kalerkantho


অলরাউন্ডার শ্রাবণী

সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে প্রথম হয়েছে দুবার। বিতর্ক, আবৃত্তি আর নৃত্যেও রয়েছে অনেক পুরস্কার। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সিরাতল মোস্তাকিম শ্রাবণীর গল্পটা শোনাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



অলরাউন্ডার শ্রাবণী

ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চায় আগ্রহী শ্রাবণী। বড় বোন আর মায়ের কাছেই হাতেখড়ি। ক্লাস ওয়ান থেকে বড় আপুর দেখাদেখি আবৃত্তি, নাচ, গান, অভিনয়চর্চা করত। তার আপু তখন শিশু একাডেমিতে এগুলো শিখত। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় পর্যায়ে আবৃত্তিতে তৃতীয় স্থান লাভ করে শ্রাবণী। কিন্তু তাতেও তৃপ্তি হয়নি। প্রথম না হওয়ায় মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। তখন বিচারক এসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, ‘আবৃত্তি নিয়ে জীবনে তুমি অনেক দূর যাবে।’ আর সে কথাগুলোই জীবনের অনুপ্রেরণা বানিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে শ্রাবণী। আবৃত্তির পেছনে প্রচুর সময় দেয়। বাসায় বসে নিজে নিজে উপস্থিত বক্তৃতা অনুশীলন করে। ‘কবিতা আবৃত্তিই বেশি চর্চা করা হয়। এ ছাড়া উপস্থিত বক্তৃতা, লেখালেখি, বিতর্ক ও অভিনয়ের চর্চাও করি। গান একটু-আধটু করলেও ইদানীং গিটারে হাতেখড়ি নিচ্ছি,’ বলল শ্রাবণী। অবসরে মহান ব্যক্তিদের জীবনী পড়তে ভালো লাগে তার। কারণ সে মনে করে তাঁদের জীবনী থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, যা জীবনে চলার পথে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে। নিয়মিত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডেও অংশ নেয় শ্রাবণী। সময় পেলে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠে। ‘আমি মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশতে পারি। নতুন নতুন বন্ধু বানাতে ভালোবাসি এবং মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে পছন্দ করি।’ এত কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও পড়াশোনায় ফাঁকি নেই। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি ও এসএসসিতে বৃত্তি পেয়েছে। কলেজের সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে নিয়মিত। কলেজ বিএনসিসি প্লাটুনের সদস্য ও কলেজ করপোরালের দায়িত্ব পালন করছে। এ বছর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে আবৃত্তি, উপস্থিত অভিনয় ও বাংলা রচনা প্রতিযোগিতায় মহানগর পর্যায়ে বিজয়ী হয়ে  অপেক্ষায় রয়েছে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের। সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত মডেল ওআইসির (অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন) ‘তরুণদের ভাবনায় পর্যটনশিল্প’ শীর্ষক সম্মেলনে বিশ্বের ১২টি দেশের ১১০ জন প্রতিনিধির একজন হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। শ্রাবণীর স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে পড়াশোনা করার। হতে চায় একজন সফল নারী উদ্যোগতাও। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পাঁচবার জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার লাভ করাকে সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখে সে। সরকারিভাবে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ঘুরে আসার সুযোগও হয়েছে। তবে এখানেই থেমে থাকা নয়, উঠতে চায় সাফল্যের সর্বোচ্চ চূড়ায়।

 

শ্রাবণীর যত পুরস্কার

২০১১ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে অভিনয় ও উপস্থিত বক্তৃতায় প্রথম।

২০১১ সালে জেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীতে প্রথম।

২০১৪ সালে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় জুনিয়র গ্রুপে জাতীয় পর্যায়ে ভাষা ও সাহিত্যে প্রথম।

‘মার্কস অলরাউন্ডার-২০১৪’-এ আবৃত্তি, অভিনয় ও উপস্থিত বক্তৃতায় রিজিওনাল রাউন্ড বিজয়ী।

২০১৫ ও ২০১৬ সালে বাংলা একাডেমি আয়োজিত বাংলা কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতায় তৃতীয়।

২০১৬ সালে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক গ্রুপে জাতীয় পর্যায়ে ভাষা ও সাহিত্যে প্রথম। 

২০১৬ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে কবিতা আবৃত্তিতে ঢাকা মহানগরী পর্যায়ের বিজয়ী হয়। প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১০-এ জাতীয় পর্যায়ে আবৃত্তিতে দ্বিতীয়।

২০১৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল তার্কিশ হোপ স্কুল আয়োজিত ‘বাংলা অলিম্পিয়াড-২০১৬’ আবৃত্তিতে দ্বিতীয়।

২০১৬ সালে এনটিভি আয়োজিত ‘বর্ণমালার সাথে’ প্রতিযোগিতায় সেরা ১০-এর একজন।

এ ছাড়া জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় নাচ, আবৃত্তি, অভিনয় ও ধারাবাহিক গল্প বলা বিষয়ে কয়েকবার পুরস্কার লাভ করেছে।


মন্তব্য