kalerkantho


টিফিন আওয়ার

সত্যিকারের সবুজ স্কুল

ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি ছোট্ট গ্রাম শিবাং কাজা। সেখানেই গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্বের সবুজতম স্কুল—গ্রিন স্কুল বালি। জানাচ্ছেন নাবীল অনুসূর্য

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সত্যিকারের সবুজ স্কুল

না, স্কুলটি শুধু নামেই সবুজ নয়, কাজেকর্মেও এটি সত্যিকারের প্রকৃতিবান্ধব এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুলটি চালাতে যা কিছুর প্রয়োজন হয়, সবই প্রাকৃতিকভাবে তৈরি করা হয়। প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের জোগানের জন্য আছে ১০০টিরও বেশি সোলার প্যানেল। স্থাপনাগুলোও বানানো হয়েছে প্রকৃতিবান্ধব করে। মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ। নকশাও করা হয়েছে এমনভাবে, যাতে ওখানকার প্রকৃতির সঙ্গে ঠিকঠাক খাপ খেয়ে যায়। এমনকি স্কুলের ছেলে-মেয়েদের ভাতের জন্য চালের জোগানও আসে স্কুলের নিজস্ব ধানক্ষেত থেকেই। আবার সেগুলোর তদারকিও করে এখানকার শিক্ষার্থীরাই।

স্কুলটিতে এখন ৪৫টিরও বেশি দেশের প্রায় চার শর মতো ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে। বয়স ছয় থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। অবশ্য স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধাও আছে। স্থানীয় ২৭ জন ছাত্র-ছাত্রী এখানে পড়তে পারে একদম বিনা খরচে। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এই যে বাড়তি বরাদ্দ, সেটির জোয়াল আবার অন্য শিক্ষার্থীদের কাঁধেও চাপিয়ে দেওয়া হয় না। খরচটা তোলা হয় পর্যকটদের কাছ থেকে। এমনিতেই বালি দ্বীপ পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। তাদের একটা অংশ ঠিকই গন্ধ পেয়ে চলে আসে অসাধারণ এই স্কুলটি দেখতে। বিশেষ করে স্কুলের বাঁশের তৈরি ছাউনিওয়ালা সেতুটি পর্যটকদের বেশ পছন্দের। আর তাদের কাছ থেকে যা আয় হয়, তা থেকেই স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

সবুজ এই স্কুলের ক্যাম্পাসটিও বেশ বড়। প্রায় ২০ একর জায়গাজুড়ে। প্রতিষ্ঠাতা দম্পতির কেউই অবশ্য স্থানীয় নন। একজন কানাডিয়ান জন হার্ডি। তাঁর স্ত্রী সিনথিয়া হার্ডি আমেরিকান। জন ইন্দোনেশিয়ায় আসেন ১৯৭৫ সালে। পেশায় ছিলেন গয়নার ব্যবসায়ী। আর সিনথিয়া বালিতে ঘুরতে আসেন ১৯৮২ সালে। সেই যে এলেন, তারপর এখানেই থিতু হয়ে গেলেন। ২০০৬ সালে গয়নার ব্যবসায় ইস্তফা দিয়ে তাঁরা শুরু করেন এই স্বপ্নের স্কুল গড়ার কাজ। ২০০৮ সালে ৯০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে  স্কুলটি।

স্কুলের কারিকুলামেও স্থান পেয়েছে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা। তাতে গণিত, বিজ্ঞান, ভাষাশিক্ষার মতো সাধারণ বিষয়গুলো যেমন আছে, তেমনি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবেশের প্রতি সচেতনতা ও এর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে বেঁচে থাকার বিষয়টিও। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা হাতে-কলমে শেখানোর আয়োজনও করা আছে। প্রতি বুধবার স্কুলের ওপরের ক্লাসের ছেলে-মেয়েরা ‘জালান জালান’-এ যায়। মানে ঘুরতে যায় আর কি। প্রকৃতির কোলে গিয়ে প্রকৃতিকে আরো ভালোভাবে চেনে। এ ছাড়া সবাইকে বাধ্যতামূলক এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ পড়তে হয়। বড় ক্লাসের শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে হয় গ্রিন স্টোন প্রজেক্টে।

অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি সচেতনতা গড়ে তোলার সব রকম আয়োজনই এখানে করা হয়েছে। আমেরিকার সেন্টার ফর গ্রিন স্কুল যখন গ্রিনেস্ট স্কুল অন আর্থ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া শুরু করে, এমনি এমনিই তো আর প্রথম খেতাবটাই গ্রিন স্কুল বালির ঝুলিতে যায়নি! সবচেয়ে সবুজ স্কুলের পুরস্কার তো দিতে হবে সবুজতম স্কুলটিকেই।



মন্তব্য