kalerkantho


কাজের মানুষ

অফিস কর্মকর্তার ১০ বদ-অভ্যাস থেকে মুক্তির উপায়

সৈয়দ আখতারুজ্জামান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিজ ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি

৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অফিস কর্মকর্তার ১০ বদ-অভ্যাস থেকে মুক্তির উপায়

অভ্যাস গড়ে তোলার আগে জেনে নিতে হবে আপনার চর্চার ধরন সঠিক কি না। সঠিক পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হতে হবে, যা আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করবে।

ঠিক এমনই অনেক খুঁটিনাটি চর্চা আছে, যা আপনাকে একটি পরিপূর্ণ ও নির্ভুল কর্মজীবন গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

এক.

গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করার আগে যাচাই করুন। যাচাই না করে কাজ ডেলিভারি করা একটি বড় ধরনের সমস্যা। কোনো কাজ শেষ করার আগে রিভিশন দেওয়ার অভ্যাস করুন।

দুই.

কেউ যখন একটি কাজে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন অবচেতন মনেও সে একইভাবে কাজটি করতে থাকে। অনবরত চর্চা করে ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন। ভালো অভ্যাস অনেকটা অবচেতনেই আপনাকে নির্ভুল কাজ করতে সাহায্য করবে।

তিন.

ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনায় কাজের নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। কাজ করতে করতে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা বা সহকর্মীর সঙ্গে অবিরাম গল্প করার অভ্যাস বিপদ ডেকে আনতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর সময় আপনাকে এই ছোট সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ না করলেই নয়।

চার.

খুব তাড়াহুড়া করবেন না। যদি তাড়াহুড়া করা আপনার চরিত্রের ধরন হয়, তাহলে একাধিকবার চেক করুন। কাজের সময় প্রয়োজনে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখুন। কাজ করতে করতে গান শুনবেন না। অন্য সহকর্মীরা কথা বললে তাদের অনুরোধ করুন, যাতে উচ্চৈঃস্বরে কথা না বলেন। ফ্রন্ট অফিসে বলে রাখুন, যাতে এই সময় জরুরি নয় এমন কোনো ফোন আপনাকে না দেওয়া হয় ইত্যাদি। এই চর্চা আপনাকে দ্রুত ওপরে উঠতে সাহায্য করবে।

পাঁচ.

কাজ শেষে অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে নথি ও ডেস্ক গুছিয়ে রেখে যান। শৃঙ্খলার অভাব অনেক সময় এ ধরনের ভুলের জন্য দায়ী। একই রকম দেখতে ভিন্ন ভিন্ন জিনিস একই সঙ্গে না রাখাই ভালো। পরিকল্পনামাফিক গুছিয়ে রাখুন। আজ যেখানে রাখলেন, কাল তা আবার অন্য জায়গায় সরাবেন না। একটা নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন, তাড়াহুড়া করতে গিয়ে যাতে ভুল না হয়ে যায়।
ছয়.

ভালো অভ্যাস গড়ে তোলারও কৌশল আছে। পরিকল্পনা থাকে। ধরুন, শুরুতে আপনি পাঁচটি ভালো অভ্যাসের তালিকা করুন। ১০ দিনের পরিকল্পনা করুন। প্রতিদিন আপনি এই পাঁচটি অভ্যাস চর্চা করবেন। এই চর্চা একদিন আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। চাইলেও সেদিন আর ভুল করতে পারবেন না। অস্বস্তি লাগবে। ভালো অভ্যাস এভাবেই আপনাকে ওপরে তুলবে।

সাত.

কোনো বাধা পেলে শুরুতেই হাল ছেড়ে দিয়ে অন্যের সাহায্য চাইবেন না। আগে নিজে উপায় বের করুন। উপস্থিতবুদ্ধি থাকা খুব দরকার। হঠাত্ ভুল হয়ে গেলে তা অনেক সময় উপস্থিতবুদ্ধি দিয়ে সমাধান করা যায়। এমন নজির অনেক আছে। আপনিও চেষ্টা করুন। এই অভ্যাস আপনাকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তুলবে।

আট.

মানসিক চঞ্চলতা ও মনের ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ থাকাটা খুব জরুরি। না হলে চর্চা শুরু হলেও ভালো অভ্যাসে পরিণত হওয়ার আগেই আবার সব হারিয়ে যেতে পারে।

নয়.

বিকল্প পথ না ভাবা আরেকটি বদ-অভ্যাস। ভুল হলে শোধরানোর বিকল্প পথ আগেই ভেবে রাখা দরকার। তাতে যথাসময়ে মারাত্মক ক্ষতির হাত থেকে নিজেকে ও প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে পারবেন।

দশ.

মানসিক শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি। মনের শক্তিতে শক্তিশালী হয়ে ওঠার চর্চা করুন। কোন চর্চা সঠিক আর কোনটা ভুল—এটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই বুঝে যায়। ফলাফলই বুঝতে সাহায্য করে। না বুঝতে পারলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তো আছেনই। সতর্ক থাকুন। আপনার কর্মময় জীবন সঠিক অভ্যাসে নির্ভুল হয়ে উঠুক।

akter.bst@gmail.com


মন্তব্য