kalerkantho


আপনার শিশু

শিশুর ঘুম

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



শিশুর ঘুম

শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু সুষম খাবার, ব্যায়াম বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই নয়, ঘুমও অতিপ্রয়োজনীয়। সঠিক পরিবেশ পেলে নবজাতক শিশু ৮০ শতাংশ সময়ই ঘুমায়। অর্থাৎ তারা দিন-রাত মিলিয়ে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা ঘুমায়। কোনো শিশু দিনে বেশি ঘুমায় আবার কেউ বা রাতে বেশি ঘুমায়, এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। শিশুর ঘুম নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন সানশাইন চাইল্ড ডে কেয়ারের স্বত্বাধিকারী ফারহানা আহমেদ

 

♦          জন্মের পর শিশু যদি পর্যাপ্ত খাবার, আরাম, বিশুদ্ধ বাতাস পায় এবং ঘুমের জন্য একটি ভালো জায়গা পায়, তাহলে প্রায় ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা ঘুমাবে। শিশু যে ঘরে ঘুমাবে, সেই ঘরে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, বাতাস যেন দুই দিক দিয়ে যাওয়া-আসা করতে পারে—অর্থাৎ দরজা ও জানালা কিংবা দুই দিকের জানালা খোলা থাকতে হবে।

♦          শিশুর ঘর অন্ধকার বা স্যাঁতসেঁতে হওয়া যাবে না, ঘরে অতিরিক্ত আসবাব রাখা যাবে না, অতিরিক্ত আসবাব ঘরে বাতাস আসা-যাওয়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে ও ধুলা জমতে সাহায্য করে, যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর।

♦          খাবারের কিছুক্ষণ পর শিশুকে ঘুমানোর অভ্যাস করানো ভালো। এতে শিশু লম্বা সময় ঘুমায়। ঘুমানোর আগে যেসব শিশু বুকের দুধ পান করে, সেসব শিশুর পেটের গ্যাস বের করে নিতে হবে। না হলে পেট ব্যথা বা হজমে সমস্যা হয়ে ঘুম ভেঙে শিশু কান্নাকাটি করতে পারে।

♦          ঘুমের সময় শিশুকে অতিরিক্ত কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখা যাবে না। শিশুর রক্তসঞ্চালন যেন ঠিক থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুকে নরম সুতির পোশাক পরাতে হবে।

♦          শিশুর জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক ঘুমের অবস্থান উপুড় হয়ে ঘুমানো। দু-তিন মাস বয়স থেকে এ অভ্যাস গঠনের চেষ্টা করলে শিশু বেশ উপকৃত হবে। নাভি শুকানোর পর শিশুকে উপুড় করে শোয়ানোর অভ্যাস করলে পেটের গ্যাস বেরিয়ে যায়। তিন-চার মাস বয়সের আগ পর্যন্ত শিশু নিজে থেকে পাশ ফিরতে পারে না। তাই তাকে ঘুমের মধ্যে কিছুক্ষণ পরপর পাশ ফিরিয়ে দিতে হবে।  উপুড় করে শোয়ালেও মাথা পাশ ফিরিয়ে রাখতে হবে। যেন শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসে কোনো  সমস্যা না হয়।

♦          ঘুমানোর আগে শিশুকে বেশি নাড়াচাড়া, হাসানো বা উত্তেজিত করলে সহজে তার ঘুম আসবে না। ঘুমানোর অন্তত আধা ঘণ্টা আগে থেকে টিভি ও যেকোনো গেজেট থেকে দূরে রাখা উচিত।

♦          এক বছর বয়সের পর থেকে শিশুর ঘুমের পরিমাণ ৫০ শতাংশে কমে আসে। ঘুমের এই পরিমাণ পাঁচ-ছয় বছর পর্যন্ত মোটামুটি একই থাকে। দুই বছর বয়সের পর থেকে দুপুরে খাবার খাওয়ার পর ঘুমের অভ্যাস করানো ভালো। পাঁচ বছরের শিশুর জন্য দৈনিক আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

♦          নবজাতক শিশু পেট ভরা থাকলে তার নিয়মেই ঘুমাবে। তবে চার-পাঁচ মাস বয়স থেকে ঘুমের অভ্যাস সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা ভালো। এক মাস বয়স থেকেই শিশুকে ঘুমের রুটিনে নিতে চেষ্টা করুন। ঘুমের সঠিক পরিবেশ তৈরি করে ঘুমানোর অভ্যাস করাতে হবে। দিনে বা রাতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে নিতে হবে। ঘুমের প্রস্তুতি হিসেবে ঘর অন্ধকার করে দেওয়া যেতে পারে। হালকা গান শুনতে শুনতে ঘুমাতে পছন্দ করে শিশুরা। মৃদু দোল দেওয়াও যেতে পারে। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দোল দেওয়ার অভ্যাস কমিয়ে গানের অভ্যাস করা ভালো।

♦          ঘুম শিশুর মৌলিক প্রয়োজন। ঘুমের মাধ্যমে শিশুর মস্তিষ্ক ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিশ্রাম হয়। অসুস্থতা, আবহাওয়ার বদলসহ নানা কারণে শিশুর বিকাশের সঙ্গে তার ঘুমের রুটিনও বদলে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ধৈর্য ও সময় নিয়ে শিশুকে আগের রুটিনে ফিরিয়ে আনতে হবে। শিশুর ভালো ঘুমের জন্য ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানিতে গোসল করানো বা গা স্পঞ্জ করে দেওয়া যেতে পারে। ঠাণ্ডার সমস্যা থাকলে গোসলের বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে নেওয়া নিরাপদ।



মন্তব্য