির্ধারিত ১৬ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৬ রান করে। আমরা ৪ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতেছি।’

এই দলের অধিনায়ক ও জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের ওপেনার শারমিন আক্তার সুপ্তা অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সাত বছর ধরে জাতীয় দলে খেললেও বিশ্ববিদ্যালয় দলের সদস্যরা বেশির ভাগই ক্রিকেটে একেবারে নতুন। তবু ওদের আগ্রহ ও খেলার প্রতি ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

ফাইনাল ম্যাচটির একই দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৪৩তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফাইনাল। ফলে ক্রিকেট দলের অনেক খেলোয়াড়ই সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়ায় অংশ নিয়ে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ক্রিকেট খেলেছেন। এই দিনে দলের অধিনায়ক সুপ্তা পেয়েছেন ট্রিপল সাফল্য। সকালে বার্ষিক ক্রীড়ায় দ্রুততম মানবীসহ সর্বোচ্চ ২০ পয়েন্ট নিয়ে নারীদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ছিলেন ১৭ জন—সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শারমিন আক্তার সুপ্তা, আলিফ আমরিন ও বিজলী তঞ্চঙ্গ্যাঁ, লোক প্রশাসনের নুসরাত জাহান, ইংরেজির রুকাইয়া সরকার পাখি, পদার্থবিজ্ঞানের এমরাতুল জান্নাত স্বপ্না, উমাইয়্যা আফরিন ও মৌসুফা ইসহাক স্বর্ণা, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজের তাসনুভা তাজিন ইভা, পরিবেশ বিজ্ঞানের মদিনা ও লাবনী সিনহা, চারুকলার মরিয়ম আক্তার মিতু, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্সের মোছা. জেমী খাতুন, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমসের খাদিজা আক্তার নীলা, রসায়নের তাজরীন ইসলাম তন্বী, দর্শনের তাসনিয়া তাহসিন এবং গণিত বিভাগের জেবুন নাহার সাথী।

দলটির কোচ ছিলেন শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক দেবব্রত পাল। ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর মনোয়ারা খানম ছিলেন সহকারী কোচ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক বিভাগের পরিচালক হাবিবা ইয়াসমিন ছিলেন সার্বিক সহযোগিতায়। দলের ম্যানেজার ছিলেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. এ টি এম আতিকুর রহমান এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক সোলনারা তানিয়া।

টিম গঠনের উদ্যোক্তা ও খেলোয়াড় রুকাইয়া সরকার পাখি বলেন, ‘দল গঠনের জন্য একা একা পোস্টারিং করেছি। অনেকে বিদ্রূপ করেছে। চ্যাম্পিয়ন হয়ে তার জবাব দিতে পেরেছি।’



মন্তব্য