kalerkantho

বৈশাখী ছবি

১৪ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



বৈশাখী ছবি

বিসর্জন’-এ আবির ও জয়া

এবারের পহেলা বৈশাখে মুক্তি পাচ্ছে তিন ছবি। বাংলাদেশে ‘ধ্যাততেরিকি’, ওপার বাংলায় ‘বিসর্জন’ ও ‘ওয়ান’।

এর মধ্যেই ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা বাংলা ছবি হওয়া ‘বিসর্জন’-এ আছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসান। অন্যদিকে যশ দাশগুপ্ত আর নুসরাতের ‘ওয়ান’-এ খলচরিত্রে দেখা যাবে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জিকে। ছবি তিনটি নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক

 

নতুন-পুরনোর ‘ধ্যাততেরিকি’

 

ছবিতে আছেন ‘পুরনো’ আরিফিন শুভ আর নুসরাত ফারিয়া। আছেন নতুন ফারিন আর রোশান। ‘মেন্টাল’ পরিচালক শামীম আহমেদ রনির ছবি ‘ধ্যাততেরিকি’। দুই জুটির কমেডি-অ্যাকশন ছবি। নববর্ষের উৎসবে ছবিটি দর্শকের প্রত্যাশা মেটাবে বলছেন সবাই। ছবির জন্য প্রস্তুতির ঘাটতি রাখেননি কেউ। ‘ছবির জন্য প্রায় এক মাস লাঠিখেলা ও শাস্ত্রীয় নৃত্য শিখেছি।

চরিত্রের প্রয়োজনে শারীরিক গঠনে পরিবর্তন আনতে কয়েক মাস ধরে ব্যায়াম করতে হয়েছে,’ বললেন নুসরাত ফারিয়া। শুভ বলেন, ‘আমি সিরিয়াস চরিত্রে বেশি অভিনয় করেছি। এই চরিত্রটি কমেডি ধাঁচের, যা দেখে দর্শকরাও আনন্দ পাবেন। ’ আর নতুন ফারিনের কাছে এখনো পুরোটাই যেন স্বপ্ন। ফেসবুকে ছবি দেখে জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে ফোন পেয়েছিলেন, “আমি তো যাব কি যাব না করছিলাম। গেলে হবে কি না। শুধু শুধু গিয়ে কী করব। আমার সঙ্গে এক ভাইয়া ছিলেন। তিনি বললেন, ‘আগে যাও তো। ’ আমি না যাওয়ার জন্য তাঁর কাছে অজুহাত দেখালাম, আমার কাছে তো সিএনজি ভাড়াও নেই। তিনি আমার ভাড়াটা পর্যন্ত দিয়ে দিলেন। একরকম বাধ্য হয়েই গেলাম ইন্টারভিউ দিতে। অনেক রকমের পরীক্ষার পর তাঁরা হ্যাঁ করলেন,” বললেন ফারিন।

জানুয়ারির ৮ তারিখে শুরু হয়ে টানা ২৮ দিন ছবিটির   শুটিং হয়।

 

অনেক অপেক্ষার ‘বিসর্জন’

গল্পটা মোটাদাগে চেনা। মানে মুসলিম ছেলে আর হিন্দু মেয়ের প্রেম নিয়ে অনেক সিনেমাই তো হয়েছে এ পর্যন্ত। তবে পরিচালক যখন কৌশিক গাঙ্গুলি, তখন নতুন কিছু তো হতে বাধ্য। শুধু দুই ধর্মের দুজন নয়, ‘বিসর্জন’-এ প্রেম হয় দুই দেশের দুই মানুষের মধ্যেও। কাঁটাতারের ব্যবধান পেরিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের প্রেমকাহিনিই দেখানো হয়েছে ছবিতে। কিন্তু কেনই বা এমন একটি গল্প বাছা? পরিচালক কৌশিক বললেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ নিয়ে নানা রকম কথা হয় সব সময়। দেশটা ভাগ করা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করে। এপারে হিন্দুরা থাকবে, ওপারে মুসলমান। কিন্তু বন্ধুবান্ধব ভাগ করা যায়নি, নদীর জলও ভাগ হয়নি। একইভাবে প্রেমকেও ভাগ করা যায়নি। এই ভাবনা থেকেই ছবিটা করা। ’ দুই দেশের প্রেমের গল্প শুনতে একটা রাজনৈতিক গন্ধও লাগে। যদিও পরিচালক বলছেন এটা রাজনৈতিক গল্প মোটেও নয়, ‘এটা একেবারেই প্রেমের গল্প। ছবির মধ্যে একটা প্রেক্ষাপটে মানুষের অসুবিধার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেটা সারা দুনিয়ার মানুষের সমস্যা। ’

ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্র পদ্মা বাংলাদেশের হিন্দু বিধবা, যে চরিত্র করেছেন জয়া আহসান। নিজের প্রথম ছবিতে একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করলেও [আবর্ত] এই প্রথম পরিচালক কৌশিকের সঙ্গে কাজ করছেন জয়া, যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী বলছেন, অনেক দিন পর পর্দায় সত্যিকারের প্রেমের গল্প দেখবে মানুষ, ‘গ্রামের বিধবা মেয়ের জীবনসংগ্রাম, প্রেম দেখানো হয়েছে। দুই বাংলার কথাও এসেছে খুব ভালোভাবে। ’

দুই বাংলার কথা এলেও ছবির শুটিং পুরোটাই হয়েছে পশ্চিম বাংলায়। ইছামতীর ধারে একটা গ্রামকে বাংলাদেশের গ্রাম হিসেবে বানানো হয়েছে। ছবিতে অভিনয় করেছেন পরিচালক নিজেও, যার মুখে থাকবে বাঙাল ভাষার সংলাপ, ‘আসলে ঠাকুমা আর বাবাকে শুনতে শুনতে বোধ হয় ওদের নকল করে ভাষাটা তুলে ফেলেছিলাম!’ একই সঙ্গে পদ্মা চরিত্র করা জয়াকে প্রশংসায় ভাসালেন তিনি, ‘জয়া তো আছেই...আর কী বলব! যেভাবে হাওয়া বয়, সেভাবেই ওই ভাষাটা বলে ও। আর নিজের ভাষায় একজন বাঘিনীর মতো অভিনয় করে জয়া। অকল্পনীয়!’

