kalerkantho


ঈদের হাটে তারুণ্যের ছাঁটে

মেহেদী উল্লাহ   

১৪ জুলাই, ২০১৪ ০০:০০



ঈদের হাটে তারুণ্যের ছাঁটে

সবার আগে নতুনকে স্বাগত জানায় তরুণরাই। নতুন কোনো পোশাক যা খুব প্রচলিত নয়, তা তারুণ্যের হাত ধরেই ঢোকে ফ্যাশন দুনিয়ায়।   ঈদের মতো বড় উৎসব হলে তো কথাই নেই। যে পোশাকগুলোতে হয়েছে সবচেয়ে বেশি নিরীক্ষা, কাটিংয়ের দিক থেকেও যা অপরিচিত সেই পোশাককে চেনানোর দায়িত্বই তারা নেয়। এই যেমন ধরা ধাক তারামার্কার ফতুঞ্জির কথাই। পোশাকটি তৈরি হয়েছিল জাপানি পোশাকের আদলে। তরুণরাই এই পোশাক জনপ্রিয় করে তোলে। চারদিকে ফতুঞ্জির জয়গান, যা ফতুয়া আর পাঞ্জাবির কাটিং মিলিয়ে ডিজাইন করা হয়েছিল।

চরকা ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার জাভেদ কামাল বলেন, 'ফ্যাশনের পরিবর্তনের ধারাটা বজায় রেখেছে মূলত তরুণরাই। এখন ছেলেমেয়েরা একটু পশ্চিমা ফ্যাশনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট।'

তরুণীর পছন্দ

ফ্যাশন ডিজাইনার তৌহিদা তহুস বলেন, ' পোশাকের কাটিংয়ের নতুনত্ব খুঁজছে তরুণীরা। তাদের কাছে জনপ্রিয় স্কার্ট, টপস, ফতুয়া বা ভিন্ন ঢঙের সালোয়ার-কামিজ। দেশীয় ও পাশ্চাত্য নকশার মিশেলে তৈরি অধিকাংশ পোশাক। বিশেষ করে কাটছাঁট, প্যাটার্ন ও নকশায় ব্যতিক্রম।'

কখনো কখনো তরুণীরা ছুটছে একটু ঘের এবং ফ্রিলের ব্যবহারে তৈরি পোশাকের দিকে। তাই কুর্তা, টপস আর শর্ট কামিজ তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে। ধুতি কাটের সালোয়ারের সঙ্গে কুর্তাও মানিয়ে যায়। ফতুয়া, টপসের সঙ্গে জিন্স, লেগিংস ও ক্যাপ্রির বনিবনাই তাদের চোখে ভালো। কুর্তায় কখনো আঁকাবাঁকা কাট, কখনো কোনার দিকটা একটু বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ লাইন কাট, জিপসি, আনারকলি, কলিদার, আমব্রেলা কাট তরুণীদের পছন্দ। থ্রি-কোয়ার্টার, খাটো হাতা বা লম্বা হাতার পোশাকে অনেক বেশি কুচি, নেট, কাতান পাড়, পুঁতি, চুমকি, ছোট ছোট ঘণ্টার ব্যবহার তারুণ্যের পোশাকে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। দেখা যায় হাতের কাজের প্রাধান্যও। এমব্রয়ডারি, অ্যাপ্লিক, চুমকির কাজসহ নানা ধরনের হাতের কাজ দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পোশাকগুলো।

ক্যাপ্রি, লেগিংসে কুর্তার সঙ্গে মিলিয়ে লেইস ব্যবহার হয়েছে। আছে লেহেঙ্গা, ঘাগরা কাটের স্কার্টও । আছে ব্যাগি প্যান্ট, হারেমের মতো ঢিলেঢালা প্যান্ট। এ ধরনের প্যান্টের সঙ্গে হাতাকাটা কটি ও কুর্তাই পছন্দ তরুণীদের। এবারও থাকছে কয়েক স্তরের ফ্রিল দেওয়া, একটু ঘেরের স্কার্টের পাশাপাশি এ লাইন কাটের লম্বা এবং সেমি লম্বা স্কার্ট। আড়ং, মায়াসির, ড্রেসিডেল, যাত্রা, দেশীদশ, একস্ট্যাসি, ওটুসহ অনেক ফ্যাশন হাউসে এসব পোশাক পাবেন।

তরুণের যা যা

ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, 'তরুণের জনপ্রিয় পোশাকে এবারও থাকছে শর্ট পাঞ্জাবি। এ ছাড়া সব উৎসবেই ফতুয়ার কদর থাকে। আবহাওয়ার সঙ্গে মিল রেখে এই দুটি পোশাকে সুতি ও এন্ডি কটনকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।'

এ ছাড়া শার্ট ও টি-শার্টের পসরায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। আছে শর্ট শার্ট। বিভিন্ন ধরনের চেক, স্টাইপ,রংয়ের আলাদা ধরন। হাতায় বাড়তি কাজ হিসাবে বিভিন্ন রঙের মাধ্যমে শেড তৈরি করা হয়েছে। নতুন ধরনের এই শর্ট শার্টগুলোতে বেশ আগ্রহ তরুণদের। শর্ট শার্টগুলো ফুলহাতা এবং হাফহাতা দুই ধরনের আছে। আছে বিভিন্ন ডিজাইনের পকেট। শর্ট শার্টের পাশাপাশি পাঞ্জাবি,পলো ও টি-শার্টেও লেগেছে ঈদের রং। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের অধিকাংশ ফ্যাশন হাউস তরুণদের কথা মাথায় রেখে গুরুত্ব দিয়েছে শর্ট শার্ট, পলো এবং টি-শার্টে। বিপ্লব জানান, এসব পোশাকের সঙ্গে জিন্স প্যান্ট মানিয়ে যাবে। জিন্সই তারুণ্যের প্রথম পছন্দ।

পছন্দের রং

ফ্যাশন ডিজাইনার তানিয়া কাউসারী জানান, ঈদের পার্টি পোশাক তুলনামূলক গর্জিয়াস হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে রং উজ্জ্বল হওয়াই ভালো। হালকা মেরুন, গাঢ় স্কাই, ম্যাজেন্টা, সিলভার, বলটপ গ্রিন, গাঢ় গোলাপি, মাটি রং- এ ধরনের পার্টি পোশাক ব্যবহার করা যেতে পারে। আড্ডায় হাফহাতার টি-শার্ট নিতে পারলে ভালো। এসব টি-শার্টের রং হয় সাধারণত হোয়াইট, ক্রিম, বিস্কুট, সিলভার, ফিরোজা, হলুদ, হালকা সবুজ।



মন্তব্য