• ই-পেপার

বাড়ির কাজে ব্যস্ত পুরুষরা নারীদের পছন্দসই যৌনসঙ্গী নন

গরুর মাংস নিয়ে বিভ্রান্তি : কতটা খাবেন, কারা খাবেন না

জীবনযাপন ডেস্ক
গরুর মাংস নিয়ে বিভ্রান্তি : কতটা খাবেন, কারা খাবেন না
সংগৃহীত ছবি

ঈদের সকালটা শুরু হয় কোলাহল, ব্যস্ততা আর উৎসবের আনন্দে। উঠানে কোরবানির প্রস্তুতি, রান্নাঘরে মসলার সুবাস, বড় হাঁড়িতে টগবগ করে ফুটতে থাকা মাংস—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আবহ। বছরের অন্য সময়ে হয়তো গরুর মাংস খুব একটা খাওয়া হয় না, কিন্তু কোরবানির ঈদে অনেক পরিবারে সকাল, দুপুর, রাত—প্রতিটি খাবারের টেবিলেই থাকে গরুর মাংসের নানা পদ।

কেউ পছন্দ করেন ভুনা, কেউ কালাভুনা, কেউ আবার ঝোল কিংবা কাবাব। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠানো, অতিথি আপ্যায়ন, ফ্রিজ ভর্তি করে সংরক্ষণ—সব মিলিয়ে গরুর মাংস যেন ঈদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু উৎসবের এই আনন্দের মাঝেই চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা প্রতি বছর একটি বিষয় নিয়ে সতর্ক করেন—অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়া শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অনেকেই মনে করেন, গরুর মাংস মানেই কোলেস্টেরল, চর্বি আর হৃদরোগের ঝুঁকি। আবার কেউ কেউ একেবারেই মাংস এড়িয়ে চলেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এই দুই ধারণার মাঝখানেই রয়েছে আসল সত্য।

গরুর মাংস যেমন অতিরিক্ত খেলে ক্ষতিকর হতে পারে, তেমনি নিয়ম মেনে ও পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস।


বিবিসির এই প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মাংস আপনার জন্য উপকারী নাকি ক্ষতিকর হবে—তা নির্ভর করে আপনি কতটা পরিমাণে এবং কীভাবে খাচ্ছেন তার ওপর।

গরুর মাংসে লুকিয়ে আছে যেসব পুষ্টিগুণ

গরুর মাংসকে শুধু “লাল মাংস” হিসেবে দেখলে ভুল হবে। কারণ এতে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের বিভিন্ন উপাদান।

এই পুষ্টিগুলো শরীরে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

বিশেষ করে—শরীরের পেশি গঠনে সাহায্য করে, রক্তস্বল্পতা কমাতে ভূমিকা রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শিশুদের বৃদ্ধি ও মেধা বিকাশে সহায়তা করে, শরীরের দুর্বলতা ও ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে, ত্বক, চুল ও নখ সুস্থ রাখে, স্মৃতিশক্তি ও কর্মোদ্যম বাড়াতে সহায়তা করে ।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, গরুর মাংসে থাকা আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ এমন কিছু উপাদান, যা অনেক সময় অন্য খাবার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

গরুর মাংস নিয়ে এত ভয় কেন?

এই ভয়ের প্রধান কারণ হলো চর্বি ও কোলেস্টেরল। গরুর মাংসের কিছু অংশে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস নিয়মিত খেলে শরীরে কোলেস্টেরল বাড়তে পারে। আর কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে সেটি ধীরে ধীরে রক্তনালিতে জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করে।

ফলে বাড়তে পারে—হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি।

তবে পুষ্টিবিদদের মতে, “গরুর মাংস মানেই বিপদ”—এমন ধারণাও সঠিক নয়। কারণ ক্ষতির বড় অংশ নির্ভর করে একজন মানুষ কতোটুকু মাংস খাচ্ছেন এবং কীভাবে রান্না করছেন, তার ওপর।

কার জন্য কতোটুকু গরুর মাংস নিরাপদ?

