kalerkantho


রূপচর্চা

শীতে ত্বক ও চুলের সুরক্ষায়

সহজলভ্য, সাশ্রয়ী দাম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন বলে বহুকাল ধরেই রূপচর্চায় জনপ্রিয় গ্লিসারিন। রূপচর্চায় এর ব্যবহার সম্পর্কে জানালেন মিউনিস ব্রাইডালের স্বত্বাধিকারী তানজিমা শারমীন মিউনী। গ্রন্থনা করেছেন সৈয়দা তানজিনা আজমেরীন

৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শীতে ত্বক ও চুলের সুরক্ষায়

মডেল : ফারিন, ছবি : তারেক আজিজ নিশক

গ্লিসারিন বা গ্লাইসোরল মূলত রং ও গন্ধহীন আঠালো তরল যৌগ পদার্থ, যা হাইড্রোজেন, অক্সিজেন আর কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত। সাধারণত প্রাণিজ বা বনজ উত্স থেকে গ্লিসারিন সংগ্রহ করা হয়। বাজারে গ্লিসারিন নামে যা পাওয়া যায়, তার ৯৫ শতাংশ গ্লাইসোরল, বাকিটা পানি।

গ্লিসারিনের ব্যবহার

গ্লিসারিন ত্বককে মোলায়েম ও নরম করে। দীর্ঘ সময় ধরে আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য গ্লিসারিনের জুড়ি মেলা ভার। বিশেষ করে শীতকালে। এ সময় ত্বকে খসখসে রুক্ষভাব চলে আসে। এ থেকে মুক্তি দেয় গ্লিসারিন। এ ছাড়া ব্রণ, বলিরেখা, অবাঞ্ছিত দাগ সারাতেও গ্লিসারিন হতে পারে সহজ সমাধান। আসুন জেনে নিই কী কী উপায়ে রূপচর্চায় গ্লিসারিন কাজে লাগাতে পারেন।

ময়েশ্চারাইজার হিসেবে

গ্লিসারিন তৈলাক্ত ত্বকসহ সব ধাঁচের ত্বকের জন্যই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

একটি তুলার বল গ্লিসারিনে চুবিয়ে আলতো করে সরাসরি মুখসহ হাতে ও পায়ে ঘষে নিতে পারেন। যা পুরো রাতজুড়ে আপনার ত্বককে আর্দ্র রাখবে। গ্লিসারিন বাতাস থেকে পানি শুষে নিয়ে শুকনো বিবর্ণ চামড়া থেকে মুক্তি পেতে ত্বককে সহায়তা করে।

ক্লিনজার হিসেবে

৩ টেবিল চামচ দুধের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে শুকনো করে মুছে ফেলুন। উজ্জ্বল ত্বক পাবেন। এ ছাড়া কমলার রস ও গ্লিসারিনের মিশ্রণও ত্বক পরিষ্কার ও দাগমুক্ত উজ্জ্বল করে।

টোনার হিসেবে

গ্লিসারিনের সঙ্গে সমপরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে ঘরোয়া টোনার তৈরি করা যায়, যা তুলার বল দিয়ে ত্বকে লাগাতে হবে, ধোয়ার প্রয়োজন নেই। এই মিশ্রণ ত্বককে কোমল ও সতেজ করে, ত্বকের বন্ধ লোমকূপগুলো খুলে দেয়।

মাস্ক হিসেবে

১ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি, ৪ টেবিল চামচ কাঠবাদাম গুঁড়া ও ২ চা চামচ গ্লিসারিন একটি পাত্রে মেশান। মিশ্রণটি মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ব্ল্যাকহেডস দূর করতে এই মাস্কটি দারুণ কার্যকর।

ব্রণ সারাতে

গ্লিসারিনের ছত্রাকনাশক উপাদানের কারণে এটি দ্রুত ব্রণ ও ব্রণ পরবর্তী দাগ সারাতে সক্ষম। এটি সরাসরি তুলার সাহায্য ব্রণে লাগান। ব্রণ ছাড়াও এটি পা ফাটা ও জ্বরঠোসা সারাতে  কার্যকর।

বলিরেখা কমাতে

একটি ডিমের সাদা অংশ, ১ টেবিল চামচ মধু ও ১ টেবিল চামচ গ্লিসারিন একটি পাত্রে নিতে হবে। সব উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। আঙুলের সাহায্যে ত্বকে লাগিয়ে মিনিট বিশেক রাখুন। হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দুই দিন নিয়মিত এটির ব্যবহার ত্বকের বলিরেখা কমাতে সহায়তা করে...

