kalerkantho


পর্যটকের দিনলিপি

স্বর্ণত্রিভুজ

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



স্বর্ণত্রিভুজ

মোহাম্মদ মাহবুবুর নূর, চয়ন বুক্স্, ১৫৮/২, ক্রিসেট রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫, ৭৫০ টাকা

লেখক ইতিহাসে আগ্রহী। তবে সাধারণ ভ্রমণকারীদের মতো ‘প্রচলিত দর্শনীয়’ স্থানেই নয়, ঘুরেছেন মূলত অপ্রচলিত জায়গাগুলোতেই। দেখেছেন সুলতানি ও মোগল আমলের ভারতবর্ষের এমন সব জায়গা, যেখানে সাধারণ ভ্রমণকারীদের যাওয়া হয় না। ফতেহপুর সিক্রি, তাজমহল, কুতুব মিনারের মতো জনপ্রিয় জায়গার সঙ্গে লেখায় উঠে এসেছে রাজপুর স্থাপত্যরীতিতে তৈরি জয়পুর রেলস্টেশন, বাহাই ধর্মের লোটাস টেম্পলের মতো অপ্রচলিত জায়গার বয়ানও। এসব জায়গার বর্তমান হালহকিকত, অর্থনীতি, ব্যবসার আলাপের সঙ্গে লেখক ফিরে গেছেন ইতিহাসের পাতায়ও। আজমিরের কথা তিনি শুরু করেছেন কৃষাণগড় দিয়ে। আজমির জেলার এই শহর পাথর ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। আমাদের দেশে যেমন প্রচুর ইটের ব্যবহার দেখা যায়, এখানে চোখে পড়ে পাথরের। এরপর তিনি ফিরে গেছেন আজমিরের দরগার বিবরণে। যেখানে আছে চিশিতয়া তরিকার প্রবর্তক খাজা মঈনউদ্দিন চিশিত (রহ.)-এর কথা, দরগার বিভিন্ন স্থাপনা আর তার ইতিহাসের নিখুঁত বর্ণনা।

ইতিহাসই নয়, সঙ্গে এসেছে সাধারণ মানুষের কথাও। মাজার, মসজিদ, মন্দির, দুর্গের সঙ্গে খুঁজে পাওয়া যায় অদ্ভুত দর্শন গাছের কথাও। মোগলাইয়ের ব্যাপার যখন, তখন অবধারিতভাবেই আছে খাওয়া আর খাওয়ার দোকানের গল্পও। করিমসের মাটন জাহাঙ্গীরি ও শিরমালের বর্ণনাও কম উপভোগ্য নয়। আর্ট পেপারে ছাপা আর লেখকের নিজের তোলা চমৎকার সব ছবি মিলিয়ে ১০৪ পৃষ্ঠার এই বই নিয়ে যাবে ভারতের ইতিহাসের অলিগলিতে।

❏‌ লতিফুল হক


মন্তব্য