মানুষের শরীরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিন প্রয়োজন হয়। এই চাহিদা সবার জন্য এক নয়।

পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম হাসিনের মতে, একজন মানুষের ওজন, বয়স, শারীরিক অবস্থা ও রোগ অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারিত হয়।

ধরা যাক, একজন মানুষের আদর্শ ওজন ৫০ কেজি। তিনি যদি সুস্থ থাকেন, তাহলে প্রতিদিন তার প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৫০ গ্রাম প্রোটিন।

তবে—কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে প্রোটিন কম খেতে হবে, গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে প্রোটিনের চাহিদা বেড়ে যায়, মাসিক চলাকালীন সময়েও নারীদের শরীরে বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন হয়, অপুষ্টিতে ভোগা মানুষদের জন্যও বেশি প্রোটিন দরকার হতে পারে। অর্থাৎ সবার জন্য একই পরিমাণ গরুর মাংস নিরাপদ নয়।

ঈদের সময় সবচেয়ে বড় ভুল কী করে?

ঈদের সময় সবচেয়ে সাধারণ যে ভুলটি মানুষ করে, সেটি হলো—টানা কয়েকদিন অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়া।

সকালে নেহারি, দুপুরে ভুনা, রাতে কাবাব—এর সঙ্গে আবার কোমল পানীয়, পোলাও, বিরিয়ানি। ফলে শরীরে একসঙ্গে অতিরিক্ত ক্যালরি, চর্বি ও সোডিয়াম প্রবেশ করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, গরুর মাংস প্রতিদিন না খাওয়াই ভালো।

নিরাপদ মাত্রা কী?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—

সপ্তাহে দুই দিনের বেশি গরুর মাংস না খাওয়াই ভালো

মোট তিন থেকে পাঁচ বেলা খাওয়া যেতে পারে

প্রতি বেলায় ২–৩ টুকরার বেশি না খাওয়াই নিরাপদ


অর্থাৎ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে এক বসায় আধা প্লেট মাংস খাওয়াটা শরীরের জন্য মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত নয়।

 

যাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে

কিছু মানুষের জন্য গরুর মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

যেমন—

ডায়াবেটিস রোগী

হৃদরোগী

উচ্চ রক্তচাপের রোগী

কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি

অতিরিক্ত ওজনের মানুষ


চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।

গরুর মাংস কীভাবে রান্না করলে ক্ষতি কমবে?

শুধু কতোটুকু খাচ্ছেন সেটাই নয়, কীভাবে রান্না করছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

চর্বি ফেলে দিন

মাংসের গায়ে সাদা চর্বির স্তর যতটা সম্ভব কেটে ফেলতে হবে। কারণ এই অংশেই সবচেয়ে বেশি ফ্যাট থাকে।

আগে ফুটিয়ে নিন

অনেকে রান্নার আগে মাংস কিছুক্ষণ সেদ্ধ করে প্রথম পানি ফেলে দেন। এতে কিছু চর্বি কমে যায়।

অতিরিক্ত তেল-মসলা নয়

ঘি, ডালডা, মাখন বা অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করাই ভালো।

ভুনার বদলে ঝোল

অতিরিক্ত কষানো বা ভুনা না করে ঝোল ঝোল রান্না তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর।

টক উপাদান ব্যবহার করুন

ভিনেগার, লেবুর রস বা টক দই দিয়ে রান্না করলে চর্বি কিছুটা কমানো যায়।

সবজি মেশান

লাউ, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, বাঁধাকপি বা ফুলকপি দিয়ে রান্না করলে মাংসের পরিমাণ কমে এবং আঁশ বাড়ে।

গ্রিল বা শিক কাবাব তুলনামূলক ভালো

আগুনে ঝলসে বা গ্রিল করে খেলে কিছু চর্বি গলে বেরিয়ে যায়।

 

গরুর মাংস কি সত্যিই “হাই কোলেস্টেরল”?

