kalerkantho


হাসি ফোটাবে হাঁসের খামার

সানজিদ আসাদ   

২৮ এপ্রিল, ২০১৪ ০০:০০



হাসি ফোটাবে হাঁসের খামার

হাঁসের খামারের আশপাশও থাকা চাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ছবি : কাকলী প্রধান

হাঁস পালন বেশ লাভজনক। দেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে হাঁস প্রজননকেন্দ্র। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসা হিসেবে দিতে পারেন খামার। বিস্তারিত জানাচ্ছেন সানজিদ আসাদ

১০০ হাঁস নিয়ে শুরু করতে পারেন। প্রজননের জন্য হাঁসের খামারে স্ত্রী ও পুরুষ জাতের হাসের অনুপাত হবে ১০: ১। বাচ্চা কিনে খামার শুরু করলে সেগুলোকে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় রাখতে হবে। শীতে বেশি তাপ ক্ষমতাসম্পন্ন লাইট দিয়ে ঘরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে নিতে হবে। গরমের দিনে ঘর ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

হাঁসের থাকার জন্য এমনভাবে ঘর বানাতে হবে যেন আলো-বাতাস যাওয়া-আসা করতে পারে। ঘরের আশপাশে জলাধার থাকাটা জরুরি। হাঁস থাকার জায়গায় ধানের তুষ অথবা কাঠের গুঁড়া দিয়ে বিছানা তৈরি করতে হবে। ঘরের আশপাশ রাখতে হবে পরিষ্কার। ঘর অপরিষ্কার থাকলে রোগজীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।

জাত নির্বাচন

হাঁসের অনেক রকম জাত আছে। তবে খামারের জন্য জিনডিং ও দেশি- এ দুই ধরনের হাঁসই ভালো। এগুলো আমাদের আবহাওয়ার উপযোগী। জিনডিং হাঁস পালন পদ্ধতি সহজ। এরা বছরে ২৫০ থেকে ২৭০টি ডিম দেয়। দেশি জাতের হাঁসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। বছরে ২০০ থেকে ২৩০টি ডিম দেয়। মাংসও সুস্বাদু।

পালন পদ্ধতি

হাঁস পালনে তেমন শ্রম দিতে হয় না। বাইরে ছেড়ে দিলে নিজেরাই খাবার সংগ্রহ করতে পারে। অতিরিক্ত খাদ্য চাহিদা মেটাতে চালের কুঁড়ার সঙ্গে ডি, ই, বি-১, বি-২, বি-৬, বি-১২ ভিটামিন দেওয়া যেতে পারে। হাঁস সাধারণত পাঁচ মাস বয়সে ডিম দেওয়া শুরু করে। পূর্ণ মাত্রায় ডিম দেয় তিন বছর বয়স পর্যন্ত। এরপর হাঁসগুলোকে বাজারে বিক্রি করে দিতে পারেন, যার মাংস খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

প্রয়োজনীয় পুঁজি

প্রাথমিকভাবে তিন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে খামার গড়তে পারেন। ১০০ হাঁসের জন্য বাঁশের একটি ঘর বানাতে এককালীন খরচ পড়বে ১৫ হাজার টাকা। ১০০টির কিছু বেশি বাচ্চা কিনতে পারেন, দাম পড়বে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। কুঁড়া প্রতি বস্তা খরচ পড়বে ২০০-২৫০ টাকা, মাসে এক বস্তা কুঁড়া লাগবে। ব্লিচিং পাউডার লাগবে মাসে পাঁচ কেজি। দাম কেজিপ্রতি ৬০ টাকা।

তুষ বা কাঠের গুঁড়া লাগবে চার মাস অন্তর চার বস্তা করে। এক বস্তা কাঠের গুঁড়ার দাম ৫০ টাকা। ভ্যাকসিন লাগবে বছরে এক হাজার টাকার। আপৎকালীন সময়ের জন্য হাতে রাখতে হবে আরো ১০ হাজার টাকা। তিন বছরে মোট খরচ হবে ৫০ হাজার টাকা।

প্রশিক্ষণও দরকারি

বাংলাদেশ সরকারের কেন্দ্রীয় হাঁস প্রজননকেন্দ্র আছে নারায়ণগঞ্জে। এখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। আরো প্রজননকেন্দ্র আছে খুলনার দৌলতপুর, নওগাঁ, ফেনীর সোনাগাজী, কিশোরগঞ্জ ও রাঙামাটিতে। প্রশিক্ষণ নিতে পারেন আপনার কাছাকাছি কেন্দ্র থেকে। এসব কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করতে পারেন প্রয়োজনীয় হাঁসের বাচ্চা। হাঁসের খাবার ও ওষুধপত্র কিনতে পাওয়া যাবে প্রায় প্রতিটি বিভাগীয় শহরেই। ঢাকার ফুলবাড়িয়ায় আছে পাখির খাদ্যের বৃহৎ বাজার। চালের মিল থেকে তুষ ও কুঁড়া সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া পশুখাদ্য দোকানে তুষ ও কুঁড়া পাওয়া যায়।

রোগব্যাধি

হাঁসের প্রধান রোগ কলেরা ও প্লেগ। হাঁসকে এসব রোগ থেকে রক্ষা করতে কিছু নিয়ম পালন করতে হয়। ধানের তুষ দিয়ে বানানো হাঁসের বিছানায় প্রতিদিন ব্লিচিং পাউডার এবং ভিরকন-এস প্রয়োগ করতে হবে।

ভয় পেলে হাঁসের ডিম পাড়ায় বিঘ্ন ঘটে। তাই সব সময় খেয়াল রাখতে হবে, হাঁসগুলো যেন কোনোভাবেই ভয় না পায়। এক দিন থেকে দুই মাস বয়সের মধ্যে দুবার প্লেগ ও কলেরার টিকা দিতে হবে। এরপর প্রতি ছয় মাস পর পর টিকা দিতে হবে। সরকারি দপ্তর থেকে টিকার ভ্যাকসিন কেনাই ভালো। ভ্যাকসিন কেনার সময় দেখে নিতে হবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না। সঠিকভাবে পরিবহন না করলে ভ্যাকসিনের গুণাগুণ নষ্ট হতে পারে।

লাভের হিসাব

হাঁস বছরে ডিম দেয় গড়ে ২৩০টি। ১০০ হাঁসের ৯০টি হাঁস ডিম দিলে বছরে ডিম পাওয়া যাবে ২০ হাজার ৭০০। পাইকারি ৩০ টাকা হালি দরে ২০ হাজার ৭০০ ডিমের দাম এক লাখ ৫৫ হাজার ২৫০ টাকা। তিন বছর ডিম দেওয়ার পর একেকটা হাঁস গড়ে ২০০ টাকা হিসাবে ১০০ হাঁস বিক্রি করে পাওয়া যাবে ২০ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে এক বছরে নিট লাভ ৫৮ হাজার ৪০০ টাকা।



মন্তব্য