kalerkantho


এক যে আছে রোজান্তা

খেলনা নিয়ে শুধু খেলত না সে। হাজারটা প্রশ্ন। কিভাবে বানায় খেলনা, আমি কেন বানাতে পারব না। এভাবে প্রশ্ন করতে করতে একদিন রোজান্তাও শুরু করে দিল খেলনা বানানো। তার আছে আরো গুণ। জানাচ্ছেন

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



এক যে আছে রোজান্তা

জুবায়ের ইবনে কামালশুধু খেলা করে কাটানোর দিন ফোরাল। সময় হলো স্কুলে ভর্তির।

ইংরেজি মাধ্যমের বারিধারা স্কলারস ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হয় রোজান্তা রহমান। এখন পড়ছে চতুর্থ শ্রেণিতে। কিন্তু গত্বাঁধা বইয়ের পড়ায় যে তার মন বসে না। পড়তে শেখার আগে থেকেই গল্পের প্রতি ঝোঁক তার। আর আছে এটা-ওটা বানানোর শখ। মা-বাবা দুজনই চিকিত্সক। দারুণ ব্যস্ত তাঁরা। রোজান্তাকে আর কত গল্প শোনানো যায়! আর তাই রোজান্তা ঠিক করল গল্পের বইয়ের ছবি দেখে নিজেই তৈরি করবে গল্প। আর এভাবেই খুলতে থাকে একে একে সৃজনশীল প্রতিভার দুয়ার।

ইউটিউবে সমবয়সীরা যখন কার্টুন আর খেলনার ভিডিও দেখা নিয়ে ব্যস্ত, তখন রোজান্তা নিজেই বাসায় বসে বসে বানাচ্ছে এটা-ওটা। ভিডিও দেখে দেখে বানিয়ে ফেলছে অনেক অনেক মজার খেলনা। বাসার ফেলনা জিনিসপত্র দিয়ে বানিয়ে ফেলছে অনেক কাজের জিনিসও।

এদিকে পড়াশোনায় মনোযোগী রোজান্তা যেন ক্লাসে প্রথম হওয়াটাকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে। সাধারণ জ্ঞানেও প্রবল আগ্রহ। এরই মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষায়। খেলাধুলায়ও কম কীসে! ক্যারম ও টেবিল টেনিস ভালোই খেলে। স্কুলে এ দুটিতে রীতিমতো খুদে তারকা। একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে মেডেলও ঝুলিয়েছে গলায়। ‘রোজান্তা ছোট থেকেই এমন। পড়া নিয়ে কখনো চাপ দিতে হয়নি। নিজ থেকেই মনোযোগী। একজন চিকিত্সক হিসেবে আমি বলব, খুব কম বাচ্চাই এমনটা হয়। ’ গর্ব করে বললেন, রোজান্তার বাবা।

এদিকে মা-বাবা দুজনে ডাক্তার হলেও এ কাজে রোজান্তার আগ্রহ নেই বললেই চলে। তবে বাবা যখন রোগী দেখেন তখন কিছু কিছু ওষুধের নাম বলে রোগীকে ভড়কে দিতে ওস্তাদ!

মহাকাশবিজ্ঞানে বেশি আগ্রহ তার। গ্রহ, উপগ্রহ, সৌরজগতে রহস্য জানতে উন্মুখ। বড় হয়ে তাই বিজ্ঞানীই হবে সে। কিন্তু ওদিকে আবার ছোটবেলায় পড়া গল্পের বইয়ের ছবিগুলো তাকে মুগ্ধ করে দিত। সেগুলো দেখে আঁকাআঁকির প্রতি টানও হয়েছে অনেক। বিজ্ঞানীর পাশাপাশি কার্টুনিস্ট হলেও তা মন্দ হয় না।

ছুটি পেলে মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে পছন্দ করে রোজান্তা। বাসায় অবসরে অ্যাকোয়ারিয়ামে মাছের যত্ন নেয়। আর পোষা ‘পিউ’ তো আছেই। ওটা একটা কাকাতুয়া। রোজান্তার আরেক বন্ধু। ওর সঙ্গেও বেশ সময় কাটে ওর।

আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি তৈরি করেছে রোজান্তা। পুতুলের খেলাঘর হিসেবে বাড়িটি লুফে নিতে চাইবে যেকোনো শিশু। পাশের রংবেরঙের বোতলে নানা ফলের নকশা। শোপিস হিসেবে এককথায় জিভে জল আনার মতো


মন্তব্য