এই প্রশ্নটি নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি রয়েছে।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, গরুর মাংসের সব অংশে সমান কোলেস্টেরল থাকে না। চর্বিহীন মাংস তুলনামূলক নিরাপদ।

এমনকি একটি ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেক সময় চর্বিহীন বড় পরিমাণ গরুর মাংসের সমান হতে পারে।

অর্থাৎ সমস্যা শুধু গরুর মাংস নয়, বরং অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস।

 

অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে কী হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়ার অভ্যাস শরীরে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে।

যেমন—

কোলেস্টেরল বৃদ্ধি

হৃদরোগ

উচ্চ রক্তচাপ

টাইপ-টু ডায়াবেটিস

স্থূলতা

কোষ্ঠকাঠিন্য

ত্বকের সমস্যা

আর্থ্রাইটিস

কিডনি জটিলতা


কিছু গবেষণায় অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়ার সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্পর্কও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আনন্দ থাকুক, অতিরিক্ততা নয়

কোরবানির ঈদ মানেই আনন্দ, ভাগাভাগি আর প্রিয়জনদের সঙ্গে খাবার টেবিলে বসার উৎসব। সেখানে গরুর মাংস থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আনন্দ যেন অসুস্থতার কারণ না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

পরিমিত খাওয়া, কম চর্বি ব্যবহার, বেশি সবজি খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত হাঁটাচলা—এই কয়েকটি ছোট অভ্যাসই ঈদের খাবারকে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে।

কারণ উৎসবের আসল আনন্দ সুস্থ থাকাতেই।

হাটে অসুস্থ গরু চিনবেন যেভাবে

জীবনযাপন ডেস্ক
হাটে অসুস্থ গরু চিনবেন যেভাবে
সংগৃহীত ছবি

ঈদুল আজহার আর বেশি দেরি নেই। রাজধানী থেকে মফস্বল—দেশজুড়ে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। কোথাও গরুর গলায় ঘণ্টা, কোথাও বিক্রেতার হাঁকডাক, কোথাও আবার ক্রেতাদের দর-কষাকষি। ছোট-বড়, দেশি-বিদেশি, সাদা-কালো-লাল নানা জাতের গরু নিয়ে এখন সরগরম হাটগুলো।

অনেক পরিবারের জন্য কোরবানির গরু কেনা শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং বছরের সবচেয়ে আবেগঘন আয়োজনগুলোর একটি। তাই পছন্দের গরুটি দেখতে সুন্দর, বড়সড় আর হৃষ্টপুষ্ট হলেই অনেকে সেটিকেই ‘ভালো গরু’ মনে করেন।

কিন্তু পশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে গরু কেনা বড় ভুল হতে পারে।

কারণ প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত গরু মোটা করতে স্টেরয়েড, হরমোন ও নানা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করেন। এতে গরু দেখতে অস্বাভাবিকভাবে মোটা ও চকচকে লাগলেও ভেতরে ভেতরে সেটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন গরুর মাংস মানুষের শরীরের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফলে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে গরু কেনা প্রয়োজন।

mnb

ওষুধ দেওয়া গরু চিনবেন যেভাবে

  • হাঁটতে চায় না
  • নড়াচড়া কম করে
  • ঝিম মেরে দাঁড়িয়ে থাকে
  • অতিরিক্ত ক্লান্ত দেখায়
  • শরীরের উজ্জ্বলতা কম থাকে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ওজনের কারণে ওষুধ দেওয়া গরু সহজে চলাফেরা করতে পারে না।

কেন ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়?

কোরবানির হাটে বড় ও মোটা গরুর চাহিদা বেশি। এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী স্বল্প সময়ে গরু ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলতে নানা ধরনের স্টেরয়েড বা ওষুধ ব্যবহার করেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হাশেমের মতে, এসব ওষুধে গরুর শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে যায়। ফলে গরুকে দেখতে ভারী ও মোটাসোটা মনে হয়।

কিন্তু বাস্তবে—

  • কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়
  • যকৃত ও পাকস্থলী দুর্বল হয়ে পড়ে
  • ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়
  • শরীর ভেতর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে

তিনি জানান, এসব ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব রান্নার পরও পুরোপুরি নষ্ট হয় না।