প্রাণবন্ত ঠোঁটের জন্য

ঠোঁটের ত্বক অত্যন্ত কোমল। শীতে এই কোমল ত্বক হয়ে উঠে শুষ্ক, রুক্ষ। তাই এ সময় ঠোটের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত। অনেকে অবচেতনেই বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজান। এটা করা যাবে না। এতে ঠোঁট আরো শুকিয়ে যায়। এর বদলে গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন। আর ত্বরিত সমাধান হিসেবে সঙ্গে একটা লিপজেল, পেট্রোলিয়াম জেলি কিংবা চ্যাপস্টিক রাখতে পারেন। ঠোঁটে সামান্য শুষ্কভাব দেখা দিলেই এর যেকোনোটি ব্যবহার করুন। যেহেতু ঠোঁট সুরক্ষার এই উপাদানগুলো বারবার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে, তাই এগুলো সব সময় সঙ্গেই রাখুন। আর হাত-মুখ ধোয়ার সময় বা দাঁত মাজার সময় কোনোভাবেই যাতে ঠোঁটে জোরে জোরে ঘষা-মাজা না লাগে তা খেয়াল রাখুন। এ সময় নরম ঠোঁটে আঁচড় পড়লে তা ভোগাতে পারে। ঠোঁট বেশি শুষ্ক হয়ে গেলে ঠোঁট কালো হয়ে যেতে পারে। রোজ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠোঁটে গ্লিসারিন লাগিয়ে নিতে পারেন। এর ফলে ঠোঁটে আর্দ্রতার পরিমাণ ঠিক থাকবে আর নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁটের রংও স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতেও এই পদ্ধতি বেশ উপকারী।

চুলের যত্নে

শুধু ত্বকেই নয়, চুলের যত্নেও গ্লিসারিন সমানভাবে উপকারী। শীতের আবহাওয়ায় শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের মতো মাথার তালুও শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে তালু ও চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে নানা সমস্যা—যেমন খুশকি ও চুলকানি দেখা দেয়। মাথার তালু ও চুলে নিয়মিত গ্লিসারিনের ব্যবহার চুলকে আর্দ্রতা দেয়, চুলকে ঝলমলে ও কোমল করে। খুশকি দূর করে এবং চুলের বৃদ্ধি ঘটায়।

চুলের ফাটা রোধ করতে

একটি ডিম, ২ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল, ১ চামচ গ্লিসারিন ও ১ চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার একটি পাত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই মাস্কটি সপ্তাহে একবার চুলে গোড়া থেকে প্রান্ত পর্যন্ত ব্যবহার করুন। হালকাভাবে চুল ম্যাসাজ করুন। এরপর কুসুম গরম পানিতে ডোবানো তোয়ালে দিয়ে চুল মুড়িয়ে রাখুন। ৪০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি শুধু চুলের ফাটা রোধেই নয়, চুলকে সোজা রাখতে এবং মাঝখান থেকে ভেঙে যাওয়া থেকেও রক্ষা করে। এ ছাড়া আপনার নিয়মিত ব্যবহারের তেলে কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন মিশিয়ে ব্যবহার করে খুব সহজেই পেতে পারেন শক্তিশালী ও ঝলমলে মসৃণ চুল।

ত্বরিত সমাধান হিসেবে সঙ্গে একটা লিপজেল, পেট্রোলিয়াম জেলি কিংবা চ্যাপস্টিক রাখতে পারেন। ঠোঁটে সামান্য শুষ্কভাব দেখা দিলেই এর যেকোনোটি ব্যবহার করুন

মডেল : লিন্ডা ও নাজিফা


মন্তব্য