kalerkantho


কাজের মানুষ

সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক?

সৈয়দ আখতারুজ্জামান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্রিজ ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং, অ্যান্ড কনসালট্যান্সি   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক?

প্রতিযোগিতার এই যুগে অনেকেই শুধু আট ঘণ্টার মধ্যে কাজের পরিধি সীমাবদ্ধ রাখতে পারেন না। ৯টা-৫টার পরেও কাজ করতে হতে পারে। ফলে দিনের একটা বড় অংশ অফিসেই কাটাতে হয়। আর এই একসঙ্গে কাজ করতে করতে সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, যা অনেক সময় রূপ নেয় ভালোবাসায়। হতেই পারে। কিন্তু এখানেও প্রয়োজন পেশাদারীর প্রয়োগ। রইল ১০ পরামর্শ :

 

এক. গোপনীয়তা

কাজ করতে করতে ভালোবাসা হতেই পারে; কিন্তু এটা যদি অফিস সংস্কৃতির বা রীতির অন্তরায় হয়, তাহলে বাধা আছে। সুতরাং সকর্ত থাকুন এবং সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখুন। অন্যথায় দুজনেরই চাকরি চলে যেতে পারে।

 

দুই. সহকর্মীদের প্রভাব

আপনাদের সম্পর্কের ওপর যেমন সহকর্মীদের প্রভাব আছে, তেমনি সহকর্মীদের ওপরও আপনাদের সম্পর্কের প্রভাব আছে, যা কোনো ক্ষেত্রে আপনাদের সম্পর্কের এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ ব্যাহত করে। তাই প্রাথমিক স্তরে সহকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকুন।

 

তিন. জটিলতা

আগেই বলেছি, পরিস্থিতি বিচারে কর্তব্য নির্ধারণ হবে। যদি এমন হয় যে এই ভালোবাসা এখনো পরিণত নয়, অর্থাৎ একতরফা; তাহলে অবস্থা সবচেয়ে জটিল। আপনি অভিযুক্ত হতে পারেন, অফিসে নিজের অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, এমন কী আপনি চাকরিচ্যুতও হতে পারেন। সুতরাং সাবধান হতে হবে। আর যদি এমন হয় যে আপনাদের নিজের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো, তাহলে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থা বলা যায়। এ ক্ষেত্রে দুজন একসঙ্গে পরিস্থিতি সামলানোর পরিকল্পনা করতে পারবেন।

চার. অফিসের বাধা

অফিসের সহকর্মীর সঙ্গে ভালোবাসা এবং পরিণতিতে বিয়ে এবং সংসার কোনো নতুন ঘটনা নয়। হাজারো উদাহরণ আছে। কিন্তু কোনো কোনো অফিসের রীতিতে আছে যে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে চাকরি করতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে কাউকে না কাউকে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, ভালোবাসার পথ থেকে সরে আসেননি। তাই পরিণত অবস্থায় এলে আপনিও অফিসের যথাযথ বিভাগে বিষয়টি জানান এবং আগেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করুন। জানাজানি হওয়ার পর চাকরিচ্যুত হলেন—এমন পরিস্থিতি ডেকে এনে নিজেদের কোনোভাবেই বিতর্কিত করবেন না।

 

পাঁচ. কাজের এলাকা

অভিজ্ঞতা থেকে বিজ্ঞজনরা বলেন, স্বামী-স্ত্রী এক অফিসে চাকরি করলেও এক বিভাগে না করাই ভালো। এ রীতি আপনিও অনুসরণ করার চেষ্টা করুন।

 

ছয়. চলমান অবস্থায়

বিয়ের আগ পর্যন্ত দুজনই যতটা সম্ভব অফিসের কাজে যেন কোনো রকম ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। অফিসের রীতি অনুসরণ করুন, সহকর্মীদের প্রভাবমুক্ত রাখুন। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অফিসের মধ্যে আপনাদের ঘনিষ্ঠতা যাতে কোনো কারণে সমালোচিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। পরিণতি ভেবে কাজ করুন। নিজের সময়টুকু অফিসের বাইরে নির্বাচন করুন।

 

সাত. মানসিক সংকট

আপনাদের মধ্যকার সম্পর্কের জটিলতা বা মানসিক সংকট অফিসে আপনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। উভয়কেই এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। নিজেদের মধ্যে যা-ই হোক না কেন, কাজের জায়গায় পেশাদার থাকার চেষ্টা করুন।

 

আট. পেশাগত দক্ষতা

অনেক ক্ষেত্রে আপনাদের ভালোবাসা পেশাগত দক্ষতার উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে পদোন্নতি হয়ে বিভাগ পরিবর্তন, বা শাখা পরিবর্তন বা বিচ্ছিন্ন হতে হয়—এমন অনেক ঘটনায়ই প্রতিকূলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি কাজে মনোসংযোগের ব্যাঘাত হওয়ায় বারবার ভুল হওয়ার ঘটনাও বেড়ে যেতে পারে, যা আপনাদের কারো জন্যই কাম্য নয়।

 

নয়. যোগাযোগ

নিজেদের মধ্যকার যোগাযোগের জন্য অফিসের ই-মেইল ব্যবহার করবেন না। অফিসের মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না। পিএবিএক্স লাইন বেশিক্ষণ ব্যস্ত রাখবেন না। মনে রাখবেন, আপনার চারপাশের সবাই অন্য সবার অফিস আচরণ লক্ষ করছেন।

 

দশ. আপনার সিদ্ধান্ত

আপনার ভালোবাসা আগে নাকি ক্যারিয়ার, সেটা যেমন গুরুতর প্রশ্ন, তেমনি এক রকম অর্থহীন প্রশ্নও বটে। যদি দুটিই জরুরি মনে করেন, তাহলে আপনাকে কৌশল অবলম্বন করতেই হবে।

অফিসে যদি আপনার খুবই বিশ্বস্ত কোনো সহকর্মী থাকেন, তিনি আপনার স্তরের সহকর্মীই হোন বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই হোন না কেন, চাইলে তাঁর সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করতে পারেন।

জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে তিনি আপনাদের পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করতে পারবেন। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, তিনি যেন আপনাদের দুজনেরই শুভাকাঙ্ক্ষী হন। বিচারে ভুল করবেন না।



মন্তব্য