হাটে গিয়ে কিভাবে বুঝবেন গরুটি সুস্থ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ গরু চিনতে হলে শুধু শরীরের আকার নয়, গরুর আচরণ, চলাফেরা, চোখ-মুখ, শ্বাস-প্রশ্বাস—সবকিছু খেয়াল করতে হবে।

১. শরীর অস্বাভাবিক ফুলে আছে কি না দেখুন

স্টেরয়েড বা রাসায়নিক দেওয়া গরুর শরীর অনেক সময় ফুলে থাকে। বিশেষ করে রান, ঘাড় বা পেট অস্বাভাবিকভাবে স্ফীত দেখায়।

এ ধরনের গরুর শরীরে হাত দিয়ে চাপ দিলে কিছু সময়ের জন্য গর্তের মতো বসে যেতে পারে। কারণ শরীরে পানি জমে থাকে।

২. গরু হাঁটছে নাকি শুধু দাঁড়িয়ে আছে?

সুস্থ গরু সাধারণত চটপটে হয়। আশপাশের শব্দে কান নাড়ায়, লেজ ঝাঁকায়, হাঁটাচলা করে।

eee

৩. নাক শুকনো নাকি ভেজা?

পশু বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ গরুর নাকের ওপরের অংশ সাধারণত ভেজা বা ঘামযুক্ত থাকে।

অন্যদিকে অসুস্থ গরুর নাক অনেক সময় শুকনো থাকে।

৪. মুখে লালা ঝরছে কি না

অতিরিক্ত স্টেরয়েড দেওয়া গরুর মুখ দিয়ে অনেক সময় অনবরত লালা ঝরতে থাকে।

৫. শ্বাস-প্রশ্বাস লক্ষ করুন

রাসায়নিক দেওয়া গরুর শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হতে পারে। দূর থেকে দেখলেও মনে হবে যেন হাঁপাচ্ছে।

কারণ শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে গরুর স্বাভাবিক শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

৬. শরীরের রং ও চামড়া খেয়াল করুন

সুস্থ গরুর শরীর উজ্জ্বল দেখায়। চামড়া টানটান থাকে। পিঠের কুজ শক্ত ও দাগমুক্ত থাকে।

৭. পায়ের মাংস শক্ত নাকি থলথলে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ গরুর রানের মাংস শক্ত ও দৃঢ় হয়।

কিন্তু রাসায়নিক দেওয়া গরুর পা বা রান নরম ও থলথলে লাগতে পারে।

৮. শরীর অতিরিক্ত গরম কি না বুঝুন

গরুর শরীরে হাত দিয়ে যদি অস্বাভাবিক গরম মনে হয়, তাহলে সতর্ক হতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ গরুর দেহের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট হয়। খুড়া রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

খুড়া রোগের লক্ষণ হলো খুঁড়িয়ে হাঁটা, মুখ বা ক্ষুরে ঘা, খাবার না খাওয়া, শরীর গরম থাকা।

sss

রোগা গরুর যত লক্ষণ

  • কৃমিতে আক্রান্ত গরু বেশ বিবর্ণ ও হাড় জিরজিরে হয়
  • খুড়া রোগাক্রান্ত গরুর ক্ষুর ও মুখে ঘা থাকতে পারে
  • পিঠের কুজ মোটা, টানটান ও দাগমুক্ত নয়
  • তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি
  • মুখ, জিহ্বা, শরীর, পা, ক্ষুর, গোড়ালিতে কোন ক্ষত থাকা

এছাড়া খাবারে অনীহা, জাবর না কাটা, মুখ শুকনো থাকা—এসবও অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। সুস্থ গরুর সামনে খাবার ধরলে সেটি আগ্রহ নিয়ে খেতে চাইবে।

কোরবানির জন্য কোন গরু উপযুক্ত?

