kalerkantho


চৌকস

‘স্কাউটিংয়ে শিখেছি টিকে থাকার সূত্র’

স্কাউটিংয়ে একই সঙ্গে শাপলা কাব ও প্রেসিডেন্টস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে তন্ময়। অংশ নিয়েছে দেশ-বিদেশের ২৪টি ক্যাম্পে। তার গল্প শোনাচ্ছেন মুসাররাত আবির জাহিন

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘স্কাউটিংয়ে শিখেছি টিকে থাকার সূত্র’

মা-বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় ছোট থেকেই দস্যিপনায় সবাইকে ছাড়িয়ে যায় তন্ময়। কিন্তু এই দস্যি তন্ময়ই যে বড় হয়ে তার অর্জনগুলো দিয়ে আশপাশের মানুষদের তন্ময় করে রাখবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি! মাকে ছাড়া একটা কাজও সে নিজে থেকে করতে পারত না। কিন্তু এখন সেই ছেলে পরিবারকে ছেড়ে চষে বেড়াচ্ছে নানা জায়গা।

কিন্তু কিভাবে এই পরিবর্তন? ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইনস্টিটিউটের দশম শ্রেণির ছাত্র মুরশিদুল ইসলাম ভূঁঞা তন্ময়কে জিজ্ঞেস করতেই বলল, ‘চেঞ্জটা এসেছে স্কাউটিংয়ে গিয়ে। স্কাউটিংই আমাকে শিখিয়েছে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সূত্র।’ দ্বিতীয় শ্রেণিতে থাকতে ও যোগ দেয় স্কুলের কাব স্কাউট দলে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেবে, এমন ভাবনা ছিল না। কিন্তু স্কুলের এক শিক্ষক যখন তাকে বলেন যে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কেউ একাই স্কাউটিংয়ের তিনটি স্তরের সর্বোচ্চ পুরস্কার পায়নি, তখনই তার মধ্যে জেদ চেপে যায়। কোমর বাঁধা শুরু। তৃতীয় শ্রেণিতে প্রথম ক্যাম্পে অংশ নেয়। মা-বাবা ছাড়া আসতে তার মোটেও ভালো লাগত না। তার ওপর থাকা, খাওয়া, গোসলের সমস্যাটা ভোগাত খুব। পরে সব ঠিক হয়ে যায়।

এখন পর্যন্ত দেশ-বিদেশের প্রায় ২৪টি ক্যাম্পে অংশ নিয়েছে তন্ময়। আর তার এই পরিশ্রম ও একাগ্রতার ফল পেয়েছে ২০১২ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড ও ২০১৭ সালে মাননীয় রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কাছ থেকে প্রেসিডেন্টস স্কাউট অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করে। এখন সে তার বিদ্যালয়ের স্কাউট দলের সিনিয়র পেট্রোল লিডার। গত বছর শ্রীলঙ্কায় হয়ে যাওয়া স্কাউট সম্মেলনে বিশ্বের ৭০০০ স্কাউটের মধ্যে নাচে দ্বিতীয় হয় সে। শুধু স্কাউটিংই নয়, তন্ময় নিজেকে জড়িত করেছে বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে। বিদ্যালয়ের রেড ক্রিসেন্ট ইয়ুথ টিমের চিফ লিডার সে। এ ছাড়া পেয়েছে গ্রিন ক্রস ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও শিল্পকলা একাডেমির থিয়েটারশিল্পী হিসেবে কাজ করছে।

তন্ময়ের একটি ইউটিউব চ্যানেলও আছে। যেখানে সে ও তার বন্ধুরা মিলে তৈরি করছে নানা মজার ভিডিও ও শর্টফিল্ম। শখের বশে তন্ময় ফটোগ্রাফি করে। ওয়েডিং ফটোগ্রাফার হিসেবে বন্ধুমহলে খানিকটা নামডাক আছে। পড়াশোনায়ও কম যায় না। পিইসি, জেএসসি, দুটিতেই জিপিএ ৫। বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা তার।



মন্তব্য