kalerkantho


কাজের মানুষ

শুরু হোক আবার

অতীত স্মৃতি আমাদের অভিজ্ঞতা দেয়। ভবিষ্যত্ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা জোগায়। নতুন বছরে নতুন করে পথচলা শুরু হোক সাফল্যের পথে। শুধু আগামী একটি বছরের পরিকল্পনা নয়, বরং জীবনের সাফল্য ও লক্ষ্যের দিকে আরো খানিকটা এগিয়ে যাওয়ার পথচলা শুরু হোক। জেনে নিন সাফল্যের পথপরিক্রমায় কিছু দিকনিদের্শনা ও পরামর্শ

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শুরু হোক আবার

প্রফেসর ড. কালি প্রসন্ন দাস মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সিলর, আত্মশক্তি

লক্ষ্য নির্দিষ্ট করুন

সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের মধ্যেই সাফল্য রয়েছে। শুরুতেই লক্ষ্য ঠিক করুন। লক্ষ্য হতে হবে সুনির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য, অর্জনযোগ্য, বাস্তব এবং সময়ের দ্বারা নির্দিষ্ট। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে পাশাপাশি আরো কিছু লক্ষ্য থাকতে পারে। নির্দিষ্ট চাকরি বা ব্যবসা যেমন লক্ষ্য হতে পারে, পাশাপাশি ভ্রমণ, খেলাধুলা, যেকোনো শখ বা অন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির লক্ষ্যও সামনে রাখা যেতে পারে। এরপর লক্ষ্য অর্জনে আপনার কার্যক্রম ঠিক করতে হবে। কোন কোন পথে অগ্রসর হলে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব, সময় নিয়ে সেই পথের সন্ধান করুন। সম্ভাব্য একাধিক পথ খুঁজতে হবে এবং সবচেয়ে সহজ পথটা ধরে এগোতে হবে। বাকি পথগুলো বিকল্প হিসেবে থাকবে। মনে রাখতে হবে, জীবনের পথ কখনো বন্ধ হয় না। কখনো হুট করেই পথটা শেষ হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিকল্প পথও নিশ্চিত রয়েছে।

দায়িত্ব ও ভূমিকা

লক্ষ্যের পথে চলতে গিয়ে ব্যক্তি হিসেবে আপনার অন্যান্য ভূমিকা ভুলে গেলে চলবে না। একজন মানুষ হিসেবে যেমন আপনার ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে, তেমনই পরিবারের সদস্য হিসেবে আলাদা ভূমিকা রয়েছে। কিংবা কোনো সামাজিক দায়িত্ব বা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারেন। নিজেকে সুস্থ রাখা, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আবার পরিবারের অংশ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের কিছু আলাদা দায়িত্ব থাকে। মোটকথা, নতুন বছরে আপনার জীবনে কিছু আলাদা দায়িত্ব ও ভূমিকা রয়েছে। ধরা যাক, আপনি একজন চাকরিজীবী। ২০১৮ সালে আপনার পেশাগত, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক—এই চারটি ভুমিকা রয়েছে। পুরো বছরের সাফল্য নির্ভর করছে এই চারটি ভূমিকায় সাফল্য লাভের ওপর। কারণ সাফল্যের অন্যতম উপাদান ভারসাম্য। জীবনের প্রতিটি ভূমিকায় আপনার নির্ধারণ করা লক্ষ্যগুলো যখন অর্জিত হবে, জীবনে তখনই ভারসাম্য আসবে। কিভাবে সবগুলো ভূমিকায় সফল হবেন, সেই পরিকল্পনাও বছরের শুরুতেই করে নিতে হবে। প্রতিটি ভূমিকায় এক বা একাধিক লক্ষ্য নির্ণয় করুন এবং সেই লক্ষ্য পূরণে পথচলার রুটিন করে নিন। দায়িত্ব গ্রহণ না করে সময় ও সুযোগের জন্য অপেক্ষা করা ব্যর্থতার বড় কারণ।