শুধু সুস্থ হলেই হবে না, গরুটি শরিয়ত অনুযায়ী কোরবানির উপযুক্ত কিনা সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

  • বয়স কমপক্ষে দুই বছর হতে হবে
  • গরুর দাঁত দেখে বয়স বোঝার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা
  • নিচের পাটিতে যদি সামনের দিকে দুটি স্থায়ী দাঁত উঠে আসে, তাহলে সাধারণত গরুটিকে কোরবানির উপযুক্ত ধরা হয়
  • শরীরে বড় কোনো ত্রুটি থাকা যাবে না

খেয়াল রাখতে হবে—অতিরিক্ত অসুস্থ বা দুর্বল পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত নয়।

গাভী গর্ভবতী কি না নিশ্চিত হোন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভবতী গাভি কোরবানি দেওয়া ঠিক নয়।

সাধারণত গর্ভবতী গাভির—পেট ফোলা থাকে,ওলান স্ফীত থাকে, সন্দেহ হলে অবশ্যই অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নিতে হবে।

দিনের বেলায় গরু কেনার পরামর্শ

দক্ষ ক্রেতারা বলছেন, দিনের আলো থাকতে গরু কেনাই সবচেয়ে ভালো।

কারণ রাতের বেলায়—গরুর চোখ-মুখ ভালোভাবে দেখা যায় না, শরীরের দাগ বা ক্ষত বোঝা কঠিন হয়,চলাফেরা ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করা যায় না।

zzz

বাহ্যিক চাকচিক্য নয়, গুরুত্ব দিন সুস্থতাকে

কোরবানির গরু কেনা শুধু বড় বা দামি পশু কেনার প্রতিযোগিতা নয়। এটি একটি ইবাদত, যেখানে সুস্থ ও উপযুক্ত পশু নির্বাচনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চকচকে শরীর বা অস্বাভাবিক মোটা গরু দেখে আকৃষ্ট না হয়ে ধৈর্য নিয়ে পশুর আচরণ, শ্বাস-প্রশ্বাস, দাঁত, নাক, পা ও শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা যাচাই করা উচিত।

কারণ একটু সচেতনতাই পারে পরিবারকে ঝুঁকিপূর্ণ মাংস থেকে দূরে রাখতে এবং কোরবানির আনন্দকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক যেসব পানীয়

জীবনযাপন ডেস্ক
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক যেসব পানীয়
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান সময়ে স্তন, কোলন, প্রস্টেট ও ফুসফুসের পাশাপাশি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সচেতনতার অভাবে রোগটি একেবারে শেষ পর্যায়ে (তৃতীয় বা চতুর্থ ধাপে) গিয়ে ধরা পড়ে। তবে চিকিৎসকদের মতে, দৈনন্দিন জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে এই মারণ রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সম্প্রতি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জানিয়েছেন, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নয়, বরং ঘরে তৈরি তিনটি পানীয় দারুণ কার্যকর হতে পারে। চলুন, জেনে নিই ক্যান্সার প্রতিরোধে পানীয়গুলো কি কি ও এর প্রস্তুতপ্রণালি।

মাচা গ্রিন টি : এই চায়ে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, পলিফেনল ও অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সচল রাখে।

বানানোর নিয়ম : প্রথমে এক কাপ ফুটন্ত পানির সঙ্গে ব্রাউন সুগার মিশিয়ে নিন। এবার অন্য একটি কাপে চায়ের গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য গরম পানি মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এরপর সসপ্যানে এই দুটি মিশ্রণ একসাথে মিলিয়ে কম আঁচে নাড়তে থাকুন। সবুজ রঙের ঘন মিশ্রণ তৈরি হলে নামিয়ে নিন (চাইলে এর সঙ্গে দুধও মেশাতে পারেন)।

সবুজ স্মুদি : শাকসবজির ফাইবার, ভিটামিন এ সি ই ও পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম ও আয়রনে ভরপুর এই স্মুদি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বানানোর নিয়ম : পালং শাক ভালো করে গরম পানিতে ধুয়ে নিন। এরপর খোসা ছাড়ানো কলা ও শসা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এবার সব উপকরণের সঙ্গে সামান্য আদা কুচি মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো করে পেস্ট করে নিন। গ্লাসে ঢেলে ওপর থেকে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়া ছড়িয়ে দিলেই তৈরি সবুজ স্মুদি।

