kalerkantho


আপনার শিশু

শীতেও শিশুর ঝলমলে চুল

খেলাধুলা আর হৈ-হুল্লোড় করে সময় কাটাতে পছন্দ করে বলে শিশুর চুলে ময়লা এবং ঘাম হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। শীতে এই সমস্যাটা আরো বাড়ে। তাই অভিভাবকদের একটু বেশি সচেতন থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী—জানালেন শোভন মেকওভার স্কিন স্টুডিওর স্বত্বাধিকারী শোভন সাহা

৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শীতেও শিশুর ঝলমলে চুল

মডেল : নির্ভয়

শিশুরা স্বভাবতই উচ্ছল। খেলাধুলা, ছোটাছুটি করে সময় কাটাতে পছন্দ করে ওরা।

তাই ওদের চুলে ময়লা ও ঘাম হয় বেশি। ধুলাবালির কারণে শীতের সময় এ সমস্যা আরো বাড়ে। ছোটরা নিজেরা নিজেদের চুলের যত্ন নিতে পারে না। তাই অভিভাবকদেরই উচিত ওদের চুলের প্রতি মনোযোগ দেওয়া। এ সময় বেশি খেয়াল রাখা দরকার চুল যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। নিয়মিত গোসল করাতে হবে। শীতে ধুলাবালির কারণে শিশুর চুলে খুশকির প্রকোপ দেখা দেয়। খুশকি থেকে পরিত্রাণ পেতে চুলে সপ্তাহে অন্তত এক দিন মেডিকেটেড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে দুই দিন বেবি শ্যাম্পু দিয়ে বাচ্চার চুল পরিষ্কার করে দিন। চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সপ্তাহে তিনবার তেল হালকা গরম করে মাথায় ম্যাসাজ করে দিতে পারেন। এতে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। শীতে অনেকে গরম পানি দিয়ে শিশুকে গোসল করান। এ ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর ধোয়াতে পারেন। কিন্তু মাথা ধোয়ানোর সময় অবশ্যই স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করবেন।

এ সময় শিশুর চুলে উকুনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু শ্যাম্পু ব্যবহার করলে উকুনের সংক্রমণ থেকে একেবারেই রক্ষা নাও মিলতে পারে। মেডিকেটেড শ্যাম্পু উকুন প্রতিরোধও করতে পারে। শিশুর ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বিশেষ করে ঘন ঘন বিছানার চাদর ও বালিশের কভার পরিবর্তন করে দিন। মাথার চিরুনি পরিষ্কার করে দিতে হবে।

সোনামণিদের চুল স্বাভাবিকভাবেই ঝলমলে ও সুন্দর থাকে। তাই চুল ঝলমলে করার জন্য বাড়তি কন্ডিশনার দেওয়ার দরকার নেই। খেয়াল রাখবেন, শিশুর চুলে যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে এবং ঘামে ভেজা না থাকে। কারণ, এতে শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। পানি বা ঘামের কারণে খুশকি, উকুন অথবা মাথার ত্বকে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। মাথায় ধুলাবালি জমে অ্যালার্জি হতে পারে। তবে শিশুর চুল পরিষ্কার ও চুলের গোড়া শুকনো রাখলে এ ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কম।

চুল ছোট বা বড় যেমনই হোক না কেন, এ সময় নিয়ম করে দিনে অন্তত দুবার চুল আঁচড়াতে হবে। অনেক অভিভাবকই শিশুর চুলের আগা ফাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। আসলে শীতে শিশুর চুলের আগা ফাটা খুবই সাধারণ ঘটনা। এ নিয়ে খুব একটা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। দেড় থেকে দুই মাস পর পর শিশুর চুলের আগা কিছুটা ছেঁটে দিতে পারেন। মেয়ে বাচ্চাদের চুল বড় হলে রাতে ঘুমানোর সময় একটি বা দুটি বেণি করে দিতে পারেন। এতে করে আগা ফাটবে না। আরেকটি বিষয়, যাদের চুল একটু বড়, তাদের সুবিধামতো চুল বাঁধতে হবে। যেভাবেই চুল বাঁধা হোক না কেন, তারা যেন আরাম বোধ করে। চুল কষে বাঁধলে অনেক শিশুরই মাথা ব্যথা করে। তাই কষে চুল বাঁধা যাবে না। হালকা করে দুটি বেণি অথবা উঁচু করে পনিটেল করে দিতে পারেন। আর শিশুদের চুলের জন্য রংবেরঙের ব্যান্ড ও ক্লিপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

খেয়াল করুন

*   শিশুদের ত্বক সংবেদনশীল। তাই শিশুর মাথায় কম ক্ষারযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। কেনার সময় শ্যাম্পুর বোতলের গায়ে পিএইচ-এর পরিমাণ দেখে কিনুন। সাধারণত ৫.৫ বা তার কম পরিমাণ পিএইচ যুক্ত শ্যাম্পু শিশুর ত্বকের জন্য ভালো।

* শিশুর মাথার ত্বকে ফুসকুড়ি বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে শ্যাম্পু ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।


মন্তব্য