kalerkantho


ইভেন্ট

তিন খুদে নির্মাতা

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তিন খুদে নির্মাতা

২৭ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘১১তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ’। এতে বিজয়ী নির্মাতাদের মধ্য থেকে ‘শিশু চলচ্চিত্র বিভাগে’ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হওয়া তিন কলেজপড়ুয়া পরিচালকের

গল্প শোনাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

 

 

আজমাইন আওসাফ অর্ণব ও তার ‘ওয়ান টু থ্রি’

অবস্থান : প্রথম

অর্ণব মা-বাবার একমাত্র সন্তান। মা-বাবা সারা দিন ব্যস্ত থাকায় দিনের সিংহভাগ সময় কাটে ভিডিও গেম খেলে আর মুভি দেখে। আর ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি তার মধ্যে আলাদা একটা ঝোঁক কাজ করছে। সেই ঝোঁক থেকেই বন্ধু সাওয়াদ আল কাভির সঙ্গে ‘অহেতুক’ প্রডাকশন শুরু করে এবং পরে তাতে যোগ দেয় মার্জিউর রহমান। ২০১৬ সাল থেকে তারা শর্টফিল্ম বানানো শুরু করে। ‘অহেতুক প্রডাকশন’ থেকে চারটি শর্ট ফিল্ম ও একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়। অর্ণবের ‘ওয়ান টু থ্রি’ ফিল্মটি আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব ছাড়াও ‘নটর ডেম অ্যানুয়াল ফটো ফিয়েস্তা’ ও ‘জোসেফাইট ইকো অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফেস্ট’-এ পুরস্কার জিতে। অর্ণবের সবচেয়ে প্রিয় নির্মাতা হলেন কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনো। এই কালজয়ী নির্মাতার প্রভাব চোখে পড়ে তার কাজেও। নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র অর্ণবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চলচ্চিত্র নির্মাণে দক্ষতার পরিচয় দেওয়া।

ছবির গল্প : স্কুলপড়ুয়া একটি ছোট ছেলে ফুচকা খাওয়ার জন্য বাবার কাছে টাকা চেয়ে পায় না। অতএব টাকা জোগাড়ের অদ্ভুত এক পথ বেছে নেয় সে, তা হলো ভিক্ষা করা। প্রথমে বেশ ভালো পরিমাণ টাকা রোজগার করে ফুচকা খায় ইচ্ছামতো। কিন্তু ভিক্ষা করার সময় একদিন এক লোক বিরক্ত হয়ে তার গায়ে হাত তোলে। আত্মসম্মান বাঁচাতে ভিক্ষার পথ ছেড়ে অন্য শিশুদের মতো স্কুলে যাওয়া শুরু করে ছেলেটি। কাহিনিটি আমাদের শেখায়, প্রয়োজন মেটাতে হলেও  ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যান্য হীন, জঘন্য কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রথম হওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে অর্ণব বলে, ‘অসাধারণ, অপ্রত্যাশিত। এটা আমাকে নিজের দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে। সামনে আরো ভালো কাজ করার প্রেরণাও জুগিয়েছে।’

 

ইশমাম নাওয়ার ও তার ‘বন্ধু’

অবস্থান : দ্বিতীয়

ইশমাম পড়াশোনা করছে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে একাদশ শ্রেণিতে। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হওয়া শিশু চলচ্চিত্র উৎসব থেকেই ছবি বানানোর অনুপ্রেরণা পেয়েছে ইশমাম নাওয়ার। আর এবার প্রথম শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েই ‘বন্ধু’ ছবি দিয়ে বাজিমাত করেছে। ‘দ্বিতীয় হয়ে সত্যি অভিভূত। ভবিষ্যতে আরো বড় দৈর্ঘ্যের ফিল্ম বানানোর ইচ্ছা আছে’—জানায় ইশমাম। ছবিতে তার পরিবারের পাঁচজন সদস্য কাজ করে। শুট হয়েছে খুলনাতে নানাবাড়িতে। ইশমাম তার কলেজের অফিসিয়াল ডকুমেন্টারি ও প্রমো ভিডিও বানিয়েছে। এ ছাড়া কলেজের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ভিডিও তৈরি করেছে। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫সহ বৃত্তি পাওয়া ইশমামের বড় হয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসার হওয়ার এবং সিনেমা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে।

