kalerkantho


সেমিস্টারভিত্তিক লেখাপড়ায় জোর দিচ্ছি

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সেমিস্টারভিত্তিক লেখাপড়ায় জোর দিচ্ছি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন’ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ডালেম চন্দ্র বর্মন দ্বিতীয়বারের মতো আশা ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাঁর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন

 

এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য?

বাংলাদেশে প্রতি শিক্ষাবর্ষে গড়ে পাঁচ লাখ ছাত্র-ছাত্রী এইচএসসি পাস করে। তবে তাদের মধ্যে লাখখানেকই মাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে পড়ালেখার জন্য সুযোগ পায়। বাকি  বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রী কোথায় পড়বে? তাদের জন্য স্বল্পখরচে, মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রদানের জন্যই আশাইউবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কিভাবে এখানকার উন্নয়নে ব্যবহার করবেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু বছর অধ্যাপনা করেছি, পাশাপাশি নানা ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেছি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আশাইউবি) শিক্ষাদান পদ্ধতিকে ঢেলে সাজানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। সেমিস্টারভিত্তিক লেখাপড়ায় জোর দিচ্ছি, সেটি যেন আরো ভালো হয় এবং ছাত্র-শিক্ষক উভয়েই যেন দেশ-বিদেশের জ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য সেমিনারগুলোতে অংশ নিতে পারে, সে জন্য আরো অনেক সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।  

শিক্ষকদের মান কিভাবে নির্ধারণ করেন?

ইউজিসির প্রয়োজনীয় যোগ্যতার শর্তগুলো মেনে আমরা বহুল প্রচারিত দৈনিকে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিই। এরপর নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষক নিয়োগ লাভ করেন, তাঁদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে তাঁরা আরো দক্ষ হয়ে ওঠেন।

ছাত্র-ছাত্রীদের গুণগতমান কিভাবে অর্জিত হয়?

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের শিখন মূল্যায়নে কনটিনিউয়াস অ্যাসেসমেন্ট বা নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। সেটির অংশ হিসেবে ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশনে তারা অংশ নেয়। সেগুলোর গড় নম্বর তাদের মিডটার্ম ও সেমিস্টার ফাইনালের নম্বরের সঙ্গে যোগ হয়। একাধিক ইনকোর্স, মিডটার্ম ও সেমিস্টার ফাইনালের কড়া শিডিউল ও লেখাপড়ার চাপে তাদের অবশ্যই পড়ালেখা করতে হয়। ফলে তারা যোগ্য হয়ে ওঠে। 

আপনাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি?

আমাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি পুরোপুরি আধুনিক। প্রতিটি ক্লাসেই এসি, মাল্টিমিডিয়া আছে। প্রতিটি গবেষণাগার অত্যাধুনিক। আর লাইব্রেরিও খুব উন্নত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের গবেষণাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালসহ নানা জার্নালে প্রকাশিত হয়। লেখাপড়ার বাইরে সহ-শিক্ষার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাব আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা তাদের ইন্টার্নশিপেরও ব্যবস্থা করি। ফলে তারা চাকরির বাজারের জন্যও যোগ্য হয়ে ওঠে।

গবেষণাকে কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছেন?

অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো আমরাও গবেষণার জন্য সরকারের কাছ থেকে কোনো বরাদ্দ পাই না। ফলে গবেষণা খাতে অন্যদের মতো আমাদেরও অর্থ সংকট আছে। তার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানকে উন্নত করতে সর্বোচ্চ সহায়তার চেষ্টা করি। আমাদের আলাদা আর্থ-সামাজিক গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে। শিক্ষকরা পিএইচডির জন্য শিক্ষাছুটি পান। আমরা ছাত্র-শিক্ষকদের গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করি।  

বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আশাইউবিকে আমরা পরিকল্পিতভাবে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমাদের বেশির ভাগ শিক্ষকই পূর্ণকালীন। পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নানা বিভাগে শিক্ষাদান করছেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন, তাঁদের মানও খুব ভালো। তাঁরা স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা ফলাফলের অধিকারী। উপাচার্য হিসেবে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানকে আরো সন্তোষজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। সেটিকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধিই এই মুহূর্তে আমার প্রধান লক্ষ্য। এটিই একজন উপাচার্যের প্রধান চ্যালেঞ্জ হওয়া উচিত বলে মনে করি।

সরকার সব বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে। এ বিষয়ে অভিমত?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সিদ্ধান্ত। কিন্তু যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়া বিরাট চ্যালেঞ্জও। ফলে এ ক্ষেত্রে তাদের প্রতি সরকারের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা উচিত। কেননা, যেকোনো স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ন্যূনতম এক একর জমির প্রয়োজন। ঢাকা ও ঢাকার আশপাশে ভালো লোকেশনে এই জমির অনেক দাম। সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতেও বিরাট অঙ্কের টাকা লাগে। লেখাপড়ার নানা সুবিধা সৃষ্টি করতে এই খরচটি আরো অনেক বেশি পড়ে। সরকার কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কেই ভর্তুকি দেয় না। তারা নিজের আয়ে চলে। আবার সেই আয়ের ওপর সরকার ভ্যাট কেটে নেয়। কোনো কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নিজস্ব ক্যাম্পাসের জন্য ফি নিচ্ছে। কিন্তু আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর এই বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া সমর্থন করি না। কোনো ফিও এই খাতে নেই না। আমরা প্রত্যাশা করি, এই পরিস্থিতিতে সরকার সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সহযোগিতা করতে পারে। তারপরও আমি মনে করি, সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে আমাদের সবারই যত দ্রুত সম্ভব স্ব স্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়া উচিত।


মন্তব্য