kalerkantho


রূপচর্চা

আমন্ড অয়েলের গুণাগুণ

আমন্ড হলো কাঠবাদাম। প্রাচীনকাল থেকে মধ্যপ্রাচ্য, ভারতীয় উপমহাদেশ ও উত্তর আফ্রিকায় আমন্ড ও আমন্ড অয়েলের বহু ধরনের ব্যবহার চলে আসছে। এই তেল চুল ও ত্বকের যত্নে অনন্য। হেয়ারোবিকস ব্রাইডালের রূপ বিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন মিউনী জানাচ্ছেন আমন্ড অয়েলের গুণাগুণ সম্পর্কে, লিখেছেন স্মিতা দাস

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আমন্ড অয়েলের গুণাগুণ

আমন্ড অয়েলে প্রচুর পরিমাণে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (ওমেগা-৯ ও ওমেগা-৬), ভিটামিন ই ও মিনারেল (জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, পটাসিয়াম) রয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও ত্বকের যত্নে এটি খুবই উপকারী। আমন্ড অয়েলে প্রচুর আনস্যাচুরেটেড ওলেইক এসিড (ওমেগা-৯) ও লিনোলিক এসিড (ওমেগা-৬) থাকে, যা সাধারণ স্যাচুরেটেড ভোজ্য তেলের মতো কোলেস্টেরল জমা করে না। এ ছাড়া রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই। ১০০ মিলি আমন্ড অয়েল দৈনিক চাহিদার প্রায় আড়াই গুণ ভিটামিন ই সরবরাহ করে। ফলে ত্বক ও চুল সুস্থ ও সজীব থাকে। আমন্ড অয়েলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ময়েশ্চারাইজার

তৈলাক্ত বা স্বাভাবিক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার হিসেবে শুধু আমন্ড অয়েল যথেষ্ট। শুষ্ক ত্বকে ডেইলি ময়েশ্চারাইজার বা লোশনের সঙ্গে আমন্ড অয়েল মিশিয়ে হাতে, পায়ে ও শরীরে ব্যবহার করতে পারেন। গোসলের আগে ও রাতে শোবার আগে দিনে দুবার আমন্ড অয়েল ব্যবহারে কোমল ত্বক পাবেন। নাইট ক্রিম হিসেবে রাতে মুখের ত্বকেও আমন্ড অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। আমন্ড অয়েল আর গোলাপজল সমপরিমাণ মিশিয়ে মুখমণ্ডলে ব্যবহার করুন। নামি যেকোনো নাইট ক্রিমের চেয়ে ভালো কাজ দেবে। সেনসেটিভ স্কিনের জন্য এই ময়েশ্চারাইজার নিরাপদ ও কার্যকর। নিয়মিত আমন্ড অয়েল ব্যবহার করলে মুখে বলিরেখা ও চামড়ায় বয়সের ছাপ পড়বে না। চোখের ডার্ক সার্কল দূর করতে রাতে ঘুমানোর আগে চোখের পাতা ও আশপাশে আমন্ড অয়েল মেখে সারা রাত রেখে দিন। 

স্ক্রাবার  

বাজারের কেনা স্ক্রাবার ত্বকের মৃতকোষ দূর করলেও সাময়িকভাবে ত্বককে রুক্ষ করে দেয়। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে বেছে নিন আমন্ড অয়েল। প্রথমে ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে যেকোনো স্ক্রাবারের সঙ্গে আমন্ড অয়েল মিশিয়ে স্ক্রাবিং করলে ত্বক শুষ্ক হবে না। ঘরোয়া স্ক্রাবার চাইলে মুখের ত্বকে আমন্ড অয়েল ও মোটা দানার চিনির মিশ্রণ সব ধরনের ত্বকের জন্য নিরাপদ। আমন্ড অয়েলের বডি স্ক্রাবার বানাতে চাইলে এক টেবিল চামচ বেসন, আধা টেবিল চামচ আটা আর দুই টেবিল চামচ চালের গুঁড়া মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণে যোগ করুন দুই টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল, এক চা চামচ গ্লিসারিন ও এক টেবিল চামচ মধু। এবার পরিমাণমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করলেই তৈরি হয়ে যাবে বডি স্ক্রাবার। সপ্তাহে এক দিন গোসলের আগে সারা শরীরে আলতো হাতে ম্যাসাজ করুন। ১০ মিনিট অপেক্ষা করে প্রথমে কুসুম গরম পানিতে গোসল করে নিন। ত্বকের মৃতকোষ ঝরে গিয়ে ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও সতেজ।
নিরাপদ পরিচর্যা

মেকআপ রিমুভার হিসেবে আমন্ড অয়েল নিরাপদ। চোখসহ পুরো মুখমণ্ডলে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন। অল্প পরিমাণে আমন্ড অয়েলের ব্যবহার যেকোনো ফেস ও হেয়ার মাস্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয় অনেকখানি। রোদ থেকে ফিরে ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে আমন্ড অয়েল লাগিয়ে রাখুন। স্কিনে রোদে পোড়া দাগ ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যাবে। দীর্ঘদিনের সানবার্ন দূর করতে টক দইয়ের সঙ্গে আমন্ড অয়েল মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে দিনে দুবার লাগান। এক ঘণ্টা রেখে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। সানবার্ন দূর হবে। শরীর ব্যথা ও ক্লান্তিতে আমন্ড অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে বডি ম্যাসাজ করলে আরাম পাবেন। ঠোঁটের সুরক্ষায় এক ফোঁটা গ্লিসারিনের সঙ্গে দুই ফোঁটা পানি মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। পানি শুকিয়ে গেলে ঠোঁটে আমন্ড অয়েল মেখে সারা রাত রাখুন। শীতে ঠোঁটের যত্নে আর ভাবতে হবে না। ভঙ্গুর নখে সারা রাত আমন্ড অয়েল মেখে রাখলে উপকার পাবেন। কার্যকর ফল পেতে প্রতিদিন এক চামচ আমন্ড অয়েল সালাদে মিশিয়ে খান।

চুলের যত্নে আমন্ড অয়েল

চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগাতে ও চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে সপ্তাহে দুই দিন যে কোন হারবাল তেলের সঙ্গে সমপরিমাণ আমন্ড অয়েল মিশিয়ে স্কাল্পে ম্যাসাজ করুন। চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালো করে তেল লাগান। গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে বাড়তি পানি নিংড়ে মাথায় গরম তোয়ালে জড়িয়ে রাখুন পাঁচ মিনিট। সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল পড়া কমাতে দুই টেবিল চামচ হেনা পাউডারের সঙ্গে সমপরিমাণ টক দই আর এক টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। সপ্তাহে এক দিন এই প্যাক চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে আধঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিন। চুলের গোড়া মজবুত হবে, সঙ্গে পাবেন নরম ও উজ্জ্বল চুল। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনারের বিকল্প হিসেবে হাতের তালুতে কয়েক ফোঁটা আমন্ড অয়েল ভেজা চুলে মেখে নিন। চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে ভালো করে সব চুলে মিশিয়ে দিন। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের আগা ফাটা কমে আসবে অনেকখানি। খুশকি কমাতে আমন্ড অয়েল গরম করে সমপরিমাণ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করুন। এর এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন।



মন্তব্য