kalerkantho


সেন্টার ফর সোশিও ইকোনমিক রিসার্চ

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সেন্টার ফর সোশিও ইকোনমিক রিসার্চ (সিএসইএস)’। আর্থ-সামাজিক এই গবেষণাকেন্দ্রটির প্রতিষ্ঠাতা আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. মঈনউদ্দিন খান। ‘সিএসইএস’ নিয়ে বলতে গিয়ে গিয়ে তিনি জানালেন, এই সেন্টার থেকে ১০ বছর ধরে আমরা ইংরেজি জার্নাল প্রকাশ করছি। নাম ‘আশা ইউনিভার্সিটি রিভিউ’। ছয় মাস পরপর এটি প্রকাশিত হয়। জার্নালের বিষয়বস্তু? তিনি বলেন, ‘আর্থ-সামাজিক জীবন। বিশেষত দরিদ্র বা পিছিয়ে পড়া মানুষদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য মাইক্রো ক্রেডিট বা ক্ষুদ্রঋণ কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আমরা অনেকগুলো ভালো গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেছি।’ জার্নালের তিনি প্রথম থেকে ১৮তম সংখ্যা পর্যন্ত প্রধান সম্পাদক ছিলেন।

‘আশা ইউনিভার্সিটি রিভিউ’র বর্তমান প্রধান সম্পাদক কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আবু দাউদ হাসান। তিনি বলেন, ‘এই জার্নালে প্রকাশিত নিবন্ধগুলোর মান যাচাইয়ের জন্য ১১ সদস্যের সম্পাদনা পর্ষদ আছে। পর্ষদ যেকোনো গবেষণাপত্র মৌলিক, নকল বা কোনো অংশ কপি করা যায় কি না যাচাই করে। তাঁদের পরামর্শে রচনাটিতে লেখক প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজন-বিয়োজন ও সংশোধন করেন। চূড়ান্তভাবে প্রকাশের আগে সেটির রিভিউও করা হয়। এর পর সেটি প্রকাশিত হয়।’ তিনি আরো জানান, ষান্মাসিক জার্নালটির প্রতি সংখ্যায় ১৩টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। সব সংখ্যা দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপকদের কাছে সৌজন্য কপি হিসেবে পাঠানো হয়। র্সবশেষ সংখ্যাটি জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে অনেক প্রবন্ধের মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক সুস্মিতা রায় টুম্পার সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনাভিত্তিক প্রবন্ধ। গবেষক তাতে দেখিয়েছেন, সরকারি ব্যাংকগুলো যেখানে গ্রাহক সেবার প্রতি বেশি মনোযোগ দেয়, বেসরকারি ব্যাংকগুলো সে ক্ষেত্রে লাভের দিকেই মনোযোগী হয়, যদিও সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে বেশি দক্ষ ও মেধাবী। তিনি জানান, এই সংখ্যায় প্রকাশিত আরেকটি প্রবন্ধে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক সাফিনা-ই-ফেরদৌস তথ্য-প্রযুক্তি খাতে নারীর ক্ষমতায়ন করতে গেলে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে সেগুলো কী এবং সেসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে নানা সুপারিশও করেছেন। তিনি আরো জানালেন, আশা ইউনিভার্সিটি রিভিউর উপদেষ্টা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা অধ্যাপকরা আছেন। তাঁরাও নানা পরামর্শ দেন।

গবেষণাকেন্দ্রটি নিয়ে বলতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডালেম চন্দ্র বর্মন বলেন, “জার্নাল প্রকাশ ছাড়াও ‘সেন্টার ফর সোশিও ইকোনমিক রিসার্চ’ থেকে আমাদের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীরা নানা শ্রেণির মানুষের নানা বিষয়ে স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর নানা বিষয়ে গবেষণা করেন।” তিনি জানান, গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষকের গুণগতমান নির্ধারণ করা হয় বলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণাও এই জার্নালে প্রকাশিত হয়।


মন্তব্য