kalerkantho

ভুল সম্পর্কে আছেন?

১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভুল সম্পর্কে আছেন?

যতই দিন যাচ্ছে, ভালোবাসার সম্পর্কে তিক্ততা বাড়ছে। সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা উচিত কি না তা নিয়েও দ্বিধান্বিত আপনি? কখন বুঝবেন আপনি ভুল সম্পর্কে আছেন—এ নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন প্ল্যান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েটেডের কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট ফাহমিদা জামান। শুনেছেন এ এস এম সাদ।

পিংকির (ছদ্মনাম) সঙ্গে একটা ছেলের সম্পর্ক ছিল দুই বছরের মতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের একেবারে শেষের দিকে ভালো বন্ধু থেকে ওদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। শুরুতে সম্পর্ক ঠিক থাকলেও পরবর্তী সময়ে সম্পর্কে ফাটল ধরা শুরু করে। পিংকিকে অহেতুক সন্দেহ এবং সব কাজে দোষারোপ করা হয়। তা ছাড়া শুরুতে যে মধুর সম্পর্ক ছিল, তা-ও বিলীন হয়ে গেছে। অবশেষে পিংকি এই সম্পর্কের ইতি টানতে বাধ্য হন। বলেন, ‘আমি সঠিক সময়ে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছি; নয়তো ভবিষ্যতে আরো বড় ক্ষতি হতো।’ সময় থাকতেই বুঝতে হবে, কখন আপনার সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

কিছু বিষয় মাথায় রাখতে পারেন—

দায়বদ্ধতা এড়িয়ে চললে : প্রতিটি সম্পর্কের মধ্যে একটি দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। কিন্তু এই দায়বদ্ধতা যখন কোনো সঙ্গী এড়িয়ে চলেন, তখনই সমস্যা দানা বাঁধতে শুরু করে। প্রয়োজনে সঙ্গীর সঙ্গে এই সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করুন। কারণ সঙ্গীর কাছ থেকে আস্থা না পেলে আপনি নিজেও মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগতে পারেন।

অতীত নিয়ে আঘাত : বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গে সুখে-শান্তিতে থাকতে চান; কিন্তু আপনার সঙ্গী প্রায়ই আপনার অতীতের কথা দিয়ে আঘাত মনে করিয়ে দেয়। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে অতীতের কথাগুলো আপনার জন্য কষ্টদায়ক। আপনার কষ্টের কথা ভেবে সে অতীতের কথা বলা থেকে বিরত থাকলে সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু অতীত নিয়ে বারবার দোষ দিলে এই সম্পর্ক রাখবেন কি না ভেবে দেখতে পারেন। 

দুজনের মতের অমিল : জীবনে চলার পথে দুজনের মতের মিল সব সময় এক না-ও হতে পারে; কিন্তু মতের অমিলে যদি অতিরিক্ত ঝগড়া হয়, তাহলে সম্পর্ক নিয়ে একটু ভেবে দেখা উচিত। কারণ যে ব্যক্তির সঙ্গে ঘর বাঁধবেন বলে ঠিক করেছেন, তাঁর সঙ্গে মতের মিল হওয়াটাও জরুরি, অন্যথায় জীবন কাটানো কঠিন হবে।

অতিমাত্রায় ঝগড়া-বিবাদ : সম্পর্কে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হওয়া স্বাভাবিক। অনেক সময় ঝগড়ায় ভালোবাসা বেড়েও যায়, সম্পর্ক গভীর হয়; কিন্তু অত্যধিক মাত্রায় ঝগড়া কখনো কোনো সম্পর্কের জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। ঝগড়া থেকে দুজনের মধ্যে অনেক ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকে, যা পরে সমস্যা তৈরি করে। দুজনের মধ্যে যদি ঝগড়াই বেশি হয়, তাহলে বুঝতে হবে সম্পর্কের ভবিষ্যত্ তিক্ত। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন।

শ্রদ্ধাবোধ একেবারেই নেই : সম্পর্কের শুরুর দিকে ভালোবাসার মানুষটি আপনাকে শ্রদ্ধা করত; কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে, আপনি খেয়াল করলেন, আপনার জন্য তার কোনো সম্মান কিংবা শ্রদ্ধাবোধ নেই। বলা বাহুল্য, আপনার জন্য যার শ্রদ্ধাবোধ নেই, তার সঙ্গে ভবিষ্যত্ অন্ধকার।

সব দোষ আপনার : সম্পর্কের মধ্যে রাগ, অভিমান আর খুনসুটি থাকবেই। দুজনের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে মান-অভিমান থাকলে সেটা দুজন মিলেই সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু প্রতিটি ব্যাপারে যদি আপনাকেই দোষ দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে পরিণাম কী হবে ভেবে নিন। সমস্যা অথবা মনোমালিন্য হলে সঙ্গী সমাধানের জন্য এগিয়ে না এসে যদি দোষ শুধু আপনার ঘাড়েই চাপাতে থাকে, তাহলে সম্পর্ক নিয়ে আরো একবার ভাবুন।

আপনার কথার মূল্যায়ন : একটা সম্পর্ক তখনই মধুর হয়ে ওঠে, যখন পরস্পরের কথা ও সিদ্ধান্তকে মূল্যায়ন করা হয়। যদি সব ব্যাপারে আপনার কথা অগ্রাহ্য করা হয়, তাহলে বুঝতে হবে, সে যা ভাবছে, সেটাকেই সঠিক মনে করছে। যার জন্য আপনার সিদ্ধান্তকে সে আমলে নিচ্ছে না। এবার ভেবে দেখুন, জীবনসঙ্গী হিসেবে আপনি ভুল মানুষকে নির্বাচিত করেছেন কি না।

আপনার কাজকর্ম বন্ধ : কর্মক্ষেত্রে আপনার কাজকর্ম এবং আপনি কোথায় কার সঙ্গে চলাফেরা করছেন, সেটা নিয়ে আপনার সঙ্গী অনেক সময় সন্দেহ পোষণ করতে পারে। আপনার উচিত বিষয়গুলো তার সঙ্গে পরিষ্কার করে নেওয়া। কিন্তু বোঝানোর পরও যদি কাজ না হয়, তাহলে সম্পর্কের ভবিষ্যত্ নিয়ে ভেবে দেখা উচিত।

আপনি প্রতারিত হচ্ছেন : কেউ ভুল করলে সংশোধনের জন্য সুযোগ দিয়ে দেখতে পারেন; কিন্তু একই ভুল কেউ যদি বারবার করতেই থাকে, তাহলে তা প্রতারণাতুল্য। ভেবে দেখুন কী করবেন!

মন্তব্য