kalerkantho

আমি মেলা থেকে...

শোবিজ তারকারা জানিয়েছেন তাঁদের কৈশোরের মেলার কথা, খেলনার কথা। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৪ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



আমি মেলা থেকে...

হাওয়াই মিঠাই কিনতাম

আফজাল হোসেন, অভিনেতা

বৈশাখী মেলা থেকে আমি ছোটবেলায় চাকা লাগানো মাটির ঘোড়ার গাড়ি কিনতাম। আর কাগজের তৈরি কুমির পাওয়া যেত মেলায়।

কাগজ ভাঁজ করে বানানো হতো। আরেকটা খেলনা পাওয়া যেত ডুগডুগির মতো। রঙিন কাগজ লাগানো থাকত। হাত দিয়ে ঘোরালে ডুগ ডুগ করে বাজত। খেলনার সঙ্গে কটকটি, চিনি দিয়ে তৈরি নানা খাবার, হাওয়াই মিঠাই কিনতাম। মজার ব্যাপার হচ্ছে, মেলা উপলক্ষে আমাকে আট আনা পয়সা দিলে সব খেলনা ও খাবার কিনেও চার আনা বেঁচে যেত। এখন মেলায় মাঝেমধ্যে যাই কিন্তু সেই মজাটা আর পাই না। সেই সময়কার মতো খেলনাগুলো আর খুঁজে   পাই না।

 

ঢাক, ডুগডুগি আর টমটম

কুমার বিশ্বজিৎ, সংগীতশিল্পী

আমি সীতাকুণ্ডের যে জায়গায় বড় হয়েছি সেখানে প্রচুর মেলা হয়।

বড় বড় মেলা। এসব মেলায় আমার পছন্দের কিছু খেলনা ছিল। এর মধ্যে অন্যতম টমটম গাড়ি। রশি ধরে টানলে একটানা শব্দ হতো। এই শব্দটার প্রতি ভীষণ দুর্বল ছিলাম। এই শব্দ শোনার জন্যই টমটম কিনতাম। এর সঙ্গে ঢাক ও ডুগডুগি কিনতাম। মেলায় নকুলদানা পাওয়া যেত, ওপরে সাদা প্রলেপ ভেতরে বাদাম দেওয়া। খেলনার পাশাপাশি এই খাবারটার প্রতি দুর্বলতা ছিল। মেলায় গেলে চরকিতে চড়তাম। তিন-চারজন মানুষ টেনে টেনে চরকি ঘোরাত। এখন আর মেলায় যাওয়া হয় না। ফলে কেনাও হয় না খেলনাগুলো। বাচ্চাদের যে কিনে দেব সেই উপায় নেই, ওরা তো এগুলোর প্রতি দুর্বল না। কিন্তু খুব মিস করি মেলার খেলনাগুলো।

 

পুতুল খুব পছন্দ ছিল

শামীম আরা নীপা, নৃত্যশিল্পী

বৈশাখ মাসের মেলায় যেতাম পুতুল কেনার জন্য। তখন এখনকার মতো এত প্লাস্টিকের খেলনা বা পুতুল পাওয়া যেত না। মেলার বেশির ভাগ খেলনাই ছিল মাটি দিয়ে তৈরি। আমার দুটি পুতুল খুব পছন্দ ছিল। একটা ছিল ঘোড়ার মতো দেখতে আরেকটা দেখাত গণেশের মতো। এই দুটি পুতুল কেনার জন্য সারা বছর মেলার অপেক্ষায় থাকতাম—মেলায় কবে যাব, পুতুল কিনব! পুতুল কিনে বাসায় এনেই কাপড় কেটে শাড়ি বানাতাম পুতুলের জন্য। সেগুলো বর-বউ সাজিয়ে সঙ্গীদের সঙ্গে খেলতাম। এখন বৈশাখী মেলায় যাওয়া হয় না। কিছু কেনাও হয় না। তবে ইচ্ছা করে বৈশাখী মেলায় যাওয়ার।

 

মুখোশ কিনতাম

কবরী সারোয়ার, অভিনেত্রী

চট্টগ্রামে বৈশাখ মাস এলেই যেন উৎসব শুরু হতো। মেলা এলে বাড়ির মেয়েরাও খুব উৎসবের আমেজে থাকতাম। ভাইবোনদের সঙ্গে মেলায় গিয়ে মুখোশ কিনতাম। বিভিন্ন রকমের প্লাস্টিকের মুখোশ পাওয়া যেত মেলায়। বৈশাখী মেলায় জব্বারের বলীখেলা হতো। ওই মেলা থেকে মাটির পুতুল, মাটির হাঁড়ি-পাতিল কিনতাম। তখন খেলনার সঙ্গে ‘মারফা’ [বুড়ো শসা] কিনতাম। এটা চিংড়ির শুঁটকি দিয়ে রান্না করে খেতে ভারি মজা। বৈশাখ এলে আমার বাপ-চাচারা ব্যবসা করতে বার্মায় (মিয়ানমার) যেতেন। তাঁদের বলে দিতাম সেখান থেকে খেলনা কিনে আনার জন্য।

 

সবার আগে টমটম

আমজাদ হোসেন, চলচ্চিত্রকার

আমার ছোটবেলা কেটেছে জামালপুরে। তখন বৈশাখ মাস এলেই বিভিন্ন এলাকায় শুরু হতো বৈশাখী মেলা। আমরাও মুখিয়ে থাকতাম। পছন্দের খেলনা কেনার আগ্রহই ছিল বেশি। সবার আগে কিনতাম টমটম গাড়ি। মাটির পাত্রের ওপর কাগজ লাগানো থাকত। গাড়ির সঙ্গে বাঁধা রশি ধরে টানলে দুটি কাঠি পাত্রটার ওপর পড়ে টমটম শব্দ করে বাজত। মাটির ঘোড়া, হাতি, বাঁশিও কিনতাম। তবে মিছরির তৈরি হাতি, ঘোড়া, মাছ—এগুলো প্রিয় খেলনা হিসেবেই কিনতাম। এখন আর মেলায় যাওয়া হয় না, এসব খেলনাও আর কেনা হয় না।

 

টমটম, চিনির হাতি-ঘোড়া কিনতাম

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, গীতিকার-সুরকার

বৈশাখী মেলায় চিনি দিয়ে তৈরি হাতি, ঘোড়া, গরু, হাঁস, মুরগি, জেব্রা, জিরাফসহ নানা আকৃতির তৈরি খেলনা খাবার পাওয়া যেত। দেখতে অনেক সুন্দর। অন্যান্য খেলনার চেয়ে আমার আকর্ষণ বেশি থাকত এগুলোর প্রতি। কারণ আমি খেতে পছন্দ করতাম। আর টমটম গাড়ি চালিয়ে খুব মজা পেতাম। মেলাতেই পাওয়া যেত এই গাড়ি। দড়ি ধরে টমটম চালিয়ে ওই খাবারগুলো খেতে খেতে বাড়িতে চলে আসতাম। তারপর বড় হয়ে আর কখনো বৈশাখী মেলায় যাওয়া হয়নি। এ জন্য কোনো খেলনাও আর কেনা হয় না। তবে বৈশাখ এলেই ছোটবেলার মেলার ও খেলনার কথা খুব মনে পড়ে।


মন্তব্য