kalerkantho


‘আমরা গ্লোবাল লিডার হতে চাই’

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চেয়ারম্যান। কিভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলো? এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য, লেখাপড়ার মান, গবেষণা, ভবিষ্যত্ লক্ষ্য ইত্যাদি নিয়ে বলেছেন

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘আমরা গ্লোবাল লিডার হতে চাই’

আমার বাবা অধ্যাপক ড. এ বি এম মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী। তিনি আইনের একজন খ্যাতনামা অধ্যাপক ছিলেন।

তিনি দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর অনেক ছাত্র-ছাত্রী আইন ও শিক্ষকতা পেশায় কীর্তিমান হয়েছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি খুব আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ এই অধ্যাপক আইনের অনেক নামকরা বই লিখেছেন। তিনি সব সময়ই শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পর তাঁর ঐকান্তিক ইচ্ছা ছিল, কম খরচে  উন্নতমানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। সেটিই বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি ১৯৯৫ সালে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আন্তর্জাতিক মানের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তাঁর মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকারকে আমরা সর্বক্ষণই বাস্তবায়নের চেষ্টা করে চলেছি।
শুরু থেকেই আমরা মূল্যবোধনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছি। ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে সব সময়ই বন্ধুত্বপূর্ণ ও শ্রদ্ধাবোধের সম্পর্ক তৈরিতে গুরুত্বারোপ করে চলেছি আমরা। লার্নিং বাই ডুইং মেথডে এখানে লেখাপড়া শেখানো হয়। এ ছাড়া কর্মমুখী, যুগের প্রয়োজন মেটাতে আমাদের নানা ধরনের বিষয়ভিত্তিক কোর্স আছে। তারা যেন ভবিষ্যত্ জীবনে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারে, সে জন্য ইংরেজি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রীদের গবেষণা করার জন্য সার্বক্ষণিক ল্যাবরেটরি ব্যবহারের সুবিধা আছে। সেগুলোয় উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ও অভিজ্ঞ ইন্সট্রাক্টর রয়েছেন। এসব কারণে আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তাদের কাজের মানও খুব সন্তোষজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাদের চাকরি পাওয়া নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। সে জন্য চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোয় আমরা সব সময়ই যোগাযোগ রক্ষা করি। এসব সুবিধা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেয়ে আমরাই বেশি দিয়ে থাকি। ঢাকার বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ির ১ নম্বর সড়ক ও ফার্মগেটে  বর্তমানে আমাদের অস্থায়ী দুটি ক্যাম্পাস আছে। তবে ঢাকার বাড্ডার সাঁতারকুলে ৮০ কাঠা জায়গার ওপর নিজস্ব দুটি স্থায়ী ক্যাম্পাস আছে। সেখানে ৭০ হাজার স্কয়ারফুটের ওপর বিশাল ভবন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে এবং ক্লাসও শুরু হয়ে গেছে। শুধু উন্নত সুবিধাই নিশ্চিত করা নয়, ছাত্র-ছাত্রীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের জন্য আমাদের উদ্যোগ সব সময়ই অব্যাহত আছে। বিশ্বের নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম বিনিময় চুক্তি রয়েছে। আমরা এমটিসি গ্লোবাল এডুব্রিজ, কেমব্রিজ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। এ ছাড়া ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট এবং ইউজিসির হেকেপ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছি। ফলে প্রতিনিয়তই ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন ও উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তা ছাড়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত নানা ধরনের গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আছে। তাদের সেসব গবেষণা নিয়ে জার্নাল প্রকাশিত হয়। সেগুলো দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। আমরা মানোন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এসব কারণে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা এখানে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করছে। শুধু তা-ই নয়, পাঁচ শর বেশি বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা গ্রহণের জন্য ভর্তি হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য—আমরা গ্লোবাল লিডার হতে চাই।

অনুলিখন : মীর হুযাইফা আল মামদূহ


মন্তব্য