ছবির গল্প : রিতাজের  বয়স পাঁচ অথবা ছয়, থাকে মফস্বল শহরে। হঠাৎ করে সে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে । রিতাজের বাবার ছোটবেলার বন্ধু ডা. রায়হান রিতাজের সঙ্গে কথা বলার পর জানতে পারলেন এই অসুস্থ হওয়ার পেছনের আসল ঘটনা। রিতাজের বাড়ি লগোয়া বাগানবিলাস গাছটিকে ডেভেলপাররা কেটে ফেলবে। কারণ ওদের বাড়িটি ভেঙে নতুন অট্টালিকা বানানো হবে। আর এটাই ছোট্ট ছেলেটাকে অসুস্থ করে ফেলেছে। সমস্যাটি বুঝতে পেরে ডা. রায়হান কথা দেন তিনি যেকোনোভাবেই হোক বুড়ো বাগানবিলাসটিকে বাঁচাবেন। এভাবেই চলতে থাকে তাদের প্রকৃতিকে উপলব্ধি ও রক্ষা করার চেষ্টা। ছবিটি ইউটিউবে দেখতে চাইলে ঢু মারো-https://www.youtube.com/watch?v=xfvfmtC3Vkg&featur= এই লিংকে।

 

সামিন কাদের আর তার ‘ছায়া’

অবস্থান : তৃতীয়

ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ কাজ করত সামিনের। ‘প্রজেক্ট ক্ষ’ নামের টিম হিসেবে সে ও তার বন্ধুরা মাঝেমধ্যে কিছু শর্টফিল্ম বানায় এবং ইউটিউবে আপলোড দেয়। শর্টফিল্ম নির্মাণ করা শুরু করেছে বেশি দিন হয়নি। গত দুই বছরে সামিন ও তার বন্ধুরা চারটি শর্টফিল্ম বানিয়েছে। তার মধ্যে ‘ছায়া’ একটি। ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে তার মূল উদ্দেশ্য অসাধারণ কিছু দেখানো। তাই ভিজ্যুয়াল অ্যাফেক্ট নিয়ে কাজ করা শিখছে ও। ‘অসাধারণ দৃশ্যের সঙ্গে অসাধারণ গল্পও বলতে চাই। ভবিষ্যতে আরো বড় কিছু নির্মাণ করার ইচ্ছা আছে’—সামিন বলল। সে পড়ছে সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে।

ছবির গল্প : ‘ছায়া’ শর্টফিল্মে জয় নামের চরিত্রটির নিকটোফোবিয়া আছে, অর্থাৎ সে অন্ধকারকে ভয় পায়। রাতে রুমের লাইট নষ্ট হয়ে গেলে তার ভাই তাকে একটা টর্চলাইট দেয়, যাতে সে ভয় না পেয়ে ঘুমাতে পারে। কিন্তু আলোতে জেগে ওঠা ছায়াগুলো জয়কে মারার চেষ্টা করে। শর্টফিল্মটি বানানোর পেছনে ছিল মাত্র তিনজন। সামিন, তার ক্লাসমেট—দুর্জয় রায় প্রিন্স ও তার সিনিয়র ভাইয়া কিশোর পাশা। গল্পের চিত্র বাস্তবায়ন করার জন্য অতিরিক্ত পরিমাণ ভিজ্যুয়াল অ্যাফেক্ট ব্যবহার করতে হয়েছে। ছবিটি দেখতে চাইলে অনলাইনে ভিজিট করো https://www.youtube.com/watch?v=CMOyr3nPD6g&feature= এই ঠিকানায়।

চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে ঢাকার মোট ছয়টি ভেন্যুতে ৫৮টি দেশের দুই শতাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। ২ ফেব্রুয়ারি পাবলিক লাইব্রেরি অডিটরিয়ামে বিকেল ৫টায় উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান হয়। শিশু চলচ্চিত্র বিভাগে মোট পাঁচটিসহ অন্যান্য বিভাগে আরো বেশ কিছু পুরস্কার দেওয়া হয়। উৎসবে বিজয়ীদের ক্রেস্ট, টাকার চেক ও সনদ দেওয়া হয়। তোমার যারা ছবি বানিয়ে পরের উৎসবে অংশ নিতে চাও তারা যোগাযোগ করতে পারো https://www.cfsbangladesh.org এই ঠিকানায়।



মন্তব্য