kalerkantho


চৌকস

অভিনয়ে সিফাত

আবৃত্তিচর্চা চলছে ছোটবেলা থেকেই। আবার অভিনয়েও পুরস্কার পেয়েছে অনেক। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিফাত উল ইসলাম বাবরের গল্পটা শোনাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



অভিনয়ে সিফাত

‘গত বছরের ঘটনা। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে তাত্ক্ষণিক অভিনয় বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তখন সব গ্রুপের ফলাফল দেওয়া প্রায় শেষ। কয়েকটি বিভাগে অংশ নিয়েও পুরস্কার না পাওয়ায় মনে হচ্ছিল, না! এবার বোধ হয় পুরস্কার আর পাওয়া হবে না। মন খারাপ করে হল থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় হঠাৎ একটা ঘোষণা আমার কানে বাজল। তাত্ক্ষণিক অভিনয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে সিফাত। কী যে ভালো লাগল! এক দৌড়ে মঞ্চে গিয়ে উঠলাম। সেটি ছিল আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত।’ এভাবেই ২০১৭ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে তাত্ক্ষণিক অভিনয়ে পুরস্কার পাওয়ার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিল সিফাত। পড়ালেখার পাশাপাশি বড় দুই বোনের দেখাদেখি তারও আগ্রহ জন্মাতে শুরু করে অভিনয় আর আবৃত্তিচর্চার দিকে। একেবারে ছোট থাকতে যখন কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে হেরে যেত, তখন প্রায়ই বেশ অভিমান হতো সিফাতের। ঠিক তখনই পাশে পেয়েছে তার মাকে। মা সব সময়ই তাকে বলতেন, ‘চেষ্টা করতে থাকো, কেবল তো তোমার জীবনের শুরু।’ এভাবে মায়ের হাত ধরে আর বাবা ও বোনের অনুপ্রেরণায় অল্প অল্প করে এগোতে থাকে সিফাত। তার অভিনয় আর আবৃত্তি বেশি চর্চা করা হয় বাসায়। তবে বেশি ভালো লাগে অভিনয় করতে। কলেজের যেকোনো অনুষ্ঠানে অভিনয়ের জন্য নিয়মিত ডাক পড়ে সিফাতের। নতুন নতুন চরিত্রে নিজেকে নতুন রূপে তুলে ধরতে বেশ মজা পায় ও।

এ বছর আরটিভির রিয়ালিটি শো ‘সেরা আমি সঙ্গে মা’-এর এক পর্বে সিফাত মেয়ে সেজে একটি বাল্যবিবাহের নাটকে অভিনয় করে। বিচারকরা ধরতেই পারেননি যে সে আসলে ছেলে। অভিনয় শেষ করার পর বিচারকরা তো অবাক! মেয়ের সাজে নাকি তাকে বেশি সুন্দর লেগেছিল। সে বলে, ‘সেরা আমি সঙ্গে মা’-এর প্রতিটি পর্যায়ে আমি ও আমার মা ছিলাম প্রথম ও সেরা। আমরা ছিলাম অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। এটি আমার ও মায়ের জন্য এক বিরাট অর্জন। আমাদের প্রতিটি অভিনয় ছিল শিক্ষণীয় বিষয়ভিত্তিক। অভিনয়গুলোর মাধ্যমে আমরা মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’ ফাইনালে তারা তুলে ধরেছিল মানুষ কিভাবে বনের গাছপালা কেটে ও পশুপাখি হত্যা করে প্রকৃতির ক্ষতি করছে সেই বিষয়টি।

সিফাতের প্রিয় ব্যক্তিত্ব তার মা। মা তাকে ছোটবেলা থেকে সাহস আর  ভালোবাসা দিয়ে প্রতিটি কাজে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রিয় শখ হলো বিভিন্ন দেশের মুদ্রা সংগ্রহ আর ভ্রমণ। ‘আমার সংগ্রহে এখন পর্যন্ত ৯৭টি দেশের টাকা ও কয়েন আছে।’ জানাল সিফাত। একটু সুযোগ পেলেই ছুটে যায় মাঠে খেলা করতে। ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন তার প্রিয় খেলা। বন্ধু আর পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়াও বেশ উপভোগ করে। ‘আমি ভবিষ্যতে একজন সফল পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি আম্মুকে পাশের সিটে বসিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াব।’

 

সিফাতের যত পুরস্কার

২০১২ সালে আন্তঃপ্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে আবৃত্তিতে তৃতীয়।

২০১৩ সালে আন্তঃপ্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে আবৃত্তিতে প্রথম।

২০১৪ সালে আন্তঃপ্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে অভিনয়ে প্রথম।

২০১৭ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে তাত্ক্ষণিক অভিনয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম।

২০১৭ সালে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর আয়োজিত আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়।

২০১৮ সালে আরটিভিতে প্রচারিত রিয়ালিটি শো ‘সেরা আমি সঙ্গে মা’তে চ্যাম্পিয়ন।

২০১৮ সালে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জুনিয়র ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে মহানগরী পর্যায়ের বছরের সেরা মেধাবী নির্বাচিত।



মন্তব্য