উদ্যোগ শুরু করুন

উদ্দেশ্য অর্জন করতে গিয়ে কী কী কাজ করতে হবে, তার একটি তালিকা তৈরি করুন। এই তালিকা তৈরি করার সময় খোলা মনে ভাবুন। নিজের যাবতীয় ভূমিকা অনুসারে আলাদা আলাদা লক্ষ্যের তালিকা তৈরি করুন। কোনো কাজকেই প্রথমে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দরকার নেই। যা মনে আসে, লিখতে থাকুন। শুধু মাথায় রাখুন—মূল উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী কিছু যোগ করছেন কি না? পরিকল্পনা কতটা সফল কিংবা কতটা ব্যর্থ হবে, সেটি মূল্যায়ন করার উপায়ও নির্ধারণ করতে হবে। এই মূল্যায়ন আপনাকে আরো দক্ষ পরিকল্পনাকারী হতে সাহায্য করবে। পরবর্তী সময়ে অন্য যেকোনো পরিকল্পনা তৈরি এবং তা বাস্তবায়নে আপনি আরো চৌকস হতে পারবেন। 

সময় বেঁধে দিন

লক্ষ্য অর্জনযোগ্য না হলে আপনি হতাশ হবেন। অর্জনযোগ্য লক্ষ্য হলো স্মার্ট লক্ষ্য। তাই কাজের তালিকাকে গুরুত্ব অনুসারে ভাগ করে নিন। সফল কাজের জন্য অবশ্যই সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সব ধরনের পরিকল্পনার রুটিন হবে সাপ্তাহিক। সাপ্তাহিক পরিকল্পনায় নিজের ভূমিকা অনুসারে রুটিন তৈরি করুন। সপ্তাহে কতটুকু পড়ালেখা বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করবেন, ঠিক করুন। কয় দিন ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করবেন, কতক্ষণ হাঁটবেন, কেনাকাটা করবেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেবেন—এসব পরিকল্পনা সাপ্তাহিক রুটিনে বেঁধে নিন। একইভাবে অফিস বা পড়াশোনারও সাপ্তাহিক রুটিন করে নিন। মনে রাখতে হবে, কাজ যত ছোট হবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে। প্রথমেই অনেক কাজ নেবেন না। অল্প থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে কাজের ব্যাপ্তি বাড়ান। নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস না থাকলে শুরুতেই সাত দিন ব্যায়ামের রুটিন করবেন না। সপ্তাহে দুই বা তিন দিন অল্প সময় দিয়ে শুরু করুন। দুই সপ্তাহ সফলভাবে রুটিন শেষ করতে পারলে তারপর রুটিনে বদল আনুন। এতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নকালে সময়ের সঙ্গে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা সহজ হবে।

না বলতে শিখুন

সাফল্যের পথ সহজ করতে লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন বিষয়গুলো উপেক্ষা অথবা না বলতে শিখতে হবে। অমরা জানি, সব কিছু রুটিনে বাঁধা সম্ভব নয়। প্রতিনিয়তই এমন কিছু বিষয় সামনে চলে আসবে, যেগুলো রুটিনে ছিল না। তখন নিজেকে প্রশ্ন করুন, এই কাজ আমার সাফল্যের পথে কতটুকু সহায়ক বা অন্তরায়। এখান থেকে ব্যক্তি আমি কতটুকু লাভবান হতে পারব। এই সময়টুকু দিলে আমি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে কিছুটা দূরে সরে যাচ্ছি কি না। উত্তর সন্তোষজনক না হলে নির্দ্বিধায় সেই কাজকে না বলুন। প্রচলিত প্রবাদ আছে—বৃহত্তর হ্যাঁ সামনে থাকলে না বলা সহজ হয়। দীর্ঘমেয়াদি জীবনের লক্ষ্য পূরণে স্বল্পমেয়াদি ছোট ছোট আনন্দ বা প্রাপ্তি বিসর্জন দিতে হয়।



মন্তব্য