হলুদ দুধ : হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ নামক উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এর সঙ্গে গোলমরিচ ও দারচিনি মিশালে এর গুণাগুণ দ্বিগুণ হয়ে যায়। গোলমরিচের ‘পিপারিন’ উপাদানটি হলুদের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।

বানানোর নিয়ম : গরুর দুধ সহ্য না হলে আমন্ড মিল্ক বা ওটসের দুধ ব্যবহার করতে পারেন। দুধের সঙ্গে এক চামচ হলুদ গুঁড়া, গোটা গোলমরিচ ও দারচিনি ফুটিয়ে নিলেই এই স্বাস্থ্যকর পানীয়টি তৈরি হয়ে যায়।

সূত্র : আনন্দবাজার

ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে জরুরি কিছু সতর্কতা

জীবনযাপন ডেস্ক
ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে জরুরি কিছু সতর্কতা

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। নাড়ির টানে ইতিমধ্যেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। তবে তাড়াহুড়ো করে ঘর ছাড়ার আগে ছোটখাটো কিছু ভুল বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। তাই নিশ্চিন্তে ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে বাড়ি যাওয়ার আগে ঘরের কিছু জরুরি কাজ সেরে নেওয়া প্রয়োজন। চলুন, জেনে নিই।

দরজা-জানালা পরীক্ষা করা
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় শুধু সদর দরজায় তালা দেওয়াই যথেষ্ট নয়। ঘরের প্রতিটি জানালা, বারান্দার থাই গ্লাস ও গ্রিল ভালোমতো বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা রি-চেক বা পুনরায় পরীক্ষা করে নিন। এতে আচমকা বৃষ্টির পানি ঘরে ঢোকা বা চুরির আশঙ্কা থাকবে না।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন বন্ধ রাখা
ঘর ছাড়ার আগে অপ্রয়োজনীয় সব লাইট, ফ্যান ও এসি বন্ধ করুন। টেলিভিশন, মাইক্রোওয়েভ ও চার্জারের মতো বৈদ্যুতিক প্লাগগুলো সকেট থেকে খুলে রাখা নিরাপদ। সবচেয়ে জরুরি হলো রান্নাঘরের গ্যাসের চুলা এবং সিলিন্ডারের রেগুলেটর সম্পূর্ণ বন্ধ করা। সামান্য অসাবধানতার কারণে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।

পানির ট্যাপ লক করা
বাসার প্রতিটি পানির ট্যাপ ভালো করে আটকে দিন। সম্ভব হলে পুরো বাসার পানির মেইন লাইনের চাবিটি বন্ধ করে যান। এতে পানি অপচয় হবে না এবং পাইপ ফেটে ঘর প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।

ফ্রিজ পরিষ্কার রাখা
কোরবানির ঈদে ফ্রিজে মাংস রাখার জন্য বাড়তি জায়গার প্রয়োজন হয়। তাই বেশিদিন ফ্রিজে থাকলে নষ্ট হতে পারে এমন খাবার আগেভাগেই সরিয়ে ফেলুন। পচা খাবারের দুর্গন্ধে পুরো ঘর নষ্ট হতে পারে। দীর্ঘদিনের ছুটি হলে ফ্রিজ পরিষ্কার করে বন্ধ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

মূল্যবান জিনিসের নিরাপত্তা
নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার কিংবা দরকারি কাগজপত্র আলমারিতে তালাবদ্ধ রাখুন অথবা নিরাপদ কোনো স্থানে সরিয়ে নিন। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভবনের নিরাপত্তা কর্মী (দারোয়ান) বা কোনো বিশ্বস্ত প্রতিবেশীকে জানিয়ে যান যে আপনি কতদিনের জন্য বাইরে থাকছেন।

সামান্য এই প্রস্তুতিগুলো সম্পন্ন করলে ছুটি কাটিয়ে ফেরার পর আপনার ঘরটি পাবেন একদম পরিপাটি ও নিরাপদ।

বাড়ির কাজে ব্যস্ত পুরুষরা নারীদের পছন্দসই যৌনসঙ্গী নন | কালের কণ্ঠ