kalerkantho


পোশাকের চার ঈদের বাহার

এবারও বদলেছে ঈদ-পোশাকের ট্রেন্ড। ঈদে সালোয়ার-কামিজ আর শার্ট-প্যান্টের হাওয়া বদলের খবর দিচ্ছেন মেহেদী উল্লাহ   

৭ জুলাই, ২০১৪ ০০:০০



পোশাকের চার ঈদের বাহার

মডেল : রিবা ও বাপ্পা ছবি : কাকলী প্রধান, সাজ : হারমনি স্পা, পোশাক : মুমু মারিয়া ও ইজি

কামিজ আর সালোয়ার

লং কামিজকে হারানো এত সোজা নয়। এবারও দাপট ধরে রেখেছে পোশাকটি। ঈদের পোশাকের শীর্ষেই থাকছে এই কামিজ। ফ্যাশন হাউসগুলো এর ধরন-ধারণে করেছে নানা নিরীক্ষা। রং ও নকশায় ফুটিয়ে তুলেছে উৎসবের আমেজ। সেই সঙ্গে আবহাওয়া উপযোগী কাপড় নিতেও ভোলেনি তাঁরা। এবারের ঈদে লং কামিজের ধরন নিয়ে কথা হচ্ছিল ফ্যাশন হাউস মুমু মারিয়ার স্বত্বাধিকারী ও প্রধান ডিজাইনার মুমু মারিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, 'এবারও তরুণীর ঈদটা হতে চলেছে লং কামিজেই। কামিজের রং ও প্যাটার্নে এসেছে পরিবর্তন। ব্রাইট কালারই বেশি ব্যবহৃত হয়েছে।'

তাঁর কথার সূত্র ধরে বেশ কয়েকটি ফ্যাশন হাউসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কামিজ তৈরিতে অন্যান্য কাপড় ব্যবহৃত হলেও এবারের ট্রেন্ড সিল্ক, লিনেন ও জর্জেটে তৈরি কামিজ। উৎসবের চিন্তার বাইরে গরম আর বৃষ্টিকে মোকাবিলা করতেই এমন কাপড়গুলো বাছাই করেছেন ডিজাইনাররা।

কাপড় যাই হোক, সব সময়ই সবার আগ্রহ ব্যতিক্রম কাটিংয়ে। পোশাকটা কত সুন্দর তা আদতে তুলে ধরে এর কাটিং। সেরা কাটিংয়ের কামিজটি বাছাই করতেই তরুণীর যত সময় খরচা। গেল বার ঈদে লং কামিজের ঘেরে ছিল নৌকা, গোল, কৌনিক ইত্যাদি কাট। এবার আর তা থাকছে না। অধিকাংশই কামিজের সামনের ঘেরটা সামান্য ওপরে আর পেছনের ঘেরের দিকটা নিচে নামিয়ে কাট দেওয়া হয়েছে। পেছনের ঘের পৌঁছে গেছে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত। ঘেরে বৈচিত্র্য আনতে ব্যবহার করা হয়েছে নানা রঙের বর্ডার। এ ছাড়া গলায় থাকছে ব্যতিক্রমী কাটিং, যাতে পরিবর্তন সামান্য।

একরঙা কামিজের একটা জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের কামিজের বুকে থাকছে বলপ্রিন্ট স্ট্রাইপ ও ফুলেল মোটিফ।

রঙের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে সবুজ, মেরুন, লাল, আসমানি, বাদামি, বেগুনি ইত্যাদি। তবে এবার ঈদ হচ্ছে বর্ষায়, তাই অধিকাংশ ডিজাইনারের পছন্দের চোখটি নীল থেকে সরছে না।

হাতার ক্ষেত্রে এবারের ট্রেন্ড হাতাকাটা। তবে অনেকেই এতে অভ্যস্ত না হওয়ায় থাকছে হাফহাতার পোশাকও। সালোয়ার থাকছে একেবারেই সাধারণ। কামিজের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বানানো হয়েছে। অনেকেরই পছন্দ লং কামিজের সঙ্গে লেগিংস আর পালাজো। সে জন্য সালোয়ার নিয়ে মোটেও ব্যতিব্যস্ত নন ডিজাইনাররা।

ফ্যাশন হাউসগুলোতে এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন পছন্দের যেকোনো লং কামিজ।

শার্ট-প্যান্ট

এবারের ঈদে ছেলেদের শার্টেও থাকছে কিছু কিছু পরিবর্তন। ফ্যাশন হাউস ইজির ডিজাইনার তৌহিদ চৌধুরী জানালেন পরিবর্তন বিষয়ে। তিনি জানান, এবারের শার্টের ট্রেন্ড একরঙা আর চেক। দুই ধরনের শার্টেরই কলার ছোট। যাকে কেতাবি ভাষায় এরো কলার বলে। এবার একরঙায় অন্যান্য বারের মতো বেশি কনট্রাস্ট থাকছে না। হালকা প্রিন্ট থাকবে। রঙের মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে নীল, মেরুন, গাঢ় মেরুন, আকাশি, কালো, সাদা ইত্যাদি রং। এ ক্ষেত্রে আপনার পছন্দের মানুষটি যদি নীল রঙের কামিজ নেন, তবে আপনিও বাছতে পারেন নীল। আপনার জন্য সব ধরনের রঙের দরজাই খোলা। শার্টের প্লেটেও নতুনত্ব আনার চেষ্টা আছে। যেমন, অর্ধেক প্লেট ঢেকে দেওয়া হয়েছে আলাদা কাপড়ে। এই সামান্য পরিবর্তনের ফলে বদলে গেছে শার্টের সামনের অংশই। অনেকেরই একরঙা পছন্দ নয়, সে ক্ষেত্রে আছে এমন ধরনের শার্ট যার ভেতরে এক রং আর বাইরে অন্য। শার্টের হাতা ভাঁজ করলেই ভেতরের রংটি বাইরের রঙের সঙ্গে মিলে আলাদা লুক তৈরি করবে বলে মনে করছেন ডিজাইনার তৌহিদ।

চেক শার্টে এবারের ট্রেন্ড ছোট ছোট চেক। কালো-সাদা, নেভি-ব্লু, লাল-নীলের যৌথ ব্যবহারে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চেকগুলো, যা উৎসবেরও রং।

প্যান্টেরও হাওয়া বদল ঘটেছে। থাকছে সেমি ন্যারো শেপ প্যান্ট। তবে এটাও কোনো বড় খবর নয়। আসল খবর হচ্ছে, এবার আর ছেলেদের প্যান্টে বেশি রংচং থাকছে না। অন্যান্য বার মেয়ের আর ছেলের প্যান্টে রঙের পার্থক্য না করেই আনা হয়েছিল রঙিলা প্যান্ট। এবার থাকছে ছেলেদের কাছে ববাবরই জনপ্রিয় এমন কিছু রং। যেমন- গ্রে, খাকি, নেভি ব্লু, অফহোয়াইট, মেরুন, কফি, চকোলেট ইত্যাদি। এ ছাড়া প্যান্টে করা হয়েছে বিভিন্ন সেলাইয়ের নকশা। সেলাই এমনভাবে করা হয়েছে দেখে মনে হয় আলাদা ডিজাইন। ফ্যাশন হাউসগুলোতে শার্টের দাম পড়বে ৮৯০ থেকে ১২৯০ টাকা। প্যান্ট মিলবে ৯৯০ থেকে ১১৯০ টাকায়।

 

 


মন্তব্য