kalerkantho


প্রেরণার বাতিঘর

পিছিয়ে পড়া এক ছাত্র হিসেবে নাফিউজ্জামান ইউডাতে ভর্তি হয়েছিলেন। অথচ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন মেথডিস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন রক্তিম রেজা

৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



প্রেরণার বাতিঘর

জন্ম তাঁর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ইউনিয়নের কিশোরগঞ্জ গ্রামে। নাফিউজ্জামান সাত ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম। ছোটবেলায় ভালো ছাত্র ছিলেন। এসএসসিতে পেয়েছেন ৪.৫ জিপিএ। তবে কলেজে উঠে আড্ডা আর গ্রামের রাজনীতিতে জড়িয়ে গেলেন। যা হওয়ার তা-ই হলো। এইচএসসির ফলাফল হলো ৩.১! তার পরে বোধোদয় হলো তাঁর—সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবেন না। মা-বাবার ইচ্ছা পূরণের জন্য পরীক্ষা দিলেন প্রস্তুতি নিয়েই, কম স্কোরের জন্য সুযোগ পেলেন না। একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজছিলেন তিনি—যেখানে মনোযোগ দিয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে পারবেন। রংপুরের এইচএসসির দিনগুলোতেই এক বড় ভাই ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) কথা বলেছিলেন। কম খরচে সেখানে খুব ভালো পড়ালেখা হয়—এই তথ্যটিই তাঁকে ঢাকায় নিয়ে এলো। ভর্তি হয়ে গেলেন দশম ব্যাচে। পড়ার বিষয় ফার্মাসি। প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুজিব খানের বক্তব্য অন্যদের মতো তাঁরও মন কেড়ে নিল। তিনি সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন। জানিয়েছিলেন, ক্যামব্রিজ, কানসাস, ওকলাহোমাসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা বিনিময় চুক্তি আছে। এই কথাগুলোই নাফির উচ্চশিক্ষার পাথেয়। আগের খারাপ ফল তাঁকে একটি দিনও নষ্ট না করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। দিনের পড়া দিনেই শেষ করেছেন। কোনো বিষয় না বুঝলে শিক্ষকদের সাহায্য নিয়েছেন। প্রয়োজনে বিভাগের সিনিয়রদের কাছে গিয়ে বুঝে নিয়েছেন। টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ মিটিয়েছেন। নাফিউজ্জামান অনার্স পাস করেছেন ২০০৯ সালে। ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ট্রান্সপোর্টেশন থেকে বৃত্তি নিয়ে মাস্টার্স করেছেন। ২০১৭ সালে সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যান্সার ইমেজিং অ্যান্ড থেরাপি বিষয়ে পিএইচডি করেছেন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক জার্নালগুলোয় তাঁর ২০টির বেশি প্রকাশনা রয়েছে। শুধু ভালো ছাত্র হিসেবেই নয়, তিনি বাংলাদেশের সুনাম সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছেন কৃতী গবেষক হিসেবেও। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টন মেথডিস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো।  ভেঙে পড়েও সফল হওয়ার জীবনের গল্প করতে গিয়ে নাফি তাঁর বাবার কথাই বারবার বললেন—‘আমার বাবা আবদুল মজিদ একজন কৃষক। নিজে ভালো লেখাপড়া করতে পারেননি। মা রাশিদা খাতুনও খুব লেখাপড়া জানতেন না। তবে তাঁরা আমাদের মাধ্যমে নিজেদের পড়ার অভাব মিটিয়েছেন। নিয়মিত আমাদের পড়তে তাগিদ দিয়েছেন, কোনোভাবেই যেন পড়ার ক্ষতি না হয় খেয়াল রেখেছেন। ফলে সাত ভাই-বোনই উচ্চশিক্ষিত হতে পেরেছি।’



মন্তব্য