ছবিতে জয়ার বিপরীতে নাসির চরিত্র করেছেন আবির চ্যাটার্জি, হাল আমলে যাঁর গোয়েন্দা হিসেবেই বেশি খ্যাতি! সেখান থেকে অনেক দিন পর তাঁকে দেখা যাবে একেবারেই গ্রামের সাধারণ যুবকের চরিত্রে, যা অভিনেতার কাছে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের মতোই, ‘আমার চরিত্রটা গ্রাম্য আবহে তৈরি, তার মুখে খেলা করে গ্রামবাংলার ভাষা। এই নতুন অভিজ্ঞতা। ’

‘বিসর্জন’-এ আরেকজনের নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারত—তিনি কালিকাপ্রসাদ। ছবির অন্যতম সংগীত পরিচালক এক সড়ক দুর্ঘটনায় চলে গেছেন না-ফেরার দেশে, যা নিয়ে মুক্তির আগে আবেগ ছুঁয়ে গেছে সবাইকে। ‘কালিকা এই ছবিতে দুই বাংলার বহু লোকসংগীত ব্যবহার করেছেন। শুধু অভিনয় নিয়ে কথা বললে স্বার্থপরের মতো শোনাবে। কারণ সংগীতও ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশ,’ বললেন আবির।

মুক্তির এক সপ্তাহ আগে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা বাংলা ছবি হয়েছে ‘বিসর্জন’। তবে এর চেয়েও সাধারণ মানুষের মতের ওপর গুরুত্ব দিতে চান আবির, ‘পুরস্কার খুবই খুশির খবর, কিন্তু সাধারণ দর্শকদের মতামতের ওপরই নির্ভর করে ছবির আসল কদর। ’

 

বক্স অফিস কাঁপাবে ‘ওয়ান’

 

টিজার, ট্রেলার থেকে গান—যখন যা মুক্তি পেয়েছে, লাখ লাখ ভিউয়ার পাওয়া গেছে ইউটিউবে। ছবির ট্রেলার নিয়ে টুইট করেছেন অমিতাভ বচ্চন থেকে আমির খান পর্যন্ত! এত কাণ্ড ‘ওয়ান’ নিয়ে। ছবির পরিচালক বিরসা দাশগুপ্ত। ‘শুধু তোমারই জন্য’ থেকে ‘গ্যাংস্টার’—ভালো বাণিজ্যিক ছবি বানানোর সুনাম আছে পরিচালকের। তাঁর শেষ ছবি ‘গ্যাংস্টার’-এ অভিষেক ঘটিয়েছিলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ যশ দাশগুপ্তকে। সেই যশ আছেন এবারও। এবার নায়িকা অবশ্য নুসরাত জাহান। তবে চমক নায়ক-নায়িকা নন, খলনায়ক! কারণ এই চরিত্রে আছেন প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী। অনেক দিন পর অন্য ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। কাগজে-কলমে ‘ওয়ান’ তামিল ছবি ‘থানি ওরুভান’-এর অফিশিয়াল রিমেক, যেটি আবার তৈরি হয়েছিল জনপ্রিয় কোরীয় ছবি ‘আই স দ্য ডেভিল’ অবলম্বনে।

যশ-নুসরাতের কেমিস্ট্রি নয়, ছবিতে পরিচালকের বাজি সেই প্রসেনজিতেই। ‘তিনি [প্রসেনজিৎ] কয়েক বছর ধরে সেভাবে বাণিজ্যিক ছবি করেননি। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির জন্য তাঁর বাণিজ্যিক ছবি গুরুত্বপূর্ণ। এই ছবিতে শুরু থেকেই তাঁকে চেয়েছি। বলেছি, আপনার আরো অনেক কিছুই দেখানো বাকি। সেসব দেখিয়ে দিন। ’

ছবিতে প্রসেনজিেক দেখে সৌমিত্র চ্যাটার্জি বলেছেন, ‘আমরা নতুন করে বুম্বার প্রেমে পড়েছি। ’ তবে অভিনেতা বলছেন, বারবার নিজেকে ভাঙাগড়াই তাঁর কাজ। ছবি নিয়ে যশ বললেন, ‘এখন লড়াই মানেই মস্তিষ্কের লড়াই। আদিত্য সেন [প্রসেনজিৎ] সব ক্ষেত্রেই সেরা হতে চায়। আমিও আমার মতো করে ১ নম্বরে যেতে চাই। এ লড়াই নিয়েই ছবি। তবে টিপিক্যাল হিরো-ভিলেনের গল্প নয়, অনেক টুইস্ট আছে। ’

ছবির বেশির ভাগ অংশের শুটিং হয়েছে কাশ্মীরে।


মন্তব্য