kalerkantho


আপনার শিশু

শীতে শিশুর গোসল

শিশুর সুস্থতায় ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়ও গোসল করানো জরুরি। নিয়মিত গোসল না করালে ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। শীতে শিশুদের সর্দি-কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে নিয়মিত গোসল। বয়স অনুযায়ী শিশুর গোসলের পদ্ধতি আলাদা হবে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন সানশাইন ডে কেয়ারের স্বত্বাধিকারী ফারহানা ইসলাম

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শীতে শিশুর গোসল

দেড় মাস বয়স পর্যন্ত নবজাতককে প্রতি এক দিন পর পর গোসল করানো যেতে পারে। দুপুর ১২টার আগে গোসল শেষ করা ভালো। কোনো ধরনের সাবান বা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল নবজাতকের গায়ে লাগাবেন না। কুসুম গরম পানিতে দুই মিনিটের মধ্যে গোসল শেষ করুন। গোসল শেষে ভালো করে গা মুছে শীতের কাপড় পরিয়ে দিন। তিন মাস থেকে এক বছর বয়সী শিশুদের ঠাণ্ডার সমস্যা না থাকলে প্রতিদিন গোসল করানো ভালো। খুব ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় এক দিন পর পর গোসল করানো যেতে পারে। হালকা গরম পানিতে গোসল করালে শরীরের বন্ধ লোমকূপ খুলে যায় এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। তাই শিশুর গোসলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন প্রয়োজন অনুসারে সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে। বড়দের সাবান শিশুর ত্বককে আরো শুষ্ক করে ফেলতে পারে। তাই শিশুদের জন্য উপযোগী গ্লিসারিনযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। গোসলের সময় শিশুর কানে যাতে পানি না ঢোকে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। গোসলের আগে কানে তেল লাগিয়ে নিলে পানি ঢোকার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। গোসল শেষে নরম তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে দিন। এরপর ত্বক শুকিয়ে যাওয়ার আগেই তাড়াতাড়ি ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে দিন। এতে শিশুর ত্বক ভালো থাকে।

এক বছরের বড় শিশুরা সাধারণত দাঁড়াতে বা হাঁটতে শিখে যায়। ঘরময় হেঁটে বেড়ায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই ত্বকে অনেক ধুলা-ময়লা লেগে যায়। এই বয়সের শিশুদের প্রতিদিন গোসল করানো জরুরি। কোনো কারণে গোসল না করাতে চাইলে কুসুম গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে সারা শরীর মুছে দিন। সুস্থ থাকলে একদিন পর পর সাবান ও শ্যাম্পু ব্যবহার করানো ভালো। এতে ত্বকের যেকোনো সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকা যায়। এ ছাড়া গোসলের আগে শিশুকে অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল সারা শরীরে ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রোদে রাখলে ঠাণ্ডা লাগার আশঙ্কা কমবে, ত্বকও ভালো থাকবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, রোদের সঙ্গে বাতাস থাকলে শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। কাচের জানালা বন্ধ করে যেটুকু রোদ পাওয়া যায়, সেখানেই রাখুন শিশুকে। গোসলের আগেই ঘরের জানালা বন্ধ করে নিন। গোসলের পর ভেজা শরীরে ঠাণ্ডা বাতাস লাগলে শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। স্কুলগামী শিশুদের প্রতিদিন গোসল করা খুব জরুরি। গোসলে প্রতিদিন বেবিসোপ ব্যবহার করুন। একদিন পর পর চুলে শ্যাম্পু করা যেতে পারে। শিশুর পুরো গোসলের প্রক্রিয়া পাঁচ মিনিটের মধ্যে শেষ করুন। গোসল শেষে শরীর মুছে ত্বক শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার বা বেবি লোশন লাগিয়ে দিন।

খেয়াল করুন
*          শূন্য থেকে দেড় মাস বয়সের শিশুদের শুধু কুসুম গরম পানিতে গোসল করান।

*          গোসলের আগে শিশুর সারা শরীরে তেল ম্যাসাজ করুন।

*           শীতে শিশুদের জন্য উপযোগী গ্লিসারিনযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। 

*          গোসলের পর ভেজা ত্বকে লোশন বা ময়েশ্চারাইজার লাগান।

*          গোসলের পর শিশুকে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো।



